Thursday , 19 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৯ (ধনু তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৯ (ধনু তারকামণ্ডল)

আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা ‘ধনু’ তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। ‘ধনু’ তারকামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Sagittarius” (স্যাজিটেরিয়াস) নামে পরিচিত।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৫ (সিংহ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৭ (তুলা তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৮ (বৃশ্চিক তারকামণ্ডল)

ধনুকেও অনেক সময় কন্যার মতো ভুল ব্যাখ্যা করা হয়। এর অনেক গল্পই ‘কায়রন’ নামের সেন্টোর (অর্ধেক ঘোড়া, অর্ধেক মানুষ)-কে নিয়ে। সেন্টোররা অর্ধেক মানুষ হলেও নিম্নাঙ্গ ঘোড়ার মতো হওয়ায় তাদের পশু বলেই বিবেচনা করা হয়। আদি গ্রিকরা ঘোড়াকে অনেক সম্মান-শ্রদ্ধা করতো। তাই, তাদেরকে তারা পুরোপুরি পশুর কাতারেও ফেলতে পারেনি। সেন্টোর কায়রন তার ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। সে ভালো তীরন্দাজ, ডাক্তার, গায়ক ছিল। সে জ্যাসন, অ্যাকিলিস ও হারকিউলিসের শিক্ষক ছিলো।
.
বলা হয়, একদিন ভুলবশত হারকিউলিস কায়রনকে তীর মেরে বসে। তীরটা বিষমাখা ছিল। কায়রন অনেক ভালো ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও এর চিকিৎসা পেলো না। যেহেতু সে অমর ছিলো, তাই তার এই দুঃসহ ব্যথা সহ্য করে বেঁচে থাকা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিলো না। তাই সে প্রমিথিউসের শাস্তিটা নিজে নিতে চাইল। মানুষকে আগুন এনে দেয়ার অপরাধে প্রমিথিউসকে শাস্তি দেয়া হয়েছিলো যে, তাকে একটা পাথরে বেঁধে রাখা হবে। একটা ঈগল এসে প্রতিদিন তাকে ঠোকরাবে। তবে রাতেই তার ক্ষতস্থান সেরে যাবে, আর পরদিন সকাল হতে আবার সাজা শুরু হবে। হারকিউলিস গিয়ে দেবতাদের কাছে কায়রনের ইচ্ছাটার কথা জানালে তারা এতে সম্মতি দিলো। এভাবে সে প্রমিথিউসের সাজা ভোগ করলো। তার এই মানসিকতার জন্য জুপিটার তাকে আকাশে স্থান দিলো।
.
.
এ নিয়ে আরেকটি গল্প প্রচলিত আছে। এটাকে অনেকে সেন্টোরাসের মিথ বলে মানে, আবার অনেকে স্যাজিটেরিয়াস-এর মিথ বলেও মানে। অনেকের মতে, স্যাজিটেরিয়াস আসলে ক্রোটাসকে (বনদেবতা, মাউন্ট হেলিকনে বাস করতো) নির্দেশ করে। তার ছাগলের মতো কান, খুরসহ পা ও মানুষের মতো মাথা ছিলো। কায়রনের মতোই ক্রোটাস ছিলো ভালো শিকারি ও চিকিৎসক। গ্রিক মিথলজিতে তাকেই তীর-ধনুক উদ্ভাবনের কৃতিত্ব দেয়া হয়।
.
ক্রোটাস ছিল ইউফেম ও প্যানের ছেলে। তার মা ছিল মুজদের (গ্রিক মিথলজিতে সাহিত্য-বিজ্ঞান-শিল্পকলার দেবী, জিউসের মেয়ে, মোট ৯ জন) সেবাকারী। ক্রোটাস ছিল মুজদের পূজারি। সে-ই প্রথম কোনো ভালো কিছুর প্রশংসার জন্য হাততালি দেয়ার প্রচলন করে। মুজরা নাচলে সে তালি দিয়ে প্রশংসা জানাতো। মুজরা খুশি হয়ে জিউসের কাছে স্যাজিটেরিয়াসকে তারার মাঝে স্থান দিতে অনুরোধ করলে জিউস তা মেনে নেয়।
.
অনেকেই স্যাজিটেরিয়াস ও সেন্টোরাসকে একত্রে গুলিয়ে ফেলেন, কারণ তাদের গঠন বা বৈশিষ্ট্য ছিলো একই। সেন্টোর আর বনদেবতাদের মধ্যে মিল ছিলো অনেক। তারা ছিলো শক্তিশালী, বন্য ও অভদ্র ধরণের। তা সত্ত্বেও, নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে তাদের মধ্য থেকেই স্যাজিটেরিয়াস ও সেন্টোরাস অনেক উঁচু আসন পেয়েছে। তবে বলার মতো একটা পার্থক্য অবশ্য তাদের মধ্যে ছিলো! সেন্টোর-রা ছিলো চারপেয়ে, যেখানে বনদেবতাদের পা ছিলো দু’টি!
.
অনেকে এটাও ভাবেন যে, হয়তো সে স্করপিও-অরিয়নের মারামারির সাথেও জড়িত! কারণ, স্যাজিটেরিয়াসের তীরটি স্করপিওর দিকে তাক করা!
.
.
সুমেরিয়ান মিথলজিতেও এর বর্ণনা আছে। ইতিহাসবিদ ইরাটোস্থেনিস একে বনদেবতার সাথে মিলিয়েছিলেন, যেটা আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি। তবে রোমান লেখক হাইজিনাসের মত ছিলো ভিন্ন। তিনি স্যাজিটেরিয়াসের পক্ষেই ছিলেন। তবে ইরাটোস্থেনিস যুক্তি দেন যে, যেহেতু বনদেবতারা জিউসের মেয়েদের সাথে যুক্ত ছিলো, তাই তার পক্ষে তাদের খুশি করে আকাশে স্থান আদায় করা সহজ হবে!
.
.
ব্যবিলনীয় মিথলজিতে স্যাজিটেরিয়াসকে নেরগাল নামের এক দেবতার সাথে যুক্ত করা হয়, যে দেখতে ক্রোটাসের মতোই ছিলো। তবে, নেরগালের দুই মাথা ছিলো – একটা মানুষের, একটা নেকড়ের! তার পাখাও ছিলো, আবার বিচ্ছুর মতো লেজে একটা দাঁড়ও ছিলো!
.
.
ধনু তারকামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্য
————————————
অবস্থান দক্ষিণাকাশে। এটা দক্ষিণাকাশের অন্যতম বড় তারামণ্ডল। এটি সবমিলিয়ে ১৫তম বৃহত্তম তারামণ্ডল। এর উল্লেখযোগ্য তারাগুলো হলো – কাউস (ইপ্সাইলন স্যাজিটারি), নুনকি (সিগমা স্যাজিটারি), কাউস মিডিয়া (ডেলটা স্যাজিটারি), কাউস বোরেলিস (ল্যাম্বডা স্যাজিটারি) ও রুকবাত (আলফা স্যাজিটারি) ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin