Tuesday , 17 July 2018
Breaking News
Home » মতামত » খালিদ হাসান মিলু: স্টাইলিশ শিল্পীর গল্প

খালিদ হাসান মিলু: স্টাইলিশ শিল্পীর গল্প

মৃত্যুবার্ষিকীর শ্রদ্ধাণ্জলি – ২৯ মার্চ – খালিদ হাসান মিলু

Kai Po Che

মিলু
কণ্ঠ যার মধুভরা..

অামরা বাংলাদেশী শিল্পীর মধ্যে যাদের গান শুনে বরাবরই মুগ্ধ হয়ে এসেছি শৈশব থেকে তাদের একজন খালিদ হাসান মিলু। মিলুর গান শুনলে মনে হয় মধুর কোনো সুর কানে বাজছে নির্ণিমেষ।

মিলুর জন্ম ১৯৬০ সালে। পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হবার সাধনা করেছেন সারাজীবন। অ্যালবাম ও সিনেমার গান মিলিয়ে গান প্রায় ৫০০০। অ্যালবাম ছিল ১২ টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘শেষ খেয়া, নীলা, প্রতিশোধ নিও, শেষ ভালোবাসা, অায়না, মানুষ। ‘শেষ খেয়া’ অ্যালবামটি যে পরিমাণ হাইপ তুলেছিল সমসাময়িক অনেক অ্যালবামই তা পারেনি। দালানকোঠা থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত মানুষের কাছে এ অ্যালবামের গানগুলো পৌঁছে গিয়েছিল। ফোক গান ছিল সব যেগুলো অাগে গাওয়া হয়েছিল এরপর মিলুর দরদী কণ্ঠে অাবারও জনপ্রিয়তা পায়। গানগুলো ছিল – কতদিন দেহি না মায়ের মুখ, নিশীথে যাইও ফুলবনে, অামায় এত রাতে ক্যানে ডাক দিলি, ভুবন মাঝি অামায় তুমি ইত্যাদি। অ্যালবামের গানের মধ্যে ‘নীলা, তুমি ফিরে এসো’ জনপ্রিয়। ‘সজনী, অামি তো তোমায় ভুলিনি’ এ গানটা তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ছিল এবং অাজও জনপ্রিয়। লাইনগুলো ছিল –

‘সজনী আমি তো তোমায় ভুলিনি
এ বুকে তুমি আছো
আগেরই মতোই আছো
তুমি ছাড়া এ জীবন আজও ভাবিনি।’

প্রত্যেক পেশাদার শিল্পীরই ছবির গানের প্রতি অালাদা টান থাকে। ছবির গানের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং গান দর্শক পছন্দ করলে সেগুলো অমর হয়ে যায়। মিলুরও ছবির গানই তাঁকে অমর করে রাখবে। অসংখ্য জনপ্রিয় ক্লাসিক গান অাছে। ছবির গানের সংখ্যা ২৫০টি। ১৯৯৪ সালে ‘হৃদয় থেকে হৃদয়’ ছবির গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর অনেক গানের মধ্যে কিছু গানের কথা বলছি –

* সেই মেয়েটি – মৌসুমী (লিপ – নাদিম হায়দার)
* চারিদিকে শুধু তুমি – মৌসুমী (নাদিম হায়দার)
* আমার মতো এত সুখী – বাবা কেন চাকর
* রুবি – হিংসা (লিপ – জসিম)
* রুবি ও অামার জান – শাসন (লিপ – অমিত হাসান)
* শুধু একবার বলো ভালোবাসি – দেন মোহর (লিপ – সালমান শাহ)
* চিঠি লিখলাম – স্নেহ (লিপ- সালমান শাহ)
* তুমি যেখানেই থাকো – স্নেহ (লিপ – সালমান শাহ)
* সাথী তুমি অামার জীবনে – চাওয়া থেকে পাওয়া (লিপ – সালমান শাহ)
* বন্ধু তুমি অামার – বিক্ষোভ (লিপ – সালমান শাহ)
* অন্তরে অন্তরে পিরিতি বাসা বান্ধেরে – অন্তরে অন্তরে
* প্রেম কখনো মধুর – মহৎ (লিপ – ওমর সানী)
* শোনো শোনো ও প্রিয়া প্রিয়া গো – রাক্ষস (লিপ – আলমগীর)
* তুমি যদি ডাকো অামায় – প্রেমপ্রীতি (লিপ – তপু রায়হান)
* যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে – প্রাণের চেয়ে প্রিয় ( লিপ – রিয়াজ)
* যত ভুলে যেতে চাই – হৃদয় থেকে হৃদয় (লিপ – অামিন খান)
* ওগো মা তুমি শুধু মা – দিল (লিপ – নাঈম)
* তোমায় অাপন করে রাখব বলে – দিল (লিপ – নাঈম)
* যারে আমি দেখিলাম এইবার চিনিলাম – দিল (লিপ – নাঈম)
* অামি পাগল প্রেমে পাগল – দিল (লিপ – নাঈম)
* পাগল এ মন মানে না যে অার মানা – অনুতপ্ত (লিপ – নাঈম)
* পৃথিবীকে ভালোবেসে সুরে সুরে – হৃদয় অামার (লিপ – অামিন খান)
* তুমি অামার হৃদয়ে যদি থাকো – হৃদয় অামার (লিপ – অামিন খান)
* স্বর্ণালী সঙ্গিনী গো – হিংসার অাগুন (লিপ – সোহেল চৌধুরী)
* এসো এসো কাছে এসো – লজ্জা ( লিপ – ওমর সানী)
* কতদিন দেহি না মায়ের মুখ – প্রেমের কসম
* অনেক সাধনার পরে অামি – ভালোবাসি তোমাকে (লিপ – রিয়াজ)
* যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে – প্রাণের চেয়ে প্রিয় (লিপ – রিয়াজ)
* কত ভালোবাসি কী যে ভালোবাসি – কে অপরাধী (লিপ – ওমর সানী)
* যেও না যেও না সাথী – লাট সাহেবের মেয়ে (লিপ – ওমর সানী)
* প্রেমেরও গীত হয়ে এলো রে – তুমি সুন্দর (লিপ – ওমর সানী)
* জীবনে বসন্ত এসেছে – নারীর মন (লিপ- রিয়াজ, শাকিল খান)
* লিখিনি প্রেমেরই চিঠি দেইনি গোলাপ – শিল্পী ( লিপ – অালমগীর)
* সুন্দর মেয়ে কাছে এলে – সোনিয়া (লিপ – নাঈম)
* ও সাথী অামার তুমি কেন চলে যাও – অামার অন্তরে তুমি (লিপ- বাপ্পারাজ)
* অপরূপা রূপ তোমার – অবুঝ মনের ভালোবাসা (লিপ – শাকিল খান)
* অামি অাপনার অাব্দুল্লাহ – অাব্দুল্লাহ (লিপ – দিলদার)
* এই রাত যেন ভোর না হয় – বিরাজ বৌ (লিপ – ফারুক)
* চাঁদনী রাতে বাঁশি শুনে – চাঁদনী রাতে (লিপ- সাব্বির)
* শোনরে সুমন শোন – মহাগুরু
* এক দুই তিন চার – ঘাত প্রতিঘাত
* কেঁদো না ব্যথা পেলে কেঁদো না – ঘৃণা
* ভালোবাসার দারুণ ফাগুন – অাজকের ফয়সালা
* অপরূপা রূপ তোমার ভ্রমর কালো চোখ – অবুঝ মনের ভালোবাসা (লিপ – শাকিল খান)

সবগুলো গান কালজয়ী। মিলুর ভয়েস সালমান শাহ, ওমর সানী, নাঈম, অামিন খান তাদের সাথে খাপ খেত সবচেয়ে বেশি।

মিলু ভীষণ স্টাইলিশ ছিলেন। তাঁর কস্টিউম সিলেকশন একটা নায়কোচিত ইমেজ তুলে ধরত। সবসময় ফিটফাট দেখা যেত। চশমা, স্যুট-টাই পরে পারফেক্ট জেন্টেলম্যান হতেন। স্বল্পভাষী ছিলেন। মিলুকে হানিফ সংকেত-এর জনপ্রিয় ‘ইত্যাদি’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা যেত। বেশকিছু গানও করেছেন। লিভার সিরোসিসে অাক্রান্ত হবার পর যখন কেউ খোঁজ নেয়নি হানিফ সংকেতই ‘ইত্যাদি-র মাধ্যমে দেশবাসীকে জানান তাঁর অবস্থা। ঐ পর্ব-তে মিলুকে দেখে চেনাই যায়নি। চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্যও করেছিলেন হানিফ সংকেত। পরে তো মিলু চলেই গেলেন ২৯ মার্চ ২০০৫ সালে।

মিলুর দুই ছেলে প্রতীক হাসান ও প্রীতম হাসান। দুজনই গানের সাথে অাছে। প্রতীক ইতোমধ্যে তার ইমেজ গড়ে তুলেছে। নিয়মিত সিনেমার গান, অ্যালবামের গান ও মিউজিক ভিডিও করে যাচ্ছে। প্রতীক প্রথমদিকে ‘ইত্যাদি’-র ব্যানারেই অ্যালবাম অানে। বাবার জনপ্রিয় গানগুলো গেয়েছিল নতুন করে। তার কণ্ঠে বাবার সুরের প্রভাব অনেক। তবে নিজস্বতাও অাছে।

একজন খালিদ হাসান মিলু তাঁর সমকালীন অনেক কিংবদন্তি শিল্পীর ভেতর থেকে নিজের প্রতিভায় কিংবদন্তি হয়েছেন। অাজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। প্রিয় শিল্পীকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

ফিচারটি লিখেছেনঃ ‎রহমান মতি

মৃত্যুবার্ষিকীর শ্রদ্ধাণ্জলি - ২৯ মার্চ - খালিদ হাসান মিলু মিলু কণ্ঠ যার মধুভরা.. অামরা বাংলাদেশী শিল্পীর মধ্যে যাদের গান শুনে বরাবরই মুগ্ধ হয়ে এসেছি শৈশব থেকে তাদের একজন খালিদ হাসান মিলু। মিলুর গান শুনলে মনে হয় মধুর কোনো সুর কানে বাজছে নির্ণিমেষ। মিলুর জন্ম ১৯৬০ সালে। পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হবার সাধনা করেছেন সারাজীবন। অ্যালবাম ও সিনেমার গান মিলিয়ে গান প্রায় ৫০০০। অ্যালবাম ছিল ১২ টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'শেষ খেয়া, নীলা, প্রতিশোধ নিও, শেষ ভালোবাসা, অায়না, মানুষ। 'শেষ খেয়া' অ্যালবামটি যে পরিমাণ হাইপ তুলেছিল সমসাময়িক অনেক অ্যালবামই তা পারেনি। দালানকোঠা থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত মানুষের কাছে এ অ্যালবামের গানগুলো পৌঁছে গিয়েছিল। ফোক…

Review Overview

User Rating: Be the first one !
0
Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin