Thursday , 19 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা কর্কট তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

‘কর্কট’ তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে ‘Cancer’ নামে পরিচিত। কর্কট যে মিথের কারণে বেশি পরিচিত, সেটা আসলে খুবই সাধারণ একটা গল্প। কর্কট একটা বিশাল কাঁকড়া যেটা হারকিউলিসের হাইড্রাকে হত্যার ঘটনাটার সাথে যুক্ত। অনেকটা বিনা যুদ্ধেই কর্কট মারা গিয়েছিলো সেদিন। দেবী হেরা হারকিউলিসের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি চাননি হারকিউলিসকে দেয়া ১২টি কাজই সম্পূর্ণ করুক সে। তাই তিনি এই কর্কটকে পাঠালেন হারকিউলিসের কাজে ব্যাঘাত করতে, যাতে হাইড্রার সাথে যুদ্ধের সময় হারকিউলিসের মনোযোগ কর্কটের উপর গেলে হাইড্রা তাকে সহজেই মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু কাজে সে ব্যর্থ হয়। ঘটনা অনুযায়ী, সে হারকিউলিসের পায়ের তালুতে কামড় দেয়, আর সাথে সাথেই হারকিউলিসের করা ফিরতি আঘাতে সে আলুভর্তা হয়ে যায়! অনেকটা শুরু না হতেই শেষ! এটা শুনে হয়তো কেউ বলতে পারেন – আহা, বেচারা! পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! কেউ এটা বলে ফেললে খুব একটা ভুল করে ফেলেননি! তাকে বেচারাই বলতে হবে।
.
ব্যর্থ হলেও হেরা দেবী তার এই চেষ্টার জন্য তাকে আকাশে তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। আকাশে তোলা হলেও যেহেতু সে তাকে দেয়া কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি, তাই তার তারাগুলোকেও অনুজ্জ্বল করে দেয়া হয়। আশেপাশের সকল তারা থেকে তাই কর্কট তারাগুলোর উজ্জ্বলতা অনেক কম। খালি চোখেও খুব পরিষ্কার ও অন্ধকার আকাশ ছাড়া একে দেখা যায় না। যা হোক, এই মিথটি অনেক বোরিং, তবে একে নিয়ে প্রচলিত অন্য মিথগুলোয় কিছুটা হলেও অ্যাডভেঞ্চার আছে ।
.
.
আরেকটি বর্ণনায় ‘ক্রিওস’ নামে এক বিশাল কাকড়ার কথা বলা হয়। সে পোসাইডনের রাজ্যের ‘নিম্ফ (Nymph)’-দের গার্ড ছিলো। ক্রিওস অনেক বড় ও অনেক শক্তিশালী ছিলো, এবং পোসাইডন তাকে অমরত্বের বরও দিয়েছিলো। যখন দানবদের দেবতা টাইফন অলিম্পাসের দেবতাদের অতিষ্ঠ করে তুলছিলো, তখন অন্য দেবতাদের মতো পোসাইডনও আত্মগোপন করেছিলো। সেই সময়টায় ক্রিওস ছিলো পোসাইডনের মেয়েদের রক্ষক। ক্রিওস তার দায়িত্বকে গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছিলো। সে পোসাইডন কন্যাদের তার চোখের আড়াল হতে দিতো না।
.
কিন্তু, আস্তে আস্তে মেয়েরা আরো দস্যি হয়ে উঠলো। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাসাদ থেকে পালিয়ে খোলা সমুদ্রে চলে গেলো টাইফনের ভয় উপেক্ষা করেই। ক্রিওস তাদের ধরতে যেয়েও পারলো না , কেননা তাকে অন্য মেয়েদেরকে পাহারা দিতে হবে। দুইজনের জন্য তো আর দশজনকে বিপদে ফেলা যায় না! তাই সে ‘ভামারি স্কুইড’ নামে এক বিশাল স্কুইডকে বললো তাকে সাহায্য করতে। বিপদের মাথায় এটা তার মাথায়ই আসলো না যে, ‘ভামারি স্কুইড’ নামের অর্থ ‘ভ্যাম্পায়ার স্কুইড’! ভামারি স্কুইডের খারাপ মতলব ছিলো। সে-তো তাদের আনলই না বরং তাদের খেয়ে ফেললো!
.
খেয়ে-দেয়ে ভামারি ক্রিওসের কাছে ফিরে গিয়ে বললো, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাদের খুঁজে পাইনি। ক্রিওস সাথে সাথেই বুঝে গেলো যে, সে মিথ্যা বলছে। সে কিছু না ভেবেই ভামারিকে আক্রমণ করলো। কয়েক ঘন্টা মারামারির পর ক্রিওসই জিতল। কিন্তু, মার খেয়ে সে আধ-মরা হয়ে গেলো, দেহে অনেক ক্ষতও দেখা দিলো। যেহেতু সে অমর, তাকে এ ব্যাথা আজীবনই সয়ে বেড়াতে হতো। পোসাইডন ফিরলে সে সব বুঝল। ক্রিওস যে তার মেয়েদেরকে বাঁচানোর জন্যে বীরত্বের সাথে লড়েছে, তা বুঝলো। তারপর, জিউস তাকে ব্যাথা হতে মুক্তি দিয়ে তার অমরত্ব ধরে রাখতে তাকে আকাশে স্থান দিলো।
.
.
কর্কট তারকামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্যঃ
————————————-
এর অবস্থান উত্তরাকাশে। গ্রিক বিজ্ঞানী টলেমী এটার আবিষ্কারক। কর্কট বেশ কিছু গভীর আকাশের জ্যোতিষ্ক ধারণ করে। এগুলো হলো, বিহাইভ ক্লাস্টার, মেসিয়ার ৪৪, গ্যালাক্সি এনজিসি ২৫৫৩৫ ও এনজিসি ২৫৩৬। এটি আকাশের ৩১ম বৃহত্তম তারামন্ডল। এর প্রধান তারাগুলো হলো, আলফা ক্যানক্রি (একে কাকঁড়ার দাড়ঁ বলা হয়) , বিটা ক্যানক্রি, ডেলটা ক্যানক্রি, গামা ক্যানক্রি, ৫৫ ক্যানক্রি, জেটা ক্যানক্রি, ল্যাম্বডা ক্যানক্রি ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin