Tuesday , 17 July 2018
Breaking News
Home » বাংলাদেশী মুভি রিভিউ » Nisshashe Tumi Bisshashe Tumi (2000) ভালোবাসা ও ত্যাগ পাশাপাশি – মুভি রিভিউ

Nisshashe Tumi Bisshashe Tumi (2000) ভালোবাসা ও ত্যাগ পাশাপাশি – মুভি রিভিউ

নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি : ভালোবাসা ও ত্যাগ পাশাপাশি – মুভি রিভিউ

Kai Po Che

Nisshashe Tumi Bisshashe Tumi মুভি ইনফোঃ
পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি – নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি
পরিচালক – জাকির হোসেন রাজু
শ্রেষ্ঠাংশে – শাবনূর, রিয়াজ, পূর্ণিমা, বুলবুল আহমেদ, শর্মিলী আহমেদ, নাদের চৌধুরী, মিশা সওদাগর প্রমুখ।
উল্লেখযোগ্য গান – জীবনে মরণে তুমি আমারই, তুমি আমার বুকেরই ভিতর, ছাড়ব না তোমাকে আমি।
মুক্তি – ৯ জুন ২০০০

Nisshashe Tumi Bisshashe Tumi রিভিউঃ

লাইনগুলো এমন ছিল কানে ভাসে আজও-‘হা ভাই, আসিতেছে আপনার আমার সবার প্রিয় বুকে কাঁপন ধরানো নায়িকা শাবনূর, এক নম্বর নায়ক রিয়াজ আর নতুন নাইকা পূর্ণিমার বই ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি।’
আহারে প্রচারণা! পোস্টারিং, মাইকিং-এ জমজমাট ছিল। আজকে সে স্মৃতি মনে হলে চোখ ছলছল করে।

ত্রিভুজ প্রেমের ছবি সব ইন্ডাস্ট্রিতেই হয়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও হয়েছে। আমাদের ছবির মধ্যে রোমান্টিক ছবির জোয়ার সবসময়ই ছিল। যে রোমান্টিক ঘরানা রাজ্জাক আমলে দেখেছে দর্শক তার সাথে সালমান শাহ-র মিল নেই। সালমান আমল শেষ হলে রিয়াজ-ফেরদৌস-শাকিল এ তিনজন নায়কের সময় যে রোমান্টিক ছবিগুলো নির্মিত হয়েছে দর্শক আলাদাভাবে সেসব ছবিও লুফে নিয়েছে। তখন শাবনূরকেন্দ্রিক একটা আবহ ছিল এ তিনজন নায়কের উত্থানপর্বে। তারই একটি উপভোগ্য রোমান্টিক ড্রামা ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি।’

ছবির নামটা খুব আকর্ষণীয় ও রোমান্টিক। প্রেমময় একটা আবেশ আছে। শাবনূর-রিয়াজ-পূর্ণিমা ত্রিভুজ প্রেমের ক্যানভাসে দর্শকের কাছে উপভোগ্য ইমেজ গড়তে একজন জাকির হোসেন রাজু ঠিক ঐ জায়গাটিতে সতর্ক থাকতেন যেখানে ভারসাম্য রাখা যায় কোথায় কতটুকু রসদ যোগালো দর্শকের মন পাওয়া যাবে। শাবনূর-রিয়াজকে যেমন লাইমলাইটে রাখেন ছবিটিতে তেমনি পূর্ণিমাও দর্শকের আগ্রহ থেকে বাদ যায় না। সেগুলো কথা বলতে বলতে টের পাওয়া যাবে কী বলতে চাচ্ছি।

স্টোরি টেলিং এ পূর্ণিমা রিয়াজকে বন্ধু বলেই ভাবে কিন্তু পূর্ণিমা ভাবে প্রেমিক। শাবনূরের পরিবার রক্ষণশীল প্রেমের ব্যাপারে। শাবনূরের ভাই মিশা সওদাগর পূর্ণিমাকে বিরক্ত করে প্রায়ই। কলেজ ক্যাম্পাসে মিশার সাথে এজন্য ফাইট হয় রিয়াজের। ঘটনাক্রমে শাবনূর রিয়াজের প্রেমে পড়লে একদিন ঝড়ের রাতে রিয়াজ নিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত শাবনূর ভিজতে থাকে। রিয়াজ আসতে বাধ্য হয়। ভালোবাসা হয়ে গেলে ওদিকে পূর্ণিমা কষ্ট পায় কারণ সে রিয়াজকে ভালোবাসত। রিয়াজ তা জানত না।পূর্ণিমা নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে বিদেশ চলে যায়।

সিনেমাহলে এ ছবি দর্শক উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল পরিচালক জাকির হোসেন রাজু-র নির্মাণের গুণে । ডিরেক্টরস ইমোশন বলে ছবিতে যে বিষয়টি থাকে এ ছবির পরতে পরতে তা ছিল। শাবনূর-রিয়াজ প্রেমের বিপরীতে পূর্ণিমাকে দাঁড় করিয়ে একটা রোমান্টিক ছবির মধ্যে ড্রামার আবির্ভাব ঘটান। ড্রামার প্রধান উপাদান ছিল পূর্ণিমা। কিছু পয়েন্টে ড্রামার ব্যাখ্যাটা দেয়া যায়-
* পূর্ণিমা রিয়াজের প্রকৃত প্রেম জানার পর খুব কষ্ট পায়। রিয়াজ তাকে কোনো একদিন বলেছিল তার জন্য সে সবকিছু করতে পারে। তখন সেটাই বড় প্রমাণ হয়ে যায়। দুজনের কথোপকথন :
– ‘মাধবী, আমি কি কখনো তোমাকে বলেছি আমি তোমাকে ভালোবাসি?’ – – – বলো নি? তুমি বলেছিলে আমাকে না দেখতে পেলে তোমার চারতলায় ওঠাই বিফলে যেত। বলো নি আমার জন্য এনেছ একশো একটা লাল গোলাপ!’
– তোমাকে ভালোবাসলে আমি আর কাউকে ভালোবাসতাম না। হাসতে হাসতে জীবনে এতবড় ভুল হয়ে যাবে কে জানত!’
* পূর্ণিমার কষ্টের ভাগ রিয়াজের মা শর্মিলী আহমেদ নিতে পারে না। ছেলেকে বাধ্য করাতে চায় পূর্ণিমাকে মেনে নিতে নয়তো মরামুখ দেখবে বলে। রিয়াজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। মদ খেয়ে বাড়ি ফিরলে মা তাকে চড় মারে। রিয়াজ তখন বলে-‘আমি তো মরতে গিয়েও পারলাম না, মা। বারবার তোমার মুখটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল। আমি আর পারলাম না মা। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।’ মা-ছেলের অভিমান ভাঙে। পূর্ণিমার জন্য এ পরিস্থিতি।

ছবির ফিনিশিং টাচি। ফিনিশিং দেখেই দর্শক ছবিটিকে আরো বেশি গ্রহণ করেছিল। যাদের পছন্দের তালিকায় ছবিটি আছে তারাও ফিনিশিংটা মনে রেখেছে। পূর্ণিমা বিদেশে চলে যাবার জন্য তখন এয়ারপোর্টে। শাবনূর-পূর্ণিমার ফেস টু ফেস অভিনয় সেটাই প্রথম ছিল বড়পর্দায়। অসাধারণ ছিল দুজনের অভিনয়। তাদের কথোপকথন :
পূর্ণিমা – আমি চাইলে আমার ভালোবাসার মানুষকে তোমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারতাম। তোমার ক্ষমতা ছিল না ঠেকানোর।
শাবনূর – তোমাকে একবুক কষ্ট নিয়ে আমি যেতে দেব না। কী মনে করেছো তুমি একাই ত্যাগ স্বীকার করতে পারো আমি পারি না?
পূর্ণিমা – তোমার কথা শুনে বুকটা ভরে গেল। আর আমার কোনো কষ্ট নেই। যে ভালোবাসা আমার কাছে এমনি এমনি আসেনি কোনো দানের মাধ্যমে সে ভালোবাসা পাওয়ার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। আপন তোমাকে ভালোবেসেছে সুতরাং সে তোমারই পাওনা।
তারপর পূর্ণিমা চলে যেতে থাকে ফ্লাইটে ওঠার জন্য এবং ফিনিশিং শটটা সেখানেই হয়। ত্রিভুজ প্রেমের ইমেজটা তখন অসাধারণ হয়ে ওঠে। সামনে পূর্ণিমা পেছনে শাবনূর-রিয়াজ এই স্থিরচিত্রে সিনেমা শেষ হয়। শাবনূর-রিয়াজ পেছনে মিলন আর সামনে পূর্ণিমা ত্যাগের প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রেমদরদী জাকির হোসেন রাজু-র কাজ স্পেশালিটি পায় সেখানে।

ছবিটি অভিনয়সমৃদ্ধ। সব চরিত্রই সেরা অভিনয়টা দিয়েছে। শাবনূর-রিয়াজের খুনসুটিপর্বগুলো উপভোগ্য। পূর্ণিমাকে বিশেষ আকর্ষণে রেখে পরিচালক স্টোরি লাইন সাজিয়েছিলেন। সেটা পরিষ্কার হয় রোমান্টিক পার্টের পরে। ছবির প্রথম এক দেড় ঘণ্টা যে রোমান্টিক আবহে চলে পূর্ণিমার কষ্টের সময়গুলোতে পুরোপুরি পাল্টে যায়। romance and sadness দুই পার্টে ছবি ভাগ হয়ে যায়। দর্শক তখন ভাবতে থাকে পূর্ণিমার ভাগ্যে কী হবে? ত্যাগস্বীকার কে করবে শাবনূর, রিয়াজ নাকি পূর্ণিমা? এই টান টান উত্তেজনা সিনেমাহলে দারুণ পরিবেশ তৈরি করেছিল। শাবনূর-রিয়াজের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের প্রতি দর্শকের যে আকর্ষণ ছিল সিনেমাহলে সেই সমান আকর্ষণ ছিল তখনকার নতুন প্রতিভা পূর্ণিমার প্রতিও। শাবনূর-পূর্ণিমার ফিনিশিং সিনকে টাচি করতে দুজনের প্রাণ্জল অভিনয় বড় ভূমিকা রেখেছে।

গানের জায়গাটিও উপভোগ্য ছিল। রিয়াজ-পূর্ণিমার ‘জীবনে মরণে তুমি আমারই’ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল এবং ছবির সবচেয়ে জনপ্রিয় গান এটাই। ‘তুমি আমার বুকের ভিতর’ গানটি শাবনূর-রিয়াজ রোমান্স ছিল জমজমাট। তাছাড়া ‘ছাড়ব না তোমাকে আমি’ গানে শাবনূরের খুনসুটি সুপার।

ত্রিভুজ প্রেমের ছবি তো আজও হয়। কিন্তু হয় কী আরেকটা ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি!’

হ্যাপি ওয়াচিং✌

নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি : ভালোবাসা ও ত্যাগ পাশাপাশি - মুভি রিভিউ Nisshashe Tumi Bisshashe Tumi মুভি ইনফোঃ পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি - নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি পরিচালক - জাকির হোসেন রাজু শ্রেষ্ঠাংশে - শাবনূর, রিয়াজ, পূর্ণিমা, বুলবুল আহমেদ, শর্মিলী আহমেদ, নাদের চৌধুরী, মিশা সওদাগর প্রমুখ। উল্লেখযোগ্য গান - জীবনে মরণে তুমি আমারই, তুমি আমার বুকেরই ভিতর, ছাড়ব না তোমাকে আমি। মুক্তি - ৯ জুন ২০০০ Nisshashe Tumi Bisshashe Tumi রিভিউঃ লাইনগুলো এমন ছিল কানে ভাসে আজও-'হা ভাই, আসিতেছে আপনার আমার সবার প্রিয় বুকে কাঁপন ধরানো নায়িকা শাবনূর, এক নম্বর নায়ক রিয়াজ আর নতুন নাইকা পূর্ণিমার বই 'নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি।'…

Review Overview

User Rating: 4.85 ( 1 votes)
0
Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin