Thursday , 19 July 2018
Breaking News
Home » বাংলা নাটক রিভিউ » বাংলা টেলিফিল্ম রিভিউঃ বুকের বাঁ পাশে

বাংলা টেলিফিল্ম রিভিউঃ বুকের বাঁ পাশে

এক মহান বান্ধবী কালকে সাজেস্ট করেছিল নাটকটা দেখার জন্য।
তার ভাষায়,
“উফ! নাটকটা এত্ত জোশ, এত্ত জোশ বলার মতো না! আমি জানি,
এটা দেখে তুই তোর চোখের পানি আটকাইতে পারবি না।
তার রিভিউ শুনে পাগলের মতো হম্বিতম্বি করে ডাউনলোড করলাম এই শতাব্দীর সেরা নাটক ‘বুকের বাঁ পাশে’।

aa

কাঁদার প্রস্তুতি নিয়ে নাটক দেখতে বসছিলাম!ইন ফ্যাক্ট আমি তো ভাবছিলাম এক প্যাকেট টিস্যু কিনে তারপর নাটকটা দেখবো।কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় টিস্যু না কিনেই দেখতে বসতে হয়েছিল! 🙁
এই নাটকটার প্লট আর স্টোরিটা এত জোস হয়েছে যে এই নাটকের স্টোরিটা যে কোনো মাস্টারপিসকেই হার মানাবে।

স্পয়লার এলার্ট:
মেহজাবীন আপু এবং নিশো ভাইয়ার প্রথম দেখা বাসে,দুজনের পাশাপাশি সিট পড়ে।আমাদের নিশো ভাইয়া বাসের দুর্দান্ত স্পীডের কারণে আমাদের মেহজাবীন আপুর সাথে বারবার লাগাতার ধাক্কা খেতে থাকেন। আমাদের আপু প্রচন্ড বিরক্ত হন এটার কারণে।আমার নিশো ভাইয়ার জন্য খারাপ লাগছিল!বাসে এত এত মানুষ ছিল অথচ বাসের দুর্দান্ত স্পীডের ফলেও
কেউ সিট থেকে গড়িয়ে পড়েন নি।অথচ আমাদের নিশো ভাই রীতিমতো সিট থেকে গড়িয়ে মেহজাবীন আপুর সাথে ধাক্কা খাচ্ছিলেন! 🙁

এরপর দেখা যায়,নিশো ভাইয়ের মোবাইলে একটা ভিডিও অন হয়।ভিডিওতে এক পিচ্চি কি জানি একটা ছড়া বলে।
ঐ ছড়া শুনে মেহজাবীন আপু এতটাই মুগ্ধ হন যে নিশো ভাইয়ের কাছ থেকে তার মোবাইল চেয়ে নিয়ে ঐ পিচ্চিটার ছবি দেখতে থাকেন!পরে জানা যায় পিচ্চির নাম আয়রা।
আমাদের মেহজাবীন আপু এত সুইট যে একটা অচেনা ছেলের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে ছবি দেখতে শুরু করেন কোনো জড়তা ছাড়াই!

এরমধ্যে আপু বাস থেকে নামেন মুখ ধুইতে।আর নিশো ভাই যেহেতু একটু এক্সট্রা কেয়ারিং (হেটার্সরা বলবে লুচু) ছিলেন তাই তিনি ও সদ্য পরিচিত মেহজাবীন আপুর পিছু পিছু নেমে যান (!)।
আমাদের আপু যখন মুখ ধুইতেছিলেন,তখন নিশো ভাইয়ের সামনে মেহজাবীন আপুর বোরকার আড়ালে থাকা ফেস সামনে আসে।
উনি প্রথম দেখায় রীতিমতো ক্রাশিত।মেহজাবীন আপুর মুখ নিশো ভাইয়াকে দেখানোর জন্য কত কান্ডই না করলেন পরিচালক।

যাই হোক,বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকানোর সময় আমাদের আহ্লাদী মেহজাবীন আপুর কতগুলা সুন্দর থোকা থোকা ফুল চোখে পড়ে!
and she was saying like “উলে বাবালে, কত চুন্দল পুল!”
কিন্তু তিনি জানতেন না যে আমাদের নিশো ভাইয়া মাত্রাতিরিক্ত কিউট,প্রাকৃতিক কাজের ইঙ্গিত দিয়ে বাস থামিয়ে উনার জন্য ফুলই নিয়ে আসলেন!

এদিকে মেহজাবীন আপুর বাস থেকে নেমে যাওয়ার সময় হয়। নিশো ভাইয়া অতি আবেগ এবং ভালোবাসাকে নিয়ে বলেন, আয়রাকে দেখার জন্য হলেও তাদের বাসায় যেতে!
আর আপু তো হেভি লেভেলের দয়ালু, তিনি ভাইয়াকে প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি অবশ্যই যাবেন।
(!)
বলাবাহুল্য উনাদের মধ্যে মোবাইল নাম্বার ও আদান প্রদান হয়।
তারপর আর কি!!
তাদের মধ্যে কথা হয়!কত রকমের যে কথা,কষ্টের কথা,সুখের কথা।
মেহজাবিন আপু কি কিউট দেখেন তো!আয়রাকে দেখতে নিশো ভাইয়ের বাসায় ও চলে যান।
নিশো ভাইয়া ততক্ষণে আপুর উপর পুরাই ফিদা ( হেটার্সরা বলবে লুচুগিরি করছিল)
যাই হোক,এর মধ্যেই কাহিনীতে দূর্যোগ নেমে আসে।আপুর বাসায় গিয়ে ভাইয়া জানতে পারে তার গায়ে হলুদ।গায়ে হলুদ আয়োজন করার দায়িত্ব পড়ে দায়িত্বশীল ও সুইট নিশো ভাইয়ার কাঁধে যিনি আবার সদ্য ছ্যাকা খেয়েছেন! ব্যাকগ্রাউন্ড এ ভেসে আসে মাহতিম সাকিবের হৃদয়বিদারক গানের গলা।

নিশো ভাইকে কাঁদিয়ে বিয়ে হয়ে যায় মেহজাবীন আপুর!
বাই দা ওয়ে, আমাদের নিশো ভাইয়া কিন্তু মেহজাবীন আপুকে তার হৃদয়ের সম্পূর্ণ অংশ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন!তা না হলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মেহজাবীন আপুর প্রেমে পড়লেন আবার আপুকে না পাওয়ার শোকে এভাবে পাগল ও হয়ে গেলেন!

এই মাস্টারপিসকে নিয়ে কিছু লিখার মতো যোগ্যতা আমার নাই।তবুও নাটক দেখে নিজেকে রিভিউ লিখা থেকে বিরত রাখতে পারলাম না।

এই নাটক দেখে যেকোনো মানুষ কাঁদতে বাধ্য!এই নাটক দেখিয়ে দর্শকদের কাঁদানোর জন্য যতরকম চেষ্টা করা সম্ভব,সব চেষ্টাই করে গেছেন।
সো, কাঁদতে আপনাকে হবেই! 🙂

লিখেছেন – Tanjina Faria‎

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin