Wednesday , 18 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৭ (তুলা তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৭ (তুলা তারকামণ্ডল)

আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা “তুলা” তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। ‘তুলা’ তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Libra” নামে পরিচিত।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৫ (সিংহ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

আগের পর্বের আলোচনায় কন্যা তারামণ্ডলের সাথে তুলা তারামণ্ডলের মধ্যে এক ধরণের সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিলো। এখানেও তাই দেখা যাবে। কন্যার সাথে তুলার বেশ ভালো সম্পর্ক আছে। অনেক তর্ক-বিতর্ক থাকলেও তুলা তারামণ্ডলের মিথ বুঝতে হলে প্রথমেই মেনে নিতে হবে যে, অ্যাস্ট্রিয়ার (তারার দেবী) আকৃতিই কন্যা তারামণ্ডলে দেখা যায়। অনেকটা গণিতের উপপাদ্য প্রমাণের আগে স্বীকার্যের মতো। লিবরা তারামণ্ডলের আকৃতি একটা দাড়িপাল্লার মতো, যেটার মালিক অ্যাস্ট্রিয়া বলে ধরা হয়।
.
আর এ জিনিসটাই অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যদি লিব্রাকে দিয়ে কন্যার দাড়িপাল্লা বোঝানো হয়, তাহলে কন্যাকেও ন্যায়ের বা সততার সাথে জড়িত হতে হবে। কিন্তু, কন্যা তো ফসল উৎপাদনের সাথে যুক্ত! এটা নিয়ে তাই অনেক মতভেদ দেখা যায়।
.
তবে এটা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এটার আকৃতি দাড়িপাল্লার মতো । দাড়িপাল্লা ন্যায়ের প্রতীক। (আদালতের সামনেও দাড়িপাল্লা দেখা যায়) তবে অনেকের মতে, এটা ভালো-মন্দের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকে নির্দেশ করে। লিবরার জন্ম-ই হয়েছে ভালো-মন্দের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে, যাতে কোনো নৈরাজ্যের সৃষ্টি না হয়।
.
অ্যাস্ট্রিয়া ন্যায়ের দেবী এবং মানবজাতির রক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলো। কন্যা তারামণ্ডলের ব্যাপারেও একই কথা শোনা যায়। কন্যা তারামণ্ডলের আকৃতিই অ্যাস্ট্রিয়ার আকৃতি নির্দেশ করে। আর তার পাশের দাড়িপাল্লা তার ন্যায়পরায়ণতার কথা নির্দেশ করে। গ্রিক মিথলজিতে অ্যাস্ট্রিয়ার অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সে-ই ছিলো সর্বশেষ মরণশীল মানুষ, যাকে অমরত্ব দেয়া হয়। তাও সে কিন্তু মানুষের সীমাহীন নিষ্ঠুরতা, কলহ-প্রিয়তার কারণেই পৃথিবী ত্যাগ করে।
.
অ্যাস্ট্রিয়ার বাবা-মা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তার বাবা-মা হয় ‘ইওস’ ও ‘অ্যাস্টেয়াস’, না হয় ‘জিউস’ ও ‘থেমিস’। তাকে পাখাসহ, হাতে টর্চ (কন্যা তারামন্ডলে এটাকেই খাদ্যশস্য বলা হয়েছিল!) ও দাড়িপাল্লাসহ আঁকা হয়। কিছু প্রাচীন চিত্রে তাকে জিউসের পাশে বজ্র হাতেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
.
যেহেতু মানবজাতির অধঃপতনের পর সে রাগে পৃথিবী ত্যাগ করে, পরে মানুষ ভুল বুঝলে তার আগমনের জন্য অনেক পূজা-অর্চনা করে। তবে সে আর আসেনি।
.
অ্যাস্ট্রিয়া, এথেনা-অ্যারিস-অ্যাপোলোদের মতো এতো বিখ্যাত বা পরিচিত না হলেও, অনেক গল্পেই তার সরব উপস্থিতি আছে। ইংরেজি সাহিত্যেও তাঁর প্রবেশ আছে। র‍্যালফ ওয়ালডোর লেখা কবিতায় তার নাম এসেছে।
.
.
প্রাচীন গ্রিক মিথে অবশ্য ভিন্ন কথা বলা হয়। একে বৃশ্চিক তারামণ্ডলের সাথে মিলিয়ে তুলাকে বৃশ্চিকের দাঁড় হিসেবে দেখানো হয়।
.
খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীতে রোমানরা একে সর্বপ্রথম দাঁড়িপাল্লার সাথে তুলনা করে। বলা হয়, চাঁদের অবস্থান তুলা তারামণ্ডলের মধ্যে ছিলো, যখন রোম শহর প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই রোমানদের কাছে এর গুরুত্ব ছিল অনেক; তারা ঋতুসাম্য, দিন-রাত্রি সমান করার পেছনেও এর হাত আছে বলে ভাবতো। খ্রিস্টপূর্ব ৭২৯ সাল পর্যন্ত লিবরাই ঋতু নির্দেশ করতো, কিন্তু এর পর এটা কন্যার হাতে চলে যায়। এও বলা হয় যে, ২৪৩৯ খ্রিস্টাব্দে এটা লিওর (সিংহ তারামণ্ডল) কাছে চলে যাবে।
.
ব্যবিলনীয়রা একে ‘ZIB.BA.AN.NA’ ডাকতো, যার অর্থ ‘স্বর্গের ভারসাম্য’। লিবরাকে প্রথমে স্করপিওর দাঁড় হিসেবে বর্ণনা করা হলেও পরে কন্যার সাথে এটি সম্পর্কযুক্ত হলে, দাঁড়ের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।
.
.
তুলা তারামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্যঃ
———————————–
অবস্থান দক্ষিণাকাশে। ২য় শতাব্দীতে টলেমী এটি আবিষ্কার করেন। ল্যাটিনে এর অর্থ ‘ওজন মাপার যন্ত্র’। উল্লেখযোগ্য তারাগুলো হলো, জুবেনেসচামালি (বিটা লিবরাই), জুবেনেলগেনুবি (আলফা লিবরাই), ব্রাকিয়াম (সিগমা লিবরাই), মেথুসেলাহ ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin