Sunday , 22 April 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » দ্যা লিজেন্ড অব মাওয়িঃ পলিনেশীয় পুরাণের হিরো (পর্ব ১)

দ্যা লিজেন্ড অব মাওয়িঃ পলিনেশীয় পুরাণের হিরো (পর্ব ১)

ডিজনির ‘মোয়ানা (Moana)’ মুভির সেই হিরোটার কথা মনে আছে? ঐ যে ‘মাওয়ি’ নামের ঝাঁকড়া চুল এবং ব্যায়াম করা পেটা শরীর বিশিষ্ট নায়কটা? এই মাওয়িকে আসলে ডিজনি কোম্পানি তৈরি করেছিলো পলিনেশীয় অঞ্চলের মিথলজির এক বিখ্যাত চরিত্রের অনুকরণে। পলিনেশীয় অঞ্চলটা অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। এই অঞ্চলে ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে যেসব রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – নিউজিল্যান্ড, হাওয়াই, টোঙ্গা, তাহিতি, সামোয়া ইত্যাদি। এই অঞ্চলের পুরাণে আছে মাওয়ি নামের এক দেবতার বর্ণনা, তার বিভিন্ন কিংবদন্তীর বর্ণনা। এই অঞ্চলের সৃষ্টি হতে শুরু করে এখানকার ইতিহাস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনেক কিছুতেই এই দেবতা মাওয়ির প্রভাব রয়েছে। আমাদের আগামী কয়েকটা পর্বে আমরা পলিনেশীয় অঞ্চলের দেবতা মাওয়ির জন্ম হতে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন দুরন্ত অভিযানের গল্প ভাগাভাগি করার চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে। তো শুরু করা যাক…!

a

মাওয়ির জন্মঃ

‘তু’-এর সন্তানেরা পৃথিবীতে ক্রমাগত বংশবৃদ্ধি করে চলছিলো; কিন্তু তখনো তারা মৃত্যু কী, সেই ব্যাপারে জানতো না (‘তুমাতাউয়েঙ্গা’ বা সংক্ষেপে ‘তু’ ছিলো যুদ্ধ, শিকার এবং চাষাবাদের দেবতা। পলিনেশীয়, বিশেষত নিউজিল্যান্ডের মাওরি পুরাণ অনুযায়ী মানুষের আদিপিতা সে-ই)। এই সময়ে মাকেয়াতুতারা এবং তারাঙ্গা-এর ঘরে জন্ম নিলো এক পুত্রসন্তান। তাদের এর আগেও আরো চারটে সন্তান ছিলো। কিন্তু এই সর্বকনিষ্ঠ সন্তান স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়নি। অসম্পূর্ণ শরীর নিয়ে জন্ম নেয়ায় শিশুর মা তারাঙ্গা শিশুটাকে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছিলো। সমুদ্রের পানিতে ডুবে এর গহীনে মাটিতে গিয়ে ঠেকেছিলো শিশুটা। তখন সমুদ্রের এক দেবসত্তা শিশুটিকে খুঁজে পায় এবং সমুদ্রের তলদেশের লতাগুল্ম দিয়ে ঢেকে দেয় তাকে। সেখানে কিছুকাল সমুদ্রের ঐ দেবসত্তার পরিচর্যায় জীবন কাটে শিশুটার। এরপরে একদিন সে চোখে পড়ে যায় দেবতা ‘রাঙ্গি’-র। রাঙ্গির সন্তানই ছিলো যুদ্ধ ও চাষাবাদের দেবতা তুমাতাউয়েঙ্গা, যার বংশধরদের মানুষ হিসেবে ধরা হয়। রাঙ্গি তখন তার কাছে নিয়ে আদরে-যত্নে পালতে থাকে শিশুটাকে। সে শিশুটার নাম দেয় ‘মাওয়ি’।

মাওয়ির তার পরিবারের সাথে পুনর্মিলনঃ

মাওয়ি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। কিশোর বয়সেই তার শরীরে প্রকাশ পেতে থাকে দেবসুলভ শক্তিমত্তা। এরই মাঝে সে জানতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে তার পরিবার সম্পর্কে। তার জন্ম সম্পর্কে। তখন একদিন মাওয়ির পূর্বসূরী রাঙ্গি তাকে খুলে বলে তার জন্মকালের ইতিহাস। তাকে সমুদ্রে খুঁজে পাওয়ার কথা। এসব শুনে মাওয়ি সিদ্ধান্ত নেয়, সে তার পরিবারকে খুঁজে বের করবে। তাই সে বেরিয়ে পড়ে ঘর থেকে।

সে সফলও হয় তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার অভিযানে। একস্থানে এসে দেখে চারটে ছেলে সমুদ্রপাড়ে খেলছে। দূর থেকে দেখেই সে চিনতে পারে তাদের। এরা হচ্ছে মাওয়ির চার ভাই। সে তাদের কাছাকাছি গিয়ে পরিচিত হতে চায় তাদের সাথে। ঐ চারটে ছেলেও দেখে নতুন একটা মুখ এসে দাঁড়িয়েছে তাদের মাঝে। আগ্রহ নিয়ে দেখছে তাদের। নতুন ছেলেটার অবশ্য কিছুক্ষণের মাঝেই সবার সাথে ভীষণ সখ্যতা হয়ে যায়। সে ওই চারজনকে কিছু ম্যাজিক ট্রিক দেখায়। এক রূপ থেকে আরেক রূপে পরিবর্তনের খেলা দেখায়। বিভিন্ন প্রকারের পাখির রূপ ধারণ করে মাওয়ি। এসব দেখেই ভীষণ পছন্দ করে ফেলে তাকে সবাই।

সন্ধ্যাবেলায় তাদের মা তাদের খুঁজতে আসে। এসে দেখে অজানা-অচেনা এক ছেলে এসে জুটেছে তার চার ছেলের সাথে। নতুন ছেলেটা এবারে পরিচয় দেয় তাদের পরিবারের ছোট সন্তান বলে। পিলে চমকে যায় সবার। প্রথমে কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। কিন্তু মাওয়ি একে একে বলে চলে তার জন্মকালের সমস্ত কাহিনী। সমুদ্রে ফেলে দেয়ার পরে সে কীভাবে বেঁচে গিয়েছিলো, সেই কাহিনীও শোনায় তাদের সে। মাওয়ির মা মাওয়িকে টেনে নেয় বুকে। ভাইদের মধ্যে কেউ কেউ একটু হিংসে করছিলো অবশ্য মাওয়িকে। কিন্তু তাদের সবার বড় ভাইয়ের উদ্দীপক কথাবার্তায় পরে হিংসা ভুলে গিয়ে ছোটভাই হিসেবে বরণ করে নিতে বাধ্য হয় তারা।

মাওয়ি কিছুকাল ঐ পরিবারে থাকার পরে খেয়াল করে প্রতিদিন ভোরের প্রথম আলোয় তাদের মা বাড়ি থেকে বের হয়ে কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। তার ভাইদের কিছু জিজ্ঞেস করলে তারাও কোনো সদুত্তর দিতে পারে না এই ব্যাপারে। পরে মাওয়ি সিদ্ধান্ত নেয়, সে নিজেই এই রহস্যের সমাধান করবে। একদিন সে মায়ের ঘরের চারপাশ পুরো কালো কাপড়ে ঢেকে দেয়। ফলে ভোরের প্রথম আলোয় ঘুম ভাঙ্গে না মায়ের। যখন ঘুম ভাঙ্গে, তখন দেখে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই জলদি জলদি সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। এদিকে কবুতর সেজে মায়ের অনুসরণ করে মাওয়ি। অনুসরণ করে দেখতে পায় তার মা পাতালপুরীতে গিয়ে এক পুরুষের সাথে দেখা করছে। তার মা যখন পুরুষটার সাথে কথা বলছিলো তখন পাখি থেকে মানুষরূপে সেখানে আবির্ভূত হয় মাওয়ি। তার মা-কে জিজ্ঞেস করে পুরুষটা কে। তখন তার মা মাওয়িকে পরিচয় করিয়ে দেয় মাকেয়াতুতারা-র সাথে। পাতালপুরীর দেবতা এই মাকেয়াতুতারাই হলো মাওয়ির পিতা। বহুকাল পরে মিলন ঘটে পিতা-পুত্রের।

প্রথম সাক্ষাৎ হিসেবে পিতা তার সন্তান মাওয়ির উদ্দেশ্যে একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে চায়। মাওয়ি রাজি হয়। তবে সেই অনুষ্ঠানে একটু বিঘ্ন ঘটে। মন্ত্র পড়ার কালে এক জায়গায় ভুল মন্ত্র উচ্চারিত হলে দেবতা মাওয়ি অমর দেবতা থেকে মরণশীল মানুষে রূপান্তরিত হয়। দেবতাদের সমস্ত ক্ষমতা তার ঠিকই থাকে, কিন্তু অমরত্বের ক্ষমতা লোপ পায়। আর এভাবেই সূত্রপাত ঘটে মরণশীল মানুষের। তু-এর বংশধরেরা পরিচিত হয় মৃত্যুর সাথে।

দ্যা লিজেন্ড অব মাওয়িঃ পলিনেশীয় পুরাণের হিরো (পর্ব ২)

মিথলজি লিখেছেনঃ রিজওয়ানুর রহমান প্রিন্স

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin