Tuesday , 17 July 2018
Breaking News
Home » মিথলজি » বিভিন্ন পুরাণের প্রেম কাহিনীগুলোঃ সিগফ্রাইড এবং ক্রিয়েমহাইল্ড (নর্স / জার্মান পুরাণ)

বিভিন্ন পুরাণের প্রেম কাহিনীগুলোঃ সিগফ্রাইড এবং ক্রিয়েমহাইল্ড (নর্স / জার্মান পুরাণ)

‘নিবেলুনেনলিদ’ কিংবা ‘নিবেলুন-এর গান’ হচ্ছে প্রাচীন জার্মানির এক মহাকাব্য। এই মহাকাব্যের উৎস হচ্ছে আবার ততোধিক প্রাচীন নর্স পুরাণ। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের দিকে জার্মানিতে মুখে মুখে চালু হওয়া এই গল্পের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় নর্স পুরাণের ‘ভোলসাং সাগা’ কিংবা ‘ভোলসাংদের গাঁথা’-র সাথে। পরবর্তীতে খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে এই কাহিনীটা নিয়ে রচিত হয় মহাকাব্য। এই মহাকাব্যের মূল কপিগুলোর অবশিষ্টাংশ এখনো সংরক্ষিত আছে। এই মূল কপিগুলোকে ২০০৯ সালে ইউনেস্কো ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করে তাদের ‘Memory of the World Register’ নামক আর্কাইভে ঠাঁই দিয়েছে।

আ

সিগফ্রাইড এবং ক্রিয়েমহাইল্ড (নর্স / জার্মান পুরাণ)

নিবেলুনেনলিদ মহা-কাব্যগ্রন্থের শুরুতেই উল্লেখ করা হয় বারগান্ডির তরুণ রাজকুমারী ‘ক্রিয়েমহাইল্ড’-এর কথা। বারগান্ডির সম্রাট ‘গানথার’-এর একমাত্র বোন সে। ক্রিয়েমহাইল্ড স্বপ্নে দেখেছিলো এক ঈগল পাখিকে, যাকে আরো কয়েকটা ঈগল পাখি মিলে ঠুকরে ঠুকরে মারছে। ক্রিয়েমহাইল্ডের মা এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেয় এই বলে যে, ক্রিয়েমহাইল্ডের ভবিষ্যৎ স্বামীর ভয়াবহ মৃত্যু ঘটবে। এই কথা শুনে ক্রিয়েমহাইল্ড বিয়ে করার চিন্তাভাবনা থেকে সরে আসে।

এরপরে পর্দায় আবির্ভাব ঘটে হিরো ‘সিগফ্রাইড’-এর। স্পটলাইট গিয়ে পড়ে তার উপরে। ‘শ্যান্টেন’-এর যুবক রাজকুমার সিগফ্রাইড বিভিন্ন দুঃসাহসিক অভিযানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেদিকে আলোকপাত করা হয়। এই অভিযানের সময়ে সে একবার ‘নিবেলুন’ বা বামন জাতিগোষ্ঠীর মাঝে গিয়ে উঠে। তাদের মুখে শুনতে পায় এক ভয়ানক ড্রাগনের কথা। এই ড্রাগনের রক্ত নাকি জাদুকরী। এই রক্ত কেউ শরীরের কোনো স্থানে মাখালে সেই স্থানটা কাটা-জখম হতে নিরাপদ থাকে সবসময়। এই ড্রাগনের উৎপাতে ঐ অঞ্চলের সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। সিগফ্রাইড বামনদের কথা দেয়, এই ড্রাগনটাকে সে বধ করবে। পরে সে যায় উঁচু পাহাড়ের চূড়ায়, যেখানে বাস ঐ ড্রাগনটার। বিপুল বিক্রমে লড়াই করে ড্রাগনটাকে হত্যা করে সে। তারপরে ড্রাগনের রক্তে স্নান করে সিগফ্রাইড। কিন্তু একটা জায়গায় গড়বড় হয়ে যায়। স্নানের সময়ে তার একটা কাঁধের উপরে গাছের পাতা এসে পড়ে। ফলে সেখানে ড্রাগনের রক্ত লাগে না। সেই অংশটা বাদে সিগফ্রাইডের বাকি পুরো শরীর সকল প্রকার আঘাতের ঝুঁকি হতে মুক্তি লাভ করে।

যাই হোক, সিগফ্রাইডের অসীম বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কৃতজ্ঞতাবশত নিবেলুন গোষ্ঠীর বামনেরা তাকে অঢেল ধন-সম্পদ উপহার দেয়। নর্স পুরাণে বামনদের সবসময় ফাটাফাটি রকমের ধনী হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। তাদের সেই ধন-সম্পদ হতেই একটা অংশ তারা উপহার দেয় সিগফ্রাইডকে। অভিযান শেষ করে সিগফ্রাইড ফিরে আসে তার শ্যান্টেন রাজ্যে। পরবর্তী রাজা হয়ে বসে।

রাজা সিগফ্রাইড এবং উপরে বর্ণিত বারগান্ডির সম্রাট গানথার ছিলো খুব ভালো বন্ধু। বস্তুতপক্ষে, সিগফ্রাইড ছিলো গানথারের সাম্রাজ্যের অধীনে একটা রাজ্যের রাজা। কিন্তু একে অপরের অধীনে থেকেও তারা জিগরি দোস্তের মতোই আচরণ করতো। একবার বারগান্ডির একটা অংশে স্যাক্সন জাতিগোষ্ঠী এসে হামলা চালালে সম্রাট গানথার তার বন্ধু রাজা সিগফ্রাইডের সাহায্য চায়। সিগফ্রাইড তার বাহিনী নিয়ে এসে হাজির হয় রাজধানীতে। কিন্তু প্রাসাদে ঢোকার মুখে উপরে তাকিয়ে তার চোখে পড়ে ব্যালকনিতে দাঁড়ানো এক অনিন্দ্যসুন্দরী নারীকে। সে জানতে পারে, নারীটা হচ্ছে তার বন্ধু গানথারের বোন, রাজকুমারী ক্রিয়েমহাইল্ড। এক দেখাতেই মন কেড়ে নেয় তার ক্রিয়েমহাইল্ড। প্রাসাদের ভিতরে গিয়ে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এবং ভোজ উৎসবে অনেকবার রাজকুমারীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ খুঁজে সে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না।

যাই হোক, সিগফ্রাইডের অসীম বীরত্বে স্যাক্সনরা বারগান্ডির দখলকৃত সব এলাকা ছেড়ে ভেগে যায়। যুদ্ধ হতে ফেরার পথে সম্রাট গানথার শুনতে পায় দূর রাজ্যের এক সম্রাজ্ঞীর কথা, যার নাম ‘ব্রুনহাইল্ড’। ফেটে পড়া রূপের অধিকারী সে সম্রাজ্ঞী ছিলো শক্তিমত্তায় এবং রণকৌশলে যেকোনো পুরুষের সমকক্ষ। সে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলো, তার থেকে বেশি শক্তিমত্তার কোনো পুরুষকে খুঁজে পেলে সে বিয়ে করবে। গানথার চাইলো ব্রুনহাইল্ডকে বিয়ে করতে। এই কাজে সে তার জিগরি দোস্ত সিগফ্রাইডের সহায়তা চাইলো, যে সকাল-বিকাল ড্রাগন মেরে সেটা দিয়ে নাস্তা করে। সিগফ্রাইডও সম্মতি দিলো এক শর্তে। সে গানথারের বোনের প্রতি তার দুর্বলতার কথা স্বীকার করে এই উপকারের বিনিময়ে ক্রিয়েমহাইল্ডকে বিয়ে করতে চাইলো। গানথার রাজি হলো শর্তটায়।

দুই বন্ধুতে মিলে চললো সম্রাজ্ঞী ব্রুনহাইল্ডের রাজ্যে। ব্রুনহাইল্ডের সামনে গিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলো সম্রাট গানথার। ব্রুনহাইল্ড জানালো, তাকে বিয়ে করতে হলে তিনটে চ্যালেঞ্জে পাশ করতে হবে। প্রথমটা হলো বর্শা নিক্ষেপ, দ্বিতীয়টা হলো বিশাল বড় পাথরের চাঁই কাঁধে তুলে ছুঁড়ে মারা, আর সবশেষটা হলো এক লাফে বিশাল এক খাদ পার হয়ে যাওয়া। সিগফ্রাইডের কাছে একটা চাদর ছিলো, যেটা গায়ে জড়ালে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া যেতো। সেটা গায়ে চাপিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো সিগফ্রাইড। তারপরে গানথারের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তার দানবীয় শক্তিমত্তা দিয়ে বর্শা আর পাথরের চাঁই বহুদূরে ছুঁড়ে মারতে সহায়তা করলো। আর বিশাল খাদ পার হবার সময় গানথারকে জড়িয়ে ধরে লাফ দিয়েছিলো সিগফ্রাইড। তাতেই দু’জনে একত্রে পার হয়ে গিয়েছিলো খাদটা। সম্রাজ্ঞী ব্রুনহাইল্ড ভীষণ মুগ্ধ হয়ে পড়লো সম্রাট গানথারের প্রতি। দু’জনে বিয়ে করলো।

কিন্তু বাসর ঘরে গিয়ে টের পেলো ব্রুনহাইল্ড যে কিছু একটা ঠিক নেই। সে মজা করে গানথারকে খাটের সাথে বেঁধে রেখেছিলো। কিন্তু সেই বাঁধন ছিঁড়ে কিছুতেই মুক্ত হতে পারছিলো না গানথার। এটা দেখে সন্দেহ জাগে রাণীর মনে। পরের রাতে শোবার ঘরে ঢুকার সময় গানথারের সাথে সিগফ্রাইডও ঢুকে অদৃশ্য হবার চাদর গায়ে জড়িয়ে। সেই রাতেও ব্রুনহাইল্ড মজা করে গানথারকে খাটের সাথে বেঁধে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না আগের রাতের মতো। তার মনে হয় অদৃশ্য একটা শক্তি যেন তাকে বশ করে ফেলছে। একপর্যায়ে সে পরাজিত হয় গানথার (আসলে সিগফ্রাইড)-এর নিকট। সিগফ্রাইড রাণী ব্রুনহাইল্ডের হাতের আংটি এবং কোমরের বেল্ট খুলে নেয়। সেই রাতের পরে ব্রুনহাইল্ড তার অতি-মানবীয় শক্তিমত্তা হারিয়ে ফেলে।

এদিকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিয়ে হয় সিগফ্রাইড এবং রাজকুমারী ক্রিয়েমহাইল্ডের। ক্রিয়েমহাইল্ড চিরকুমারী থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও মহাবীর সিগফ্রাইডের ভালোবাসার সামনে বেশিক্ষণ স্থির থাকতে পারে না। মহা ধুমধাম করে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ে করে নিজের রাজ্য শ্যান্টেনে নিয়ে যায় ক্রিয়েমহাইল্ডকে রাজা সিগফ্রাইড। বধূকে একটা আংটি এবং বেল্ট উপহার দেয়। এগুলো আসলে ব্রুনহাইল্ডের থেকে কেড়ে নেয়া সেই আংটি এবং বেল্ট। এদিকে ব্রুনহাইল্ড কিছুতেই বর্তমান বাস্তবতার সাথে তার স্বামী গানথারকে মিলাতে পারে না। দিনকে দিন তার সন্দেহ বেড়ে চলে।

একবার রাজধানীতে বোন এবং বোন জামাইকে আমন্ত্রণ জানায় গানথার এক বিশেষ ভোজ উৎসবের জন্যে। সেখানে তারা উপস্থিত হলে রাণী ব্রুনহাইল্ড দেখতে পায় ক্রিয়েমহাইল্ডের হাতে এবং কোমরে পরিহিত সেই পরিচিত আংটি এবং বেল্ট। সে ক্রিয়েমহাইল্ডের মারফতে জানতে পারে, সিগফ্রাইড তাকে এসব উপহার দিয়েছে। প্রচণ্ড অপমানে মুখ কালো হয়ে যায় ব্রুনহাইল্ডের। গানথারকে মিথ্যাবাদী, ধোঁকাবাজ আখ্যায়িত করে। নিজের এমন অপমানের জন্যে রাণী আত্মহত্যা করে।

ব্রুনহাইল্ডের আত্মহত্যার ঘটনায় মুষড়ে পড়ে গানথার। গানথারের এক উপদেষ্টা ছিলো, যার নাম ‘হ্যাগেন’। হ্যাগেন সিগফ্রাইডকে দেখতে পারতো না। সিগফ্রাইডের সাথে গানথারের বন্ধুত্বও সহ্য করতে পারতো না সে। এই সুযোগে কূট কথা দিয়ে সিগফ্রাইডের প্রতি মন বিষিয়ে দিলো সে গানথারের। দু’জনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরালো। সম্রাটকে বুঝালো, তার করুণ পরিণতি এবং অপমানের জন্যে সিগফ্রাইডই দায়ী। তাকে হত্যা করে সমস্ত অপমানের শোধ নেয়া হোক। হ্যাগেনের কূট কথায় বিভ্রান্ত হয়ে শুরুতে অসম্মতি জানানো গানথার পরে রাজি হয়ে গেলো ষড়যন্ত্রে।

হ্যাগেন কৌশলে ক্রিয়েমহাইল্ডের কাছ থেকে জেনে নিলো সিগফ্রাইডের দুর্বলতা সম্পর্কে। জানতে পারলো, তার কাঁধের অংশটা কাটা এবং জখম থেকে নিরাপদ নয়। ফলে একবার শিকারের নাম করে দুই বন্ধু বের হয়ে গেলো দূর বনের উদ্দেশ্যে। সেখানে একটা জংলী শুকরের পেছনে লেলিয়ে দেয়া হলো সিগফ্রাইডকে। সে যখন শুকরটা শিকারে ব্যস্ত, তখন পেছন হতে বর্শার আঘাতে কাঁধ এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়া হলো তার। মারা গেলো বীর সিগফ্রাইড। শুধু তা-ই নয়, নিবেলুনদের দেয়া সমস্ত ধনসম্পদ কুক্ষিগত করে ফেললো হ্যাগেন। সেগুলো নিয়ে লুকিয়ে রাখলো রাইন নদীর মাঝখানে।
ক্রিয়েমহাইল্ড শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো এই ঘটনায়। সে পণ করলো প্রতিশোধ নেবার। রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গেলো সে বহুদূরে। বছর কয়েক পরে সে পরিচিত হয় ‘হান’ জাতিগোষ্ঠীর সাথে। হানদের রাজা ‘আটিলা দ্যা হান’ তাকে নিজ স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে বিয়ে করে। আটিলা ইতিহাসে দুর্ধর্ষ এক হান বংশীয় নেতা হিসেবে বিখ্যাত। রোমান সাম্রাজ্যকেও সে মাথা নোয়াতে বাধ্য করেছিলো তার দুর্ধর্ষতা দিয়ে। যে রোমান সাম্রাজ্য সবার থেকে ট্যাক্স নিতো, সেই সাম্রাজ্যই ট্যাক্স দিতো আটিলাকে!

যাই হোক, আটিলার সাথে বিয়ের পরে ক্রিয়েমহাইল্ড বুঝে, এটাই সুযোগ প্রতিশোধ নেয়ার। সে আটিলার রাজদরবারে দাওয়াত করে তার ভাই গানথার এবং উপদেষ্টা হ্যাগেনকে। হ্যাগেন যখন শুনে, ক্রিয়েমহাইল্ড তাদের দাওয়াত দিয়েছে, তখন সে সতর্ক করে গানথারকে। কিন্তু গানথার জানায়, ঘরে লুকিয়ে থাকলে সে কাপুরুষ হয়ে যাবে। সে কাপুরুষ নয়। অগত্যা সবাই মিলে চললো আটিলার রাজদরবারের উদ্দেশ্যে।

বারগান্ডিয়ানরা যখন হানদের রাজ্যে এসে উপস্থিত হলো, তাদের সাদরে বরণ করে নেয়া হলো। আটিলা এবং ক্রিয়েমহাইল্ডও তাদের হাসিমুখে বরণ করলো, যদিও সেই হাসিটা ছিলো মিথ্যেতে জড়ানো। ভোজের একপর্যায়ে আটিলা হ্যাগেনকে জিজ্ঞেস করলো, নিবেলুনদের সমস্ত ধনরত্ন সে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে? আটিলাকে ঐ সম্পদের লোভ দেখিয়েই বারগান্ডিয়ানদের দাওয়াত করার জন্যে ফুসলিয়েছিলো ক্রিয়েমহাইল্ড। হ্যাগেন উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালো। তখন উপস্থিত সৈন্যদের নির্দেশ দিয়ে গানথার এবং হ্যাগেনকে বন্দী করে ফেলা হলো। ব্যাপক নির্যাতন করা হলো দু’জনকে। একপর্যায়ে নিজ স্বামীর হত্যাকারী ভাই গানথারের মুণ্ডু কেটে ফেললো ক্রিয়েমহাইল্ড। সেটা দেখালো সে হ্যাগেনকে। বললো, তাকেও এভাবেই হত্যা করবে সে। সিগফ্রাইডের হত্যার প্রতিশোধ নিবে সে এভাবে।

এদিকে গানথার এবং হ্যাগেনের বন্দী হবার সংবাদ পৌঁছে গেলো বারগান্ডির সৈন্যশিবিরে। রাজদরবারের বাইরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে গেলো হান এবং বারগান্ডিয়ানরা। দু’পক্ষেরই বহু সৈন্য হতাহত হলো। এদিকে বহু নির্যাতনের পরেও যখন হ্যাগেন মুখ খুললো না, তখন আটিলা বিরক্ত হয়ে পড়লো। আর হ্যাগেনকে হত্যা করে নিজের স্বামীকে হারানোর প্রতিশোধ নিলো ক্রিয়েমহাইল্ড।

এই ঘটনার সূত্র ধরে হান এবং বারগান্ডিয়ানদের মাঝে বেশ কিছুকাল সংঘর্ষ চলে। পঞ্চদশ শতাব্দীর এক পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়, এই হানাহানি পরে থামিয়েছিলো আরেক জার্মান বীর ‘হিলডাব্র্যান্ড’। সে ছিলো গানথারের অনুগত। সে এসে রাণী ক্রিয়েমহাইল্ড এবং অন্যান্য হানদের হত্যা করে তার স্বজাতিদের উপরে হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ নেয়।

তথ্যসূত্র:
১। https://www.britannica.com/topic/Nibelungenlied
২। https://en.wikipedia.org/wiki/Nibelungenlied
৩। http://www.historyworld.net/wrldhis/PlainTextHistories.asp?historyid=172

লিখেছেন – রিজওয়ানুর রহমান প্রিন্স

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin