Tuesday , 17 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » বিভিন্ন পুরাণের প্রেম কাহিনীগুলোঃ দুষ্মন্ত এবং শকুন্তলা (হিন্দু পুরাণ)

বিভিন্ন পুরাণের প্রেম কাহিনীগুলোঃ দুষ্মন্ত এবং শকুন্তলা (হিন্দু পুরাণ)

শকুন্তলা এবং দুষ্মন্তের প্রেম উপাখ্যান বর্ণিত আছে হিন্দু পুরাণ ‘মহাভারত’-এ। আমাদের আজকের কাহিনী শুরু করবো আমরা শকুন্তলার জন্ম উপাখ্যান দিয়ে।

আ

দুষ্মন্ত এবং শকুন্তলা (হিন্দু পুরাণ)

ঋষি বিশ্বামিত্র এবং ঋষি বশিষ্ঠের সম্পর্ক ছিলো সাপে-নেউলে। বিশ্বামিত্রের সাথে বশিষ্ঠের এই ঝগড়া কীভাবে লাগলো, সেটা আরেক বিশাল কাহিনী। শুধু এটুকু বলি – বিশ্বামিত্র পূর্বে ছিলো রাজা। কিন্তু বশিষ্ঠের হাতে রাজ্য, বিশাল বাহিনী, এমনকি নিজের পুত্রদের প্রায় সবাইকে হারিয়ে বিশ্বামিত্র ঋষির জীবন ধারণ করে। বশিষ্ঠর উপরে প্রতিশোধ নিতে সে কঠোর তপস্যা শুরু করে। বশিষ্ঠকে পরাজিত করতে তার চাই ব্রহ্মাস্ত্র। সেটা পাবার জন্যে সে মরিয়া হয়ে শুরু করে এই ধ্যান।

বিশ্বামিত্র যখন কঠোর সাধনায় ব্রহ্মাস্ত্র লাভ করে করে অবস্থা, তখন তার ধ্যান ভাঙ্গাতে দেবরাজ ইন্দ্র অপ্সরা মেনকাকে পাঠায় তার নিকট। মেনকা তার সৌন্দর্যের ফাঁদে ফেলে প্রলুব্ধ করে বিশ্বামিত্রকে। বহু বছরের সাধনা ভেঙ্গে বিশ্বামিত্র মিলিত হয় মেনকার সাথে। এই মিলনের ফলেই মেনকার গর্ভে জন্মায় এক কন্যা সন্তান। কিন্তু তীরে এসে এভাবে তরী ডুবিয়ে তপস্যার ফলে প্রাপ্ত সমস্ত পুণ্য হারানোর ফলে ক্রুদ্ধ হয়ে মেনকা এবং কন্যাসন্তানটিকে ত্যাগ করে বিশ্বামিত্র। অপ্সরা মেনকাও একপর্যায়ে পরিত্যাগ করে কন্যাসন্তানটিকে। তাকে এক বনের মাঝে ফেলে ফিরে যায় স্বর্গে। সেই সন্তানটিকে বনের মাঝে পক্ষীকুল দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় খুঁজে পায় আরেক ঋষি ‘কণ্ব’। সে তাকে কুড়িয়ে নিয়ে যায় নিজের আশ্রমে। সেখানে তাকে লালনপালন করতে থাকে। তার নাম দেয়া হয় ‘শকুন্তলা’। শকুন্তলার ‘শকুন্ত’ শব্দের অর্থ “পক্ষী”। শকুন্তলার মানে হচ্ছে “পক্ষীর দ্বারা সুরক্ষিত”।

বহু বছর পরের ঘটনা। শকুন্তলা তখন পা দিয়েছে যৌবনের ঘরে। রূপে-সৌন্দর্যে ভরপুর হয়ে উঠেছে সে। একদিন ‘দুষ্মন্ত’ নামক এক রাজা মৃগয়ায় এলো সেই অঞ্চলে। তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে সারাদিন বনে-বাদাড়ে শিকার করে কাটায়। এভাবেই একদিন এক হরিণের পিছনে ধাওয়া করতে শুরু করলো দুষ্মন্ত। ঋষি কণ্বের জঙ্গলে শিকার নিষিদ্ধ। সেখানে বাঘে-হরিণেও এক ঘাটে জল খেতে বাধ্য ছিলো। তাই হরিণটা প্রাণ রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে ঋষি কণ্বের আশ্রম এলাকার ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলো। সফলও হলো তাতে। দুষ্মন্ত হরিণটাকে শিকার করতে মরিয়া হয়ে ছুটছিলো। ছুটতে ছুটতে দলের বাকি সবার থেকে আলাদা হয়ে পড়েছিলো সে। কিন্তু যখনই দেখলো হরিণটা কণ্বের আশ্রম এলাকায় ঢুকে পড়েছে, অস্ত্র সংবরণ করলো সে। সেই সাথে কণ্বের আশ্রমের ভেতরটা একটু ঘুরে যাবার মনস্থিরও করলো।

শিকারের পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত দুষ্মন্ত আশ্রমের ভেতরে গিয়ে জল চাইলো তেষ্টা নিবারণের জন্যে। ঋষি কণ্ব তাকে সমাদরে বসালো। তারপর অতিথির যথাসাধ্য আপ্যায়নের হুকুম দিলো। কিছু সময় বাদে আশ্রমের নারীরা উপস্থিত হলো অতিথির সামনে জলখাবারের বিশাল আয়োজন নিয়ে। কিন্তু সেই নারীদের মাঝে একজনকে দেখে বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো রাজা দুষ্মন্তের, একসাথে একশো ঢেঁঢরা পেটানো শুরু হলো তার ভেতরে। ভীষণ মায়াবী চেহারার অধিকারী সেই মানুষটি আর কেউ নয়, আমাদের শকুন্তলা। শকুন্তলারও চোখে পড়েছিলো রাজা দুষ্মন্তকে। এই সুদর্শন রাজাটি এক দেখাতেই নজর কেড়েছিলো তার। দু’জনের চোখাচোখিতে কতটা সময় পার হয়ে গেলো, তার কোনো হদিস নেই। চমক ভাঙ্গতেই শকুন্তলা তড়িঘড়ি করে ভেতরে চলে গেলো। রাজাও নিজেকে সামলে নিয়ে ঋষি কণ্বের সাথে খোশগল্পে মেতে উঠলো।

এরপর থেকেই দুষ্মন্তের নতুন শিকারের এলাকা হয়ে গেলো ঋষি কণ্বের আশ্রমের আশপাশ, যদিও সেই এলাকায় শিকার নিষিদ্ধ! কিন্তু তাতে কী? দুষ্মন্ত তো আর শিকার করছে না। দলের সবাইকে অন্যদিকে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে শিকারের নামে আশ্রমের আশেপাশে শুধু ঘুরে বেড়ায়। লুকিয়ে লুকিয়ে লক্ষ্য করে শকুন্তলা আর তার সখীদের জল তুলতে আসা, ঘাটে বসে তাদের গল্প-হাস্যরস করা, আশ্রমের জন্যে বনের ফল কুড়ানো ইত্যাদি। শকুন্তলাও খেয়াল করে রাজাকে। দু’জন দু’জনকে কিছুই বলে না, কিন্তু দূর থেকে চোখে চোখে কথা হয় তাদের। সেই ভাষাতেই হাজারও কথা বলা সারা হয়ে যায় দু’জনের। একপর্যায়ে শুরু হয় গোপনে পত্র চালাচালি। শকুন্তলার সখীরা পত্র নিয়ে দেয় দুষ্মন্তের দূতের হাতে। দূত মারফত পত্র পেয়ে দুষ্মন্ত তার প্রত্যুত্তর লিখে আবার পাঠায় শকুন্তলার সখীদের কাছে। সেই সখীরা পত্র নিয়ে আসে শকুন্তলার নিকটে।

এভাবে বেশ কিছুকাল চলার পরে দুষ্মন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। শকুন্তলাকে সে বিয়ে করবে। তাই সে হাজির হয় ঋষি কণ্বের সম্মুখে। প্রকাশ করে দু’জনের ভালোবাসার কথা। হাতজোড় করে শকুন্তলাকে চায় সে। ঋষি কণ্ব রাজি হয়ে তাদের বিবাহের আয়োজন করে। গান্ধর্ব মতে মালাবদল করে বিয়ে হয় দুষ্মন্ত-শকুন্তলার। বিয়ের পরে বেশ কিছুকাল দুষ্মন্ত শকুন্তলার সাথে ঐ আশ্রমেই কাটায়।

এদিকে মৃগয়ায় যাবার নাম করে যে সময়টুকু রাজ্যের বাইরে থাকার কথা ছিলো, তার চেয়েও অনেক বেশি সময় কাটানো হয়ে গেছে রাজ্যের বাইরে। রাজা না থাকায় রাজ্যে প্রায় অচলাবস্থা। মন্ত্রীরা হিমশিম খাচ্ছে রাজ্য চালাতে। ক্ষণে ক্ষণে তাই দূত পাঠিয়ে রাজাকে রাজ্যে ফিরে যাবার তাগাদা দিতে থাকে তারা। দুষ্মন্তের তেমন কোনো তাড়া নেই রাজ্যে ফিরে যাবার। কণ্বের আশ্রমে স্ত্রী শকুন্তলাকে নিয়ে বেশ সুখেই আছে সে। কিন্তু বারে বারে রাজধানী হতে আসা সংবাদে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন সে তার বাহিনীকে বলে প্রস্তুত হতে। আগামীকাল রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা করবে তারা। ফিরে যাবার আগে শকুন্তলাকে কথা দিয়ে যায়, খুব শীঘ্রই আবার ফিরে আসবে সে। ফিরে এসে শকুন্তলাকে সাথে করে নিয়ে যাবে রাজধানীতে। তাকে বরণের জন্যে যা প্রস্তুতি, সব সম্পন্ন করেই ছুটে আসবে সে শকুন্তলাকে নিতে। যাবার আগে সে শকুন্তলাকে নিজের রাজকীয় আংটি উপহার হিসেবে পরিয়ে দিয়ে যায়।

দুষ্মন্তের প্রস্থানের দিন হতে অহর্নিশি তার কথা ভেবে চলে শকুন্তলা। পুনরায় তাকে দেখার জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠে। কোনো কাজেকর্মে মন নেই তার। সারাদিন উদাস হয়ে থাকে। এরই মাঝে একদিন আশ্রমে বেড়াতে এলো ‘দুর্বাসা’ মুনি। তার আতিথেয়তায় ব্যস্ত হয়ে উঠলো সবাই। কিন্তু স্বামীচিন্তায় মগ্ন শকুন্তলার অতিথি সেবায় ত্রুটি দেখা দিলো। তাতে ক্ষেপে উঠলো দুর্বাসা মুনি। শাপ দিয়ে বললো, যে স্বামীর চিন্তায় সে একজন ঋষির সেবায় অবহেলা করেছে, সেই স্বামী তাকে ভুলে যাবে।

“হায় হায়!” করে কেঁদে উঠলো শকুন্তলা, সাথে তার সখীরাও। পরে সখীদের বহু অনুরোধে আর ক্ষমা প্রার্থনায় মন গললো ঋষি দুর্বাসার। কিন্তু শাপ তো আর ফেরানোর উপায় নেই! তাই নরম হয়ে সে শাপ কাটানোর একটা পন্থা বাতলে দিলো। যদি স্বামীর দেয়া কোনো উপহার দেখানো যায়, তবে তার আবার পুরাতন সব স্মৃতি মনে পড়বে। সে চিনতে পারবে তার স্ত্রীকে।

কিছুকাল পরে গর্ভের ভেতরে শকুন্তলা টের পায় নতুন প্রাণের উপস্থিতি। এদিকে বেশ অনেকদিন পার হবার পরেও দুষ্মন্তের ফিরে আসার কোনো হদিস নেই। তাই গর্ভবতী শকুন্তলা নিজেই চললো রাজধানী অভিমুখে। সঙ্গে করে তার পালক পিতা ঋষি কণ্ব। নৌকায় করে পার হতে হলো তাদের একটা নদী। সেই নদীর জলে ভীষণ মুগ্ধ হলো প্রকৃতির মাঝে বেড়ে উঠা শকুন্তলা। হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে খেলতে লাগলো সেই জল নিয়ে। মনে তার আনন্দ। বহুকাল পরে স্বামীর সাথে দেখা হতে যাচ্ছে তার! এই খেলার মাঝেই কোন ফাঁকে যে আঙ্গুল গলে আংটিটা পড়ে হারিয়ে গিয়েছিলো নদীর জলে, তা খেয়ালই করলো না সে। পরে যখন খেয়াল হলো, তখন আর কিছুই করার নেই।

যাই হোক, রাজধানীতে এসে হাজির হলো শকুন্তলা। গিয়ে দাঁড়ালো রাজদরবারে, রাজা দুষ্মন্তের সম্মুখে। কিন্তু দুষ্মন্ত তাকে চিনতেই পারলো না। শকুন্তলা কেঁদে কেঁদে একের পর এক বলে যায় বনের ভেতরে আশ্রমে তাদের মধুর সব স্মৃতির কথা, কিন্তু দুষ্মন্ত সরাসরি সব অস্বীকার করে। হাতের আংটিও হারিয়ে ফেলেছে শকুন্তলা। দুষ্মন্তের স্মৃতি ফেরানোর আর কোনো রাস্তাই বাকি রইলো না। ভীষণ অপমানিত হয়ে রাজধানী থেকে ফিরে আসে সে বনের আশ্রমে। ভগ্নহৃদয়ে শুরু করে আবার আশ্রম কন্যার জীবন।

কিছুকাল পরে শকুন্তলার গর্ভে জন্ম হয় এক পুত্রসন্তানের। তার নাম দেয়া হয় ‘ভরত’। সন্তানকে নিয়ে আশ্রম ছেড়ে শকুন্তলা চলে যায় বনের দূর এক প্রান্তে। সেখানে আলাদা বসবাস শুরু করে। মায়ের আঁচলে বড় হতে থাকে ভরত। দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে উঠতে শুরু করে সে। শৈশবে ভরতের প্রিয় খেলাগুলোর একটা ছিলো বনের সিংহের মুখ হাঁ করিয়ে তার দাঁতগুলো গোনা!

এদিকে বছর কয়েক বাদে এক জেলে নদীতে মাছ ধরার পরে বাড়িতে এনে একটা মাছের মুখে খুঁজে পায় ভীষণ সুন্দর এক আংটি। তাতে রাজকীয় চিহ্ন খোদাই করা। সেই আংটি নিয়ে সে হাজির হয় রাজদরবারে। উপস্থিত হয় রাজার সামনে। তার হাতে সেই আংটিটা দেখে দুষ্মন্তের মনে পড়ে যায় শকুন্তলার কথা। তাদের প্রেম এবং বিয়ের সমস্ত ঘটনা। সিংহাসন ছেড়ে তৎক্ষণাৎ সে বেরিয়ে পড়ে স্ত্রী-সন্তানের সন্ধানে। প্রথমে সেই আশ্রমে গিয়ে খুঁজে। কিন্তু শকুন্তলা তো সেখানে নেই। ফলে বিশাল বনাঞ্চলের এমাথা-ওমাথা ঘুরে বেড়াতে শুরু করে সে উদভ্রান্তের মতো।

এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন দুষ্মন্ত দেখে, একটা ছোট্ট ছেলে ভয়ংকর এক সিংহের মুখ হাঁ করে তার দাঁতগুলো গুনছে। ঘটনাটায় ভীষণ কৌতূহলী হয় সে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে শিশুটার পরিচয়। শিশুটা জবাব দেয়, “তার নাম ভরত। সে দুষ্মন্ত এবং শকুন্তলার সন্তান।” দুষ্মন্ত আর কথা খুঁজে পায় না। বহুক্ষণ পরে শুধু মুখ ফুটে শুধায়, “আমাকে তোমার মায়ের কাছে নিয়ে যেতে পারবে?”
ভরত অচেনা আগন্তুককে নিয়ে যায় তার মায়ের কাছে। ছেলের চেঁচামেচিতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে শকুন্তলা। বেরিয়ে এসেই চোখাচোখি হয় দুষ্মন্তের সাথে। কেউ কিছু বলে না। চোখে চোখে কথা হয় তাদের, বহুকাল আগে যেমন হয়েছিলো। কিন্তু এখন সেই চোখ জুড়ে ভালোবাসার বদলে রাজ্যের অভিমান আর অনুশোচনার আদানপ্রদান।

বহুকাল পরে দুষ্মন্ত আর শকুন্তলার আবার মিলন ঘটলো। সে ফিরিয়ে নিলো স্ত্রী এবং পুত্রকে। পরবর্তীতে তাদের সংসারে আরো তিনটে সন্তানের জন্ম হয়েছিলো। কিন্তু তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান ভরতের ভবিষ্যৎ বংশধররাই হলো পাণ্ডব ভাইয়েরা।

[এই কাহিনীটার কয়েকটা ভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যায়। যেমন- একটায় বলা হয়, শকুন্তলা-দুষ্মন্তের এই বিচ্ছেদ দেবতাদের পূর্ব পরিকল্পিত ছিলো। শকুন্তলার পিতা বিশ্বামিত্র কারো সামনে মাথা নত করতো না। তার মাথা নোয়ানোর মাধ্যমে দর্পচূর্ণ করতেই দেবতারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিলো। কন্যা শকুন্তলার সাথে বহু বছর বাদে পরিচয়ের পরে বিশ্বামিত্র দুষ্মন্তের নিকট ছুটে গিয়েছিলো। তার সামনে মাথা নুইয়ে নিজের কন্যাকে স্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে নিতে আর্জি জানিয়েছিলো। তখন দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে দুষ্মন্তের স্মৃতি ফিরিয়ে দেয়।

আরেক সংস্করণে বলা হয়, দুষ্মন্তের নিকট প্রত্যাখ্যাত হলে শকুন্তলাকে তার মাতা মেনকা স্বর্গে নিয়ে যায়। সেখানেই বড় হতে থাকে ভরত। একবার স্বর্গের দেবতাদের মাঝে যুদ্ধের সময় দুষ্মন্তের প্রয়োজন পড়লে তাকে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। স্বর্গে গিয়ে দুষ্মন্ত দেখতে পায় ভরতকে। সিংহের মুখ মেলে ধরে দাঁত গোনায় ব্যস্ত সে। এইসময় তার হাতের কবচ খুলে যায়। দুষ্মন্ত সেটা তাকে আবার পরিয়ে দেয়। এতে ভরত বেশ অবাক হয়। কারণ তার পিতা বা মাতা ছাড়া আর কারো এই কবচ তার হাতে পরিয়ে দেবার ক্ষমতা নেই। পরে ভরতের মারফতেই দুষ্মন্ত খুঁজে পায় স্ত্রী শকুন্তলাকে।]

তথ্যসূত্র:
১। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত গল্প ‘শকুন্তলা’
২। https://en.wikipedia.org/wiki/Shakuntala
৩। https://en.wikipedia.org/wiki/Dushyanta

লিখেছেন – রিজওয়ানুর রহমান প্রিন্স

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin