Thursday , 19 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

আগের পর্বে আমরা মেষ তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা জানবো বৃষ তারকামণ্ডল সম্পর্কে।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১

বৃষ বা Tauras সম্পর্কে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীটি বাকিদের তুলনায় একটু অন্যরকম। ভালোর স্পর্শে সাক্ষাৎ যমও যে ভালো হয়ে যেতে পারে, এটাই বলা হয়েছে এখানে। গ্রিক পুরাণে টরাসের মিথটা একটা সেরাস নামে খুব শক্তিশালী ও বিশাল ষাঁড়কে নিয়ে। এর অবাধ চলাফেরার কারণে মানুষের অনেক ক্ষতি হতো। গ্রামবাসীরা একে নিয়ে অনেক ভয়ে ভয়ে থাকতো। কারণ, বিনা উস্কানিতেই সে পুরো গ্রামটাকে ধ্বংস করে ফেলার ক্ষমতা রাখে। ষাঁড়টা কোথায় থাকে বা কোথা থেকে এসেছে- কেউ জানতো না। যদিও সে অমর ছিলো না, কিন্তু তার বিশাল দেহ ও শক্তিমত্তা থেকে সবাই ভাবতো যে, সে অমর। তাছাড়া তাকে থামানোর মতো শক্তিও কারো ছিল না। সেরাসের আবেগ তার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতো, তার মধ্যে ভালো-মন্দের বোধ ছিলো না। আর, এ কারণেই তাকে নিয়ন্ত্রণ করা সাধ্যের বাইরে ছিল।

এক বসন্তের সকালে সে একটা সদ্য ফুল ফোটা মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলো। তখন বসন্তের দেবী পার্সেফোনি তাকে দেখতে পায়। যদিও ষাঁড়ের কথা বলার ও কথা শুনে বুঝতে পারার ক্ষমতা নেই, তবুও সেরাস তার কথা বুঝতে পারলো। পার্সেফোনিকে দেখে সেরাসের মন-মেজাজ নেমে এলো। বসন্তদেবী তাকে ভালো আচরণ করতে শিখালো, শিখালো তার শক্তিকে ভালো পথে ব্যবহার করতে ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে।

এরপর হতে প্রতি বসন্তে বসন্তদেবী নেমে এলে সেরাস তাকে পিঠে নিয়ে চরাতো। সেরাসের পিঠে চড়ে পার্সিফোনি মাঠে মাঠে বসন্তের আগমনী ফুল ফোটাতো। পার্সেফোনি মৃত্যুর পর হেইডিসের পাতালপুরীতে চলে গেলে সেরাসকেও আকাশে তুলে দেয়া হয়, যেখানে সে বৃষ তারকামন্ডল হিসেবে এখনও অবস্থান করছে।

****
টরাসের গল্পটা জিউস ও ফিনিশীয় রাজকুমারী ‘ইউরোপা’-কে নিয়েও বর্ণনা করা হয়। এ গল্পটায় দেবরাজ জিউসকে ইউরোপার মন জেতার চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়! ইউরোপা ছিল রাজা ‘অ্যাগেনর’-এর মেয়ে। ইউরোপার আগে থেকেই জিউসের উপরে ক্রাশ ছিল (জিউসের স্বভাব সম্পর্কেও আপনারা অনেকেই জানেন!)। জিউস জানতো, তার আসল পরিচয় রাজকুমারীকে ভয় পাইয়ে দিবে, তাই সে একটা সাদা ষাঁড়ের আকৃতিতে ছদ্মবেশে তাঁর কাছে যায়।

একদিন ইউরোপা ঝর্ণার কাছে এলে একটা ষাঁড় দেখতে পায়। এটা ছিল তার বাবার বাকি সব ষাঁড় থেকে আলাদা, সবচেয়ে সুন্দর। সে অবাক হয়ে ষাঁড়টির দিকে এগুলে ষাঁড়টি তাঁকে কুর্নিশ করে ও নিজের পিঠে রাজকুমারীকে তুলে নেয়। রাজকুমারী পিঠে উঠতেই ষাঁড়টা দৌড়াতে শুরু করে ও তাকে নিয়ে সমুদ্রের কাছে চলে আসে। রাজকুমারী নামার সময়ই পায় না! ষাঁড়রূপী জিউস তাকে নিয়ে সমুদ্র পার হয়ে ক্রিট দ্বীপে চলে যায়। তারপর দেখা দেয় নিজের আসল রূপে।

অতঃপর যা হবার, তাই হলো! জিউস তাকে নিজের পত্নী বানিয়ে নিলো। বললো, যতদূর পর্যন্ত দেখছো, সবটুকু জায়গা তোমার। এ জায়গাটাই ইউরোপ নামে পরিচিত। জিউস আর ইউরোপার তিন ছেলে হয়েছিলো। মিনোস, রাদামান্থিস ও সারপেনডন। মিনোস ক্রিটের বিখ্যাত রাজা ছিলো। সে-ই কনসাসের কাছে ষাঁড়খেলার প্রচলন করে। জিউস এ পুরো ঘটনার স্মৃতি রাখতে ষাঁড়টাকে আকাশে তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এ গল্পটার প্রচলনই তুলনামূলক বেশি।

এ নিয়ে আরেকটি ভিন্ন কাহিনীতে বলা হয় যে, জিউস ও ইউরোপাকে জিউসপত্নী হেরা একসাথে দেখে ফেলতে নিলে জিউস ইউরোপাকে একটা বকনা বাছুরের রূপ দেয়!

***
ব্যবিলনীয় মিথলজিতে একে ‘মুল আপিন’ বা ‘স্বর্গীয় ষাঁড়’ ডাকা হয়। আকাশে বৃষের (Taurus) সবচেয়ে নিকটবর্তী তারকামণ্ডল হলো – কালপুরুষ (Orion)। যার আকার অনেকটা তীর-ধনুক হাতে যোদ্ধার মতো। এইখানকার মিথ অনুযায়ী, গিলগামেশ নামে এক হিরো দেবী ঈশ্তারের এক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে কথা না মানার শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যা করতে দেবী এই ষাঁড়টিকে পাঠান। আর তাদের যুদ্ধরত এই রূপটিই দেখা যায় রাতের আকাশে (তীর-ধনুক হাতে যোদ্ধার পাশে বৃষ)!

বৃষ তারকামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্য

এটা উত্তরাকাশে অবস্থিত। ষাঁড়ের মাথা এটার রাশিচিহ্ন। গ্রিক জ্যোতিষী টলেমী ২য় শতাব্দীতে এটা আবিষ্কার করেন। এ তারকামণ্ডলের তারাগুলো হলো – আলডেবারান, এল নাথ, আল্কিওন, টি টরি, প্লেইডেস। টরাস দুটি মেসিয়ার অবজেক্ট (Messier Object) ধারণ করে- ক্র্যাব নেবুলা ও প্লেইডেস।

আকাশে বৃষ তারকামণ্ডলের অবস্থান
ব্রোঞ্জযুগের প্রথম থেকেই বৃষ তারকামণ্ডল পরিচিত পৃথিবীতে। এটি বসন্তে সূর্যের অবস্থান বোঝাতো। গ্রিক, মিশরীয় ও ব্যবিলনীয় – এ তিন পুরাণেই এর বর্ণনা আছে। টরাস আর প্লেইডেস এর গুহাচিত্র পাওয়া যায় লাস-কক্সে, যা আনুমানিক ১৫০০০ খ্রিষ্টবছর আগে আঁকা!

 

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin