Thursday , 19 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

আজকে আমরা ‘কন্যা’ তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। কন্যা তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Virgo” নামে পরিচিত।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৫ (সিংহ তারকামণ্ডল)

কন্যা তারামণ্ডলের মিথটা একটু জটিল। কারণ, এখানে গ্রীক-ব্যবিলনীয়-রোমান মিথলজি একসাথে মিলে আছে। এটার নাম, কাহিনী ইত্যাদি নিয়েও নানা জনের নানা মত আছে। বেশিরভাগ মনে করেন, এটা ‘উর্বরতার দেবী’-র সাথে সম্পর্কিত। কেননা, ‘Virgo’ নামটা ’Virgin’ শব্দটার কাছাকাছি। ’Virgin’ মানে কুমারী। তবে এই নামে মানুষের চেয়ে ফসলের জমির উর্বরতা দিকেই বেশি লক্ষ্য রাখা হয়েছিলো।

অনেকে ‘Virgo’ নামটাকে ’Virgin’ শব্দটার সাথে সম্পর্কিত ভাবলেও, Virgo’ শব্দটার ল্যাটিন অর্থ ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, যারা কন্যার জাতক-জাতিকা, তারা অহংকারী, আত্মনির্ভরশীল হয়। তারা সব নিজেরাই করতে চায়, অন্যদের সাহায্য নেয়াটা পছন্দ করে না। তবে তারা অন্যদেরকে সাহায্য করতে পছন্দ করে, অনেক কেয়ারিং হয়।

নানা মিথলজিতে এই ‘উর্বরতার দেবী’-কে নানা ভাবে দেখানো হয়েছে। বেশিরভাগেই তাকে চাষবাসের দেবী হিসেবে দেখানো হয়। এটা মানবজাতির প্রতি একটা উপহারের মতো ছিলো। কন্যা তারকামণ্ডলকে দেখতেও শস্য হাতে একটা মেয়ের মতো দেখায় আকাশে। আর এজন্যই জমির উর্বরতার দেবী হিসেবে কন্যার গ্রহণযোগ্যতা বেশি।

গ্রিক মিথলজির বর্ণনা অনুযায়ী, একদা বসন্তের দেবী পার্সিফোনিকে হেডিস (পাতালের দেবতা) অপহরণ করে। তার মা, চাষাবাদের দেবী তাকে খুঁজে না পেয়ে রাগে পুরো পৃথিবীর সব শস্য ধ্বংস করে দেয়। অনেক ঝামেলা–টানাটানির পর, পার্সিফোনিকে বছরে ৬ মাস পৃথিবীতে আসার অনুমতি দেয়া হয়। এই সময়ে সে তার মায়ের সাথে থেকে ফসলের দেখাশোনা করে। তাই কন্যা তারকামণ্ডলও বছরের শুধু মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেখা যায়।

কন্যা তারকামণ্ডলের সাথে সম্পর্কিত অন্য নারীরা হলো গ্রিক মিথলজির ‘এসট্রা’ ও ‘ডাইক’, রোমান মিথলজির ‘ইরিগোন’ (ইকারিয়াসের মেয়ে; বাবার মৃত্যুর পর আত্মহত্যা করে), ব্যবিলনীয় মিথলজির ইশতার, সিরিয়ান মিথলজির ‘ডিমিটার’ (শস্যদেবী) ও ‘আতারগাটিস’ (উর্বরতার দেবী)। সবাই-ই তাদের প্রিয়জনদের জন্য লড়ে, আর সবাই-ই চাষবাসের মৌসুম সম্পর্কিত ছিল।

আরেকটি বর্ণনায়, গ্রিক ন্যায়ের দেবী ডাইক-কে কন্যা তারামণ্ডলের সাথে সম্পর্কিত মানা হয় । ডাইক ছিলো জিউস ও থেমিসের মেয়ে। কন্যাকে সাধারণত পরীর মতো পাখা, বাম হাতে গমের ছড়ি দিয়ে আঁকা হয়। গমের ছড়িটা স্পাইকা নামে একটা তারা নির্দেশ করে। কন্যা তারামণ্ডলের অবস্থান তুলা তারামণ্ডলের পাশে, যেটা একটা ন্যায়ের পাল্লা নির্দেশ করে।

গ্রিক মিথলজি অনুসারে, ডাইক মানবজাতির সোনালি সময়ে এখানে ছিল। সে ছিল মরণশীল। তাকে মানবজাতির শাসনকর্তারূপে পাঠানো হয়। তার শাসনকাল উন্নতি, শান্তিতে ভরপুর ছিলো। কিন্ত যখন জিউস তার বাবাকে মেরে নিজে অলিম্পাস দখল করে নেয়, তখন থেকেই মানবজাতির অবনতির শুরু। জিউস চার ঋতুর প্রচলন করলো। মানুষ তখন আস্তে আস্তে দেবতাদেরকে ভুলে যেতে শুরু করলো, তাদের পূজা করা কমিয়ে দিল। ডাইক সমগ্র মানবাজাতিকে এর পরিণাম সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করলো। কিন্তু, মানুষ তো মানুষই। তারা আরো অবাধ্য হতে লাগলো। লৌহযুগে মানুষ নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করা শুরু করলে ডাইক পৃথিবী ত্যাগ করে স্বর্গে চলে গেলো।

ব্যবিলনীয় মিথলজিতে, কন্যাকে ইশতারের সাথে তুলনা করা হয়। এখানে পার্থক্য হলো, ইশতারের স্বামী তাম্মুজ চাষাবাদের দেবতা ছিল। তাম্মুজকে পাতালে অপহরণ করা হয়। তখন ইশতারও তার পিছু পিছু যায় স্বামীর পাশে থাকতে।

তবে কন্যার প্রথম আগমন ব্যবিলনীয় মিথলজিতেই। এ নিয়ে আরেকটি গল্প প্রচলিত আছে। এটা শস্যদেবী ‘নাইডোবা’-কে নিয়ে। এখানে কন্যা ছিল কেয়ারটেকিং ও আত্ম-নির্ভরশীল ধরণের। ব্যবিলনীয়রা প্রথমে তারই পূজা করতো বেশি, কিন্তু পরে তারা আস্তে আস্তে ন্যায় ও জ্ঞানের দেবতা ‘নাবু’-র দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। পরে এই দু’জনকেই কন্যা তারামণ্ডলের সাথে যুক্ত করা হয়।

ইতিহাসবিদ ইরাসতোস্থেনিস ও হাইজেনিয়াস কন্যা তারামণ্ডলকে ভাগ্যদেবী টাইকের সাথেও সম্পর্কিত করেন। যদিও টাইকের শস্য ফলানোর ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যাথা ছিলো না!

কন্যা তারামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্য
————————————–
অবস্থান দক্ষিণ আকাশে। এটাও টলেমির আবিষ্কার। এটি আকাশের ২য় বৃহত্তম (সর্ববৃহৎ তারামণ্ডল হলো – হাইড্রা) তারামণ্ডল। এর উল্লেখযোগ্য তারাগুলো হলো – স্পাইকা (আলফা ভারজিনিস), জাবিজাভা (বিটা ভারজিনিস), পরিমা (গামা ভারজিনিস), আওভা (ডেল্টা ভারজিনিস) ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin