Thursday , 19 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ১০ (মকর তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ১০ (মকর তারকামণ্ডল)

আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা ‘মকর’ তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। ‘মকর’ তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Capricorn” নামে পরিচিত।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৫ (সিংহ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৭ (তুলা তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৮ (বৃশ্চিক তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৯ (ধনু তারকামণ্ডল)

ক্যাপ্রিকর্নের জ্যোতিষচিহ্নটি দেখতে সাধারণ ছাগল বা সামুদ্রিক ছাগলের মতো । একটা সামুদ্রিক ছাগলের সামনের অংশ দেখতে ছাগলের মতো, শেষাংশ মাছের মতো। তবে দুটিরই যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা আছে।
.
গল্পের শুরুটা হয় ‘প্রিকাস’ নামে এক সামুদ্রিক ছাগলকে নিয়ে। সে এই প্রজাতির পিতা ছিলো। তার থেকেই প্রজাতির বাকি সবার জন্ম। সামুদ্রিক ছাগলরা বুদ্ধিমত্তার জন্য বিখ্যাত। তারা তীরের কাছাকাছি পানিতে বাস করতো। তারা বুঝতে ও ভাবতে পারতো। দেবতারাও এদেরকে পছন্দ করতো। বলা হয়, ক্রোনাস (সময়ের দেবতা) প্রিকাসকে সৃষ্টি করেছিলো এবং ক্রোনাস ও প্রিকাস, উভয়েরই সময় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ছিলো।
.
মিথের শুরুটা প্রিকাসের ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে। বাচ্চা সামুদ্রিক ঘোড়াদের পানির চেয়ে মাটিতে আগ্রহ বেশি ছিলো। তারা সৈকতে উঠা শিখে যায় ও সেখানে গিয়ে সূর্যস্নান করা শুরু করে! এভাবে কিছুদিন যাবার পর বেশি সময় ধরে মাটিতে থাকার ফলে আস্তে আস্তে তাদের আঁশ খুলে ও পা গজিয়ে যেতে লাগলো। তারা আসল ছাগল হয়ে উঠলো।
.
এটা তাদের বাবা প্রিকাসের জন্য বেশ দুঃখজনক ছিলো। কেননা, সে এমনটা চায়নি। কারণ, এমনটা হলে আর সামুদ্রিক ছাগলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, মাটির ছাগলের মতো হয়ে যাবে সবাই। অবস্থা আস্তে আস্তে খারাপ হতে লাগলো। প্রিকাস তার ক্ষমতা ব্যবহার করে অতীতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো। সে অতীতে গিয়ে বাচ্চা সামুদ্রিক ছাগলগুলোকে তীরে যেতে বাধা দিলো, কিন্তু আখেরে লাভ কিছুই হলো না। তারা আগের মতোই থেকে গেলো।
.
প্রিকাস বুঝলো যে, এভাবে কিছুই হবে না। সে যা-ই করুক, ভাগ্যে এটাই লেখা। সে তা পাল্টাতে পারবে না। তাই সে বাচ্চাদেরকে তাদের ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিলো। আর ক্রোনাসের কাছে নিজের মৃত্যু কামনা করলো। সে এটা মানতেই পারছিলো না যে, সে-ই একমাত্র সামুদ্রিক ঘোড়া হিসেবে বেঁচে থাকবে। বাকি সবাই ডাঙ্গার ঘোড়ায় পরিণত হয়ে যাবে! ক্রোনাস তার কথা মানলো না, বরং তাকে অমর করে দিয়ে তারার মাঝে স্থান দিলো, যাতে সেখানে বসে বসে সে তার বাচ্চাদের কাণ্ডকীর্তি দেখতে পারে!
.
.
সুমেরিয়ানরা একে ‘সুহুর-মাশ-হা’ ডাকতো, যার অর্থ ’Goat-fish’! (বাংলা কী হতে পারে? ‘মৎস্যছাগল’? ‘মাছাগল’!) তারা খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সালে এটাকে আবিষ্কার করে। একে শীতের শুরু বলে বিবেচনা করা হয়।
.
.
আরেক বর্ণনায় বলা হয়, প্যান (এটাও দেখতে ছাগলের মতো, আগের এক পর্বে বলা হয়েছে) নামে এক বনদেবতাকেই জিউস তাকে সাহায্যের কারণে সম্মানস্বরূপ আকাশে অবস্থান দেন। টাইটানদের সাথে দেবতাদের যুদ্ধে, প্যান তার খোলসের মতো চামড়া দেখিয়ে টাইটানদের ভয় দেখায়। গায়ার পাঠানো দৈত্য টাইফনের কথা সে-ই দেবতাদেরকে জানায় । সে যুদ্ধকালীন সময়ে দেবতাদেরকে পশুর রূপে থাকতে উপদেশ দিয়েছিলো। বলা হয়, প্যান টাইফনের হাত থেকে বাঁচতে নাইল নদীতে ঝাঁপ দিলে তার নিম্নাঙ্গ মাছের মতো হয়ে যায়। জিউস বজ্র দিয়ে টাইফনকে হত্যা করে। সে থেকেই প্যানের মাছের মতো লেজ আছে।
.
আরো বলা হয়, ক্রোনাস তার সন্তানদের হত্যার অভিযানে নামলে (যখন সে জানতে পারে, তার নিজের এক সন্তানই তাকে হত্যা করবে) প্যানই জিউসকে বাঁচিয়েছিল।
.
.
মকর তারকামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্যঃ
—————————————-
অবস্থান দক্ষিণ আকাশে। ল্যাটিনে ‘Capricorn’ অর্থ ছাগল। এটি ৪০তম বৃহত্তম তারামণ্ডল। এর উল্লেখযোগ্য তারাগুলো হলোঃ ডেনেব আল্গেডি (ডেল্টা ক্যাপ্রিকরনি), ডাবিহ (বিটা ক্যাপ্রিকরনি), আল্গেইডি (আলফা ক্যাপ্রিকরনি) ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin