Tuesday , 17 July 2018
Breaking News
Home » সুপারভিলেন অরিজিন » ইতিবৃত্ত অফ Super Villain Thanos

ইতিবৃত্ত অফ Super Villain Thanos

Thanos( থ্যানোস) মারভেল কমিকসের অন্যতম শক্তিশালী এবং বিখ্যাত সুপারভিলেন চরিত্র। কমিক রাইটার ও আর্টিস্ট মাইক ফেডরিচ আর জিম স্টারলিং দ্বৈতভাবে চরিত্রটির নির্মাতা।থ্যানোসকে কমিকে সর্বপ্রথম দেখা যায় ১৯৭৩ সালে Iron Man র ৫৫ নম্বর ইস্যুতে।

1

Supervillains Origin Thanos

🎩🎩🎩 Thanos 🎩🎩🎩

“In time, you will know what it’s like to lose. To feel so desperately that you’re right, yet to fail all the same. Dread it. Run from it. Destiny still arrives.”
–Thanos

“You think you know pain? He will make you long for something as sweet as pain.”
–The Other describing Thanos

“My name is Thanos, and my name means Death.”

জন্মসূত্রে থ্যানোস শনির উপগ্রহ হিসেবে খ্যাত “দানবগ্রহ”র বাসিন্দা।সে মারভেল ইউনিভার্সের আদি ঈশ্বর-সম মহাজাগতিক জাতি “ইটারনাল”দের বংশধর। বাবা “মেন্টর” দানব প্রজাতির আদিপুরুষ ক্রোনাসের পুত্র আর মাতা “সুই-সান” ইটারনালদের আরেক অংশের বৈশিষ্ট্যধারী।তারা উভয়েই প্রেমে পতিত হয়ে একে-অপরকে বিয়ে মোবারক করেন এবং তাদের ভালোবাসার ফসল হলো আমাদের প্রিয় থ্যানোস,অর্থাৎ থ্যানোস মূলত একটি সংকরজাত প্রাণী। দুই আলাদা প্রজাতির এহেন সংকরায়নের ফলে জন্মের সময় থ্যানোস বিরল “ডিভিয়্যান্ট সিন্ড্রোম”
নিয়ে জন্মগ্রহণ করে,যা সমগ্র দানব জাতির মধ্যে কেবল তার একার ই ছিল। এই জিনের প্রভাবে থ্যানোসের চেহারা ও দেহ কাঠামো কদাকার, কুৎসিতে পরিণত হয়। জন্মের সময় থ্যানোসের এ রূপ দেখে তাকে অভিশপ্ত ভেবে স্বয়ং তার মা ই তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।কারণ তার মা ছিলেন তাদের প্রজাতির সবচেয়ে সুন্দরী রমণী। তার মতো সুন্দরীর ঘরে এইরকম বান্দর পয়দা হয়াকে তিনি কোনোমতেই বরদাশত করতে পারছিলেন না।

~দেখতে যেমন ই হোক না কেনো,দুই প্রবল ক্ষমতাধর কসমিক তথা মহাজাগতিক জাতির মিউটেশনের ফলে থ্যানোস জন্মগতভাবেই তাদের জাতি তথা রেসের সবচেয়ে ইউনিক,বুদ্ধিমান আর শক্তিশালী হাইব্রিড দানব ছিল।তার শরীরের ঐ কুৎসিত চামড়া এতোই গন্ডারমার্কা আর উন্নত ছিল যে তা সুপার এটোমিক[এটম বোমার নাম শুনছেন নিশ্চয়ই,আশা করি জানেন এর তীব্রতা,কোনোকিছুর এরকম ই তীব্র পর্যায়কে বলা হয় এটোমিক] পর্যায়ে কসমিক এনার্জি শোষণ করার ক্ষমতা তো রাখে ই,সাথে সাথে ঐ ক্ষমতাকে নিজের আয়ত্ত্বে এনে ইচ্ছামাফিক অন্যের উপ্রে প্রয়োগ করে ভিক্টিমের ভবলীলা সাঙ্গ করার ও ক্ষমতা রাখে।

~বৈশিষ্ট্যগতভাবে থ্যানোস হার্ডকোর লেবেলের মারদাঙ্গা পাবলিক।মারামারি,কাটাকাটি,হানাহানি,চুরি-চামারির জন্য সে সমস্ত মারভেল মাল্টিভার্সে কুখ্যাত। সে কখন কি করে বসে তার কোনো ইয়ত্ত্বা নাই,এজন্য তাকে “পাগলা দানব” উপাধি ও দেয়া হয়েছে।

কিন্তু বাচ্চাকালে সে মোটেই এরকম ছিলো না।একটা সময় সে ছিল নেহাত ই একজন লাজুক,সাদা-সিধা দানব কিশোর। সে ছিল সত্যের পথিক,সুবোধ বালক,ক্লাসের ফার্স্ট বয়,সাইন্সে টপার বয়। সে সবার ভালো চাইতো।খুব ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে নিপুণ কোনো আঁকিয়ে অথবা বিজ্ঞানী হবে,দানবশ্রেণীর সেবা করবে,তাদের নাম রওশন করবে,তাদের সবার আইডল হবে। কিন্তু তার স্বপ্ন, স্বপ্ন ই থেকে গেলো। দেখতে কদাকার আর অন্যদের থেকে আলাদা বলে সে বরাবর ই বৈষম্যের শিকার হতো,তার ক্লাসমেইটরা তাকে বুলি বানাতো,র‍্যাগিং করতো।বাইরে যাই হোক, ঘরের সুখ বড় সুখ। কিন্তু সেই ঘরেও তার শান্তি ছিল না।তার জন্মদাত্রী মাতা পর্যন্ত তার সাথে বৈ-মাতার মতো আচরণ করতেন, তাকে দুইচোখে দেখতে পারতেন না। তার বাবা-মায়ের মায়া-মহব্বত সব তার সুদর্শন ভাই “এরোস” র জন্য।ফলে থ্যানোস আস্তে আস্তে ডিপ্রশনে নিজেকে হারিয়ে ফেলে,অন্যদের সঙ্গ ছেড়ে দেয়,সে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে।ভাবে- মরলেই বুঝি আমার সব দুঃখ শেষ হবে!

অক্কা পাওয়ার প্রবল আগ্রহের কারণে একসময় স্বয়ং মৃত্যুর দেবীর সাথেই তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে সে মৃত্যুর দেবীর উপ্রে উপ্তাভাবে ফল হয়,শয়নে-স্বপনে কেবল মৃত্যু দেবীর কথা ই তার মাথায় আসে।

তো মৃত্যুর দেবীর সহচর্যে থ্যানোস বাবাজী আরো বেশী কসমিক ক্ষমতা অর্জন করে,কালা জাদু,নীলা জাদু,বাণ-টোন মারা সহ সকল ব্ল্যাক-আর্টসে ও পারদর্শী হয়ে ওঠেন। মৃত্যুর দেবী তাকে বুঝায়-“তোমাকে কসমিকের সব জ্ঞান অর্জন করতে হবে,বুঝলে! আর মনে রাখবা Power ই সব”।

এদিকে বাধে বিপত্তি,থ্যানোস আর মৃত্যুর দেবী যখন একে-অপরের কাছাকাছি আসতে ব্যস্ত তখন থ্যানোসের বাবা দানবদের শাসক জেনে যান তার ছেলের কালা কারতুতের ব্যাপারে,তিনি তাকে তাদের গ্রহ থেকে বিতারিত করে দেন। রাগে-দুঃখে থ্যানোস প্রতিজ্ঞা করে সে এর বদলা নিবেই নিবে-আর সে লক্ষী দানব হয়ে থাকবে না,এখন সে সবাইকে দেখিয়ে ছাড়বে-সে আসলে কি চিজ! কয়েকবছর পর থ্যানোস আরো বেশী কসমিক নলেজ, ক্ষমতা,বুদ্ধিমত্ত্বা আপগ্রেড করে,মারাত্মক নিউক্লীয় শক্তি আর গ্যালাক্সির কুখ্যাত সব এসাসিনদের নিয়ে তার গ্রহ টাইটানে হামলা করে সবাইকে মেরে ফেলে,অর্ধেক টাইটান সামাজ্য ধুলোয় মিশিয়ে দেয়,বাকি অর্ধেকের নিজেই একচ্ছত্র অধিপতি বনে যায়। সৌভাগ্যবশত ঐ সময় টাইটানে তার বাবা আর ভাই ছিলেন না, থাকলে ওনারা ও যে তার হিংস্রতার কাছে পটল তুলতেন তা তো বলা ই বাহুল্য।এসময় থ্যানোস গ্যালাক্সির আরো অনেক গ্রহে হামলা করে সেগুলোকেও ধ্বংস করে আর তাদের শক্তি,ক্ষমতা,গুরুত্বপূর্ণ জিনিস,সম্পদ সব হাতিয়ে নেয়।এক পর্যায়ে সে কসমিক কিডন্যাপার হিসেবে ও আবির্ভূত হয়। সে তার এই আকাম-কুকামের জন্য নিজের কয়েকটি শক্তিধর কসমিক গ্যাং ও তৈরী করে।কসমিকে তার তান্ডব এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে তাকে সবাই একনামে “দ্যা ডার্ক লর্ড” বলে সম্বোধন করতে থাকে।

খবরটি যখন তার পিতা এলার্স তথা মেন্টরের কাছে পৌঁছে তখন সে টাইটানদের আদিপিতা ক্রোনাস(হ্যাঁ গ্রীক মিথলোজীর জিউসের বাবা সেই ক্রোনাস ই)র স্মরণাপন্ন হয়। মি.ক্রোনাস তার দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পান ভবিষ্যতে থ্যানোস গ্যালাক্সির সব টাইটান রেস সহ জীবিত কোটি কোটি প্রাণীর পূঙ্গি বাজাবে। এই আপদকে এখন ই রুখতে হবে। সেই নিমিত্ত্বে ক্রোনাস পুত্র মেন্টরের সাথে মিলে তাদের কসমিক পাওয়ার দিয়ে “ড্রাক্স দ্যা ডেস্ট্রয়ার”কে মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে নতুনরূপে তৈরী করেন।[গার্ডিয়ান অব দ্যা গ্যালাক্সিতে আপনারা রেসলার বাতিস্তাকে দেখেছেন তার চরিত্রে অভিনয় করতে] যাকে বিশেষভাবে তৈরী ই করা হয়েছে কেবল থ্যানোসকে হত্যা করতে।

~দ্যা ডার্ক লর্ড, পাগলা দানব ছাড়াও থ্যানোসের আরো কিছু উপাধি নাম আছে। Dione, Thanos Rex,Masterlord, Overmaster,All-Father,Genocidal Maniac,The Most Powerful Being in the Universe,Dad, “He”- এসবগুলোই থ্যানোস মশাইয়ের উপাধি।

~তার আকাম-কুকাম বিভিন্ন ধরণের।সে একজন কনকরার,মৃত্যু দেবীর ফরেভার আশেক সে, একজন পাইরেট,ধ্বংসবাদে বিশ্বাসী একজন সত্ত্বা,দানবকূলের রাজা,সে একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী ও বটে। এমনকি তার শক্তিমত্তা এতোই সুপিরিয়র যে এখন সে নিজেই একজন গড।

⚠|| যেসব টিমের সাথে সংযুক্ত ||⚠

⚰Black Order

⚰Zodiac (Thanos)

⚰Infinity Watch

⚰Defenders (Thanos)

⚰Nihilist Sect

⚔|| শক্তিমত্তা ও ক্ষমতা ||⚔

💣Superhuman Intelligence

💣Superhuman Strength

💣Superhuman Speed

💣Superhuman Stamina

💣Nigh Invulnerability

💣Immortality

💣Accelerated Healing Factor

💣Superhuman Agility

💣Superhuman Reflexes

💣Teleportation

💣Flight

💣Curse Casting

💣Matter Manipulation & Control

💣Energy Manipulation & Control

💣Super-Genius Intelligence

💣Skilled Unarmed Combatant

💣Mystical Knowledge

★জিম স্টারলিংয়ের মাথায় থ্যানোস নামক কোনো চরিত্রের ক্রিয়েশনের কথা কলেজে থাকাকালীন তার একটি সাইকোলজির ক্লাসে আসে,(সাইকোলজি মাথার নিউরন আসলেই ছিঁড়ে দেয়,তারছেঁড়া অবস্থায় ই কেবল এরকম কিছু তৈরীর চিন্তা মাথায় আসতে পারে😐)। চরিত্রটি লিমিটেড সময়ের জন্য Iron Man এর একটি ইস্যুতে ব্যবহারের জন্য তৈরী করেছিলেন তিনি,কিন্তু পরে পাবলিক ডিমান্ডের কারণে চরিত্রটি মারভেল কমিকসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং পপুলার চরিত্রে পরিণত হয়।

★আমরা থ্যানোসকে পাগল-ছাগল যাই ভাবি,সে কিন্তু অনেক বুদ্ধিমান দানব।সাধারণ মানুষ থেকে তো শতগুণে বেশী বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী। সে বহুবছর ধরে গবেষণা করে এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটা বুঝতে পেরেছে-সৃষ্টিজগতে ব্যালেন্স আনতে ও তা টিকিয়ে রাখতে হলে এর একটি অংশকে বিনাশ হতেই হবে,না হলে হবে না। এজন্যই সে এতো মারামারি-কাটাকাটি করে।যদিও তার মোটা মাথায় প্রথমে এই আকামীয় বুঝটুকু ঢুকিয়েছিলেন এক মহীয়সী নারী।ওনি হলেন “মিস্ট্রেস ডেথ”।

★শুরুর দিকে কমিকে থ্যানোস ছিল এভারেজ বডির, পরবর্তীতে মারভেল কমিকসের এডিটর রয়ের সাজেশনে থ্যানোসকে মাস্কুলার জাইজান্টিক বডি-ফিগার দেয়া হয়।

★থ্যানোস এতো শক্তিশালী যে সে একবার হাল্ক আর ড্রাক্সকে এক থাপ্পড়েই তাদের ৩২ টা দাঁত ফেলে হাটুর ওপর বসিয়ে দিয়েছিল।ঘুষিও না জাস্ট নরমাল একটা থাপ্পড়।

★থ্যানোস পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান,স্মার্ট মনুষ্য থেকেও বেশী স্মার্ট।এমনকি রিড রিচার্ডস থেকেও, যাকে পৃথিবীর সবচেয়ে স্মার্ট পার্সন হিসেবে গণ্য করা হয়।

★থ্যানোস নামটি গ্রীক পৌরাণিকের মৃত্যুর দেবতা “থ্যানাটোস” থেকে নেয়া হয়েছে।যার অর্থ “মৃত্যু”।

★থ্য্যানোসকে দেখলে সহজেই চিনা যায় তার খাজখাটা থুতনী তথা ‘চিন’ র কারণে। এজন্য মিস্টার.লৌহমানব-থ্যানোসের নাম দিয়েছেন “চিনজ” অর্থাৎ “থুতুমুখো”। আর হাল্ক থ্যানোসকে বলে “পুরংচিনজ” অর্থাৎ “ইয়া বড় থুতুমুখো”।

★শারিরীকভাবে থ্যানোসের চোখ লাল,মুখ রক্ত-বেগুনী রঙের।তবে দুভার্গ্যবশত তার মাথায় কোনো চুল নেই। সে একজন টাকলা দানব।

★থ্যানোসের উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি আর ওজন প্রায় ৯৮৫ পাউন্ড।(আল্লাহ বাঁচিয়েছেন,সে পৃথিবীবাসী এরকম ওজনওয়ালা কেউ হয় নাই,এমনিতেই পৃথিবীর মানুষ ভুঁড়িসংক্রান্ত সমস্যায় হাহাকার করছে😓)

★থ্যানোস কারেক্টরটি ডিসি কমিক্সের গড-লাইক ভিলেন ডার্কস্যাইড থেকে ইন্সপায়ার্ড।তবে অরিজিনালি তাকে ডার্কস্যাইডের অনুরূপ করার ইচ্ছা ছিলো না,শারীরিক কাঠামো ছাড়া অন্য সব দিক দিয়ে সে ডিসি কমিক্সের আরেক গড-লাইক কারেক্টর ‘মেট্রন’ র সদৃশ্য।

★মারভেল ইউনিভার্সের সবচেয়ে ভয়ংকর,হিংস্র সত্ত্বা থ্যানোস।সে একারণে ভয়ংকর নয় যে তার অসীম শক্তিমত্তা রয়েছে,মূলত সে ভয়ংকর এই কারণে মারভেল ইউনিভার্সের যেকোনো সত্ত্বা থেকে তার এম্বিশন(লক্ষ্য অর্জনের তীব্র ইচ্ছা/আকাঙ্ক্ষা),উইল পাওয়ার সবচেয়ে বেশী।

★মহাজাগতিক ছয়টি সবচেয়ে পাওয়াফুল জেমস সম্বলিত তার হাতের ইনফিনিটি গ্যান্টলেট দ্বারা সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।এমনও অনেক কিছু করতে পারে যার কোনো ব্যাখ্যা ফিজিক্সে ই নেই,অনেকগুলা তো এমন যা আদৌ কোনো সেন্স ই মেইক করে না।বিশেষ একটি লক্ষ্য পূরণের জন্য ইনফিনিটি গ্যান্টলেট দিয়ে সে একবার ইউনিভার্সের অর্ধেক ই খেয়ে ফেলেছিলো,তাও আবার জাস্ট হাতের এক তুড়িতেই।এই মহাপ্রলয়ে পৃথিবীর অনেক সুপারহিরো ও পটল তুলেছিলো।X-Men দের অর্ধেক,ডেয়ারডেভিল,ফ্যান্টাসিক ফোরসহ সবাই যমের বাড়ি পাড়ি জমিয়েছিলেন।(রেস্ট ইন পিস অনুবাদ)

★দ্যা মাইন্ড জেম,দ্যা রিয়ালিটি জেম,দ্যা পাওয়ার জেম,দ্যা স্পেস জেম,দ্যা টাইম জেম এবং দ্যা সোল জেম -ইনফিনিটি জেমস হিসেবে খ্যাত এই ছয়টি জেমসকে “সোল জেমস”,”রিয়েলিটি জেমস” ও বলা হয়। জেমসগুলোর মূল মালিক “নেমেসিস” নামক এক অমনিপটেন্ট সত্ত্বা,যিনি নারীর রূপে ছিলেন। তার সোলমেট না পেয়ে একসময় তিনি একাকীত্ত্বের দরুণ আত্মহনন করেন এবং তখন এই ছয়টি শক্তিশালী জেমস সমস্ত মাল্টিভার্সে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। যে এই জেমসগুলো ধারণ করবে সে অমনিসাইন্স,অমনিপটেন্ট,গড লাইক পাওয়ার আর সমস্ত রিয়ালিটিকে কন্ট্রোল করার শক্তি অর্জন করবে।

★৬ টি জেমস সম্বলিত ইনফিনিটি গ্যান্টলেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্ষমতা হচ্ছে এর দ্বারা সমস্ত রিয়েলিটি,মাল্টিভার্সকে ই একাধারে ধ্বংস, রি-ক্রিয়েট আর রি-শেইপ করা যায়।

★ইনফিনিটি গ্যান্টলেট পরিহিত অবস্থায় থ্যানোস এমন জাইজান্টিক দানবীয় আকার ধারণ করতে পারে যে, আমাদের পুরো শোলার সিস্টেমের গ্রহগুলোকে ও হাতে নিয়ে সে টেনিস বলের মতো খেলতে সক্ষম।

★থ্যানোস আর গ্যান্টলেট-এই নামগুলোর কথা উঠলে এগুলোর সাথে আরেকটি জিনিসের নামও অটোম্যাটিকলি চলে আসে-“দ্যা কসমিক কিউব”- যা MCU তে টেসারেক্ট নামেও পরিচিত,যদিও মুভিতে একে “স্পেস জেম” হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই কসমিক কিউবের রয়েছে রিয়েলিটিকে ম্যানিপুলেট করার, যেকোনো আকার দেয়ার এবং অন্য ডাইমেশনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। থ্যানোস পাগলা কুকুরের মতো এটা অর্জন করতে চায় কারণ তার ইচ্ছা এটা দিয়ে সে পৃথিবীকে তার মনের দেবী,স্বপ্নের রাণী “মিস্ট্রেস ডেথ” কে গিফট করবে।(চিন্তা করে দেখেন- ৭ বিলিয়ন মানুষের আমাদের এই পৃথিবীকে জাস্ট একটা পেঁচামুখী মেয়েকে গিফট করার জন্য খেয়ে দিতে চাচ্ছে সে!😡)

★ট্রেনিং,রিসার্চ,রিসর্ট,এক্সপিরিমেন্ট,অভজার্বশনের দ্বারা থ্যানোস তার শক্তিমত্তায় এতোটাই উন্নতি করেছে যে তার কসমিক এনার্জিকে এটমিক পর্যায় থেকে বায়োনিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মানে ইনফিনিটি গ্যান্টলেট ছাড়াও থ্যানোসকে প্রতিহত করা নাই ইম্পসিবল(অর্থাৎ মোটামুটি অসম্ভব ই বলা চলে)।

★অনেকে ভাবে ইনফিনিটি গ্যান্টলেট ছাড়া থ্যানোসের আহামরি তেমন কোনো পাওয়ার নেই। কথাটা ভুল। মারভেলের রিসেন্ট কমিকগুলোতে সে লিভিং ট্রাইবুন্যাল আর গ্যালাক্টাসের মতো সত্ত্বাকে ও মেরে ফেলেছে ইনফিনিটি গ্যান্টলেট ছাড়াই। গ্যালাক্ট্যাস হচ্ছে মারভেল মাল্টিভার্সের এক আদি সত্ত্বা,তার টাইটেল ই হচ্ছে “দ্যা ইটার অব প্ল্যানেটস”- মানে যে গ্রহ খায়,গ্রহখাদক যে। পৃথিবীর মতো লাখ লাখ গ্রহ খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তার। অপরদিকে লিভিং ট্রাইবুন্যাল হলো মারভেল অমনিভার্সের দ্বিতীয় সবচেয়ে পাওয়ারফুল সত্ত্বা,যার ওপর সকল জেমস সম্বলিত ইনফিনিটি গ্যান্টলেটের শক্তি পর্যন্ত কোনোরূপ প্রভাব ফেলতে পারে না। সে অসীম ক্ষমতাধারী,অসীম জ্ঞানী,অসীম শক্তিধর। এই অসীম শক্তিধর সত্ত্বাকে ও থ্যানোস পাগলা খেয়ে ছেড়ে দিসে। এবার বুঝেন সে কি চিজ!

তবে মারভেল অমনিভার্সের সবচেয়ে পাওয়ারফুল সত্ত্বা আরেকজন।যিনি সবকিছুর ওপর,যাকে কেউ হারাতে পারবে না,যিনি অতীতে ছিলেন বর্তমানে আছেন,ভবিষ্যতে ও থাকবেন। তিনি মারভেল অমনিভার্সের ক্রিয়েটর,চাইলে এক তুড়িতে ই সবকিছু ধ্বংস করতে পারেন আবার ক্রিয়েট ও করতে পারেন। তিনি হলেন “The One Above All”(সবার উপরে যিনি,সবকা মালিক এক).

★এভেঞ্জারস সহ পৃথিবীর সব সুপারহিরো ই থ্যানোসের কাছে দুধ-ভাত। সে বজ্রদেবতা থরের হাতুড়ি মিওনিয়ারকে গ্ল্যাসের ভিতর ঢুকিয়ে নিমিষেই চুরমার করে দিয়েছিলো,আইরনম্যানের স্যুটকে জাস্ট এক টিপায় ক্রাস করে ফেলেছিল,ক্যাপ্টেন আমেরিকার ভাইবরেনিয়াম শিল্ডকে কয়েকটা ঘুষিতেই হাজার টুকরায় রূপান্তরিত করেছিলো,ওলভারিনের এডামেন্টিয়াম স্ক্যালিটনকে এমন ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিলো যে তার পুরোটাই ইলাস্টিক রাবারে পরিণত হয়েছিল।X-Men এর সাইক্লপসের ওপর তার মাইন্ড দিয়ে এমন টেলিপ্যাথি খাটিয়েছিলো যে বেচারার চোখ থেকে ফায়ারবিম আসা পর্যন্ত অফ করে দিয়েছিলো।

★এনার্জি অভজার্বশন,সুপারহিউম্যান ডুরাভিলিটি,ইনভ্যুলনারেবিলিটি ছাড়াও তার টেলিপ্যাথির ক্ষমতাও এপিক লেবেলের। হাল্কের মতো বিগড়েল বান্দার মাইন্ডকে ও সে আয়ত্ত্বে আনতে সক্ষম।আয়ত্ত্বে এনে হাল্ক বাবাজীকে ঠান্ডা ও করেছে কয়েকবার।

★থ্যানোস নিজ হাতে তার মাকে হত্যা করেছিল।(ভুলে গেলে চলবে না তার মাতা মহোদয়া ও তার সাথে কি করেছিলেন!)।মায়ের পরে তার আপন পিতা আর দাদা পর্যন্ত তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন,হত্যা করার সমস্ত বন্দোবস্ত ও করেছিলেন।

★থ্যানোসের ভাই “এরোস” দেখতে সুর্দশন এবং সবাইকে আকর্ষণ করার একধরণের বিশেষ ক্ষমতা আছে তার। তাই সব মেয়েকূল ই তার উপ্রে ক্রাস খেতো।আর “এরোস” মশাই ছিলেন খাটি প্লে-বয়।তিনিও ঝোপ বুঝে কোপ মেরে সবাইকে খেয়ে ছেড়ে দিতেন। অতঃপর একটা সময় তিনি তার জীবনের আসল মিনিং বুঝতে পারলেন এবং এটা অনুধাবন করলেন- “ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ”।তাই তিনি এভেঞ্জার্সে যোগ দিলেন মানে লিটারেলী সন্ন্যাসব্রতে বর্তী হলেন।

★কদাকার চেহারার হলেও থ্যানোসের প্রতি ফিদা,আশেক নারীর ও কিন্তু অভাব নেই। সমস্ত ইউনিভার্স জুড়ে তার শত শত অবৈধ সন্তান আছে,মানে তো বুঝতেই পারছেন তাদের মায়েরা থ্যানোসকে কম ভালোবাসতো না।😜

★মাথায় কিছুটা ছিট থাকলেও থ্যানোস অন্যদের ক্ষেত্রে একজন আর্মী টাইপ স্ট্রিক্ট রুলস এন্ড রেগুলেশনের দানব। নিয়মের বরখেলাফ করলে আমরা যেমন দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেই,সে ও তেমন। তার নিজের সন্তানদের পর্যন্ত এক্ষেত্রে সে বিন্দুমাত্র ও ছাড় দেয় না। তবে তার শাস্তি এপিক লেবেলের- “নিয়মের বরখেলাপ করসো তো তুমি অক্কা পাইসো,তুমি আমার স্বীয় সন্তান ও হও না কেনো,এটা কোনো ব্যাপার না”।😎

★থ্যানোস আবার তার সন্তানদিগকে ভালো ও বাসে, স্নেহ করে,তাদের প্রতি সে অনেক টাচি ও বটে। ইউনিভার্স জুড়ে তার এতো এতো বাচ্চাকাচ্চা সবাইকে টাইম দিতে হবে,সে একলা একসাথে তো আর সবাইকে টাইম দিতে পারবে না,সব বাচ্চাগুলো ও আবার তার এতো প্রিয় না। তাই সিলেক্টিভ বাচ্চাদের টাইম দিতে সে নিজের অনেকগুলা ক্লোন তৈরী করে। এমনকি সে প্রফেসর-এক্স,ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, গ্যালেক্টাসের মতো সুপার পাওয়ার সত্ত্বার ডিএনএর সাথে নিজের ডিএনএর মিশ্রণ করে আলট্রা-শক্তিশালী ক্লোন ও তৈরী করে।

★মৃত্যুর দেবীর পূজারী হলেও মাঝে মাঝে সে ক্রিস্টমাস ও উদযাপন করে। একবার সে তার মেয়ে গামোরাকে গিফট হিসেবে একটা ক্রিস্টমাস ট্রি ও দিয়েছিলো। (মহাকাশে গাছ ক্যামনে পয়দা হয়!-উপরওয়ালা তোমার কাছে বিচার দিলাম😔)

★থ্যানোস কেবল তার মেহবুবা মৃত্যুর দেবীকে খুশি করতে অর্ধেক-ইউনিভার্স ধ্বংস করে ফেলেছিলো,সে ভেবেছিলো এর ফলে তার জান,পরাণের আধখান মৃত্যুর দেবী তার প্রতি খুশি হবে,তাকে সাবাসী দিবে।কারণ একদিন জনাবা ডেথ আফসুস করে বলেছিলেন- ইউনির্ভাসে পপুলেশন বেড়ে গেছে।

কিন্তু বাস্তবে হলো এর উলটো। মহারাণী থ্যানোসের এরকম কর্মে কোনো পুলকিত রিয়েকশন ই দেখালেন না। রাগে-দুঃখে-ক্ষোভে এবার থ্যানোস প্রতিজ্ঞা করলো সে পুরো ইউনিভার্সকে ই খেয়ে দিবে! (দেখলেন সৃষ্টির সব ধ্বংসাত্মক সমস্যার মূল এই.. থাকুক আর না ই বা বললাম। বললে তো বলবেন- আমি বলছি।😕)

★মৃত্যুর দেবী “মিস্ট্রেস ডেথ” এক রহস্যময় রমণী, ওনার মতি-গতি বুঝা ভার। থ্যানোসের মেহবুবা হয়া সত্ত্বে ও,এটা জানার পর ও থ্যানোস তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে,তাকে পূজা পর্যন্ত করে,তবুও তিনি থ্যানোসের প্রতি কর্ণপাত না করে প্যানসেক্সুয়াল লুচ্চা আধা-পাগলা ডেথপুলের সাথে চুটিয়ে প্রেম করতেন,অনেকবার কিস-টিস ও খেয়েছেন বৈকি।

★থ্যানোস স্বাভাবিকভাবে অমর এই সেন্সে যে তাদের গ্রহের বাসিন্দারা আদি সেলেস্টিয়াল সত্ত্বার বংশধর।তারা অসুখ-বিসুখ,ভাইরাসে মারা যায় না,হাজার হাজার বছর বেঁচে থাকে।আর থ্যানোস যেহেতু সংকরজাত+হাইব্রিড, তাই তার ওপর কোনো বিষ,কালা জাদু,নীলা জাদু কিছুই কাজ করে না।উপরন্তু থ্যানোস মৃত্যুর দেবীর অভিশাপে সত্যিকার অর্থেই ইমরটাল,মৃত্যুপুরীতে তার যাওয়া নিষেধ। মৃত্যুর দেবী তার উপ্রে রাগান্বিত, তার এক্স থ্যানোসকে তিনি কিছুতেই তার বাড়িতে আসতে দিবেন না। অর্থাৎ যাই হোক,থ্যানোসকে গণধোলাই,রামধোলাই,এমনকি মেরে যদি ফালা ফালা ও করা হয় তথাপি ও সে মরবে না।তার ওপর মৃত্যু দেবীর বিশেষ কৃপা থাকায়,সে মানুষকে কার্স ও করতে পারে। তার কার্সে মিঃডেডপুলও আবার ইমরটাল,মানে ডেডপুলও কখনো মারা যাবে না।ডেডপুলকে থ্যানোসের এরকম কার্স দেয়ার কারণ মরে গেলে তো লুচু ডেডপুল আবার তার মাশুকা মৃত্যু দেবীর কাছে চলে যাবে,ওখানে গিয়ে ও চলবে তাদের লুতুরপুতুর,যা থ্যানোস সহ্য করতে পারবে নাহ। (আহ!আজ কপাল খারাপ বলে আমি কার্সটা পাইলাম নাহ! 😔)

★এদিকে কমিক রাইটারদের মাথায় ও সম্ভবত প্যারাসাইট কামড় দিয়েছিল! যে থ্যানোসকে তারা সমগ্র ইউনিভার্সকে দৌড়ের উপ্রে রাখার জন্য ক্রিয়েট করেছিলো তাকেই আবার তার চুরিবিদ্যার জন্য পৃথিবীতে সাধারণ একটা হেলিকপ্টারে করে কসমিক কিউব চুরির সময় স্প্যাইডারম্যানের হাতে ধরা খাইয়ে-ল্যাংড়া ডাকাত,কান পাকা মফিজের মতো সাধারণ আসামীদের সাথে লোহার জেলখানায় পুড়েছিল।(জাস্ট ইমাজিন!ক্যামনে পারলো তারা…😑)

★আসলে কমিকে থ্যানোসের জীবনের মূখ্য উদ্দেশ্য ই হলো তার সবচেয়ে ভালোবাসার ব্যক্তিত্ব,যার পূজা পর্যন্ত করে সে- সেই মৃত্যুর দেবীকে যেকোনো উপায়ে খুশি করা।কিন্তু আদতে কিছুতেই সে মৃত্যুর দেবীর মন পায় না।তবুও সে কলুর-বলদের মতো চেষ্টা চালিয়ে ই যায়,চালিয়ে ই যায়।অনেকটা “প্রেমের মরা জলে ডুবে না” র মতো।

★আমরা থ্যানোসকে যতটা ইগোওয়ালা ভাবি,সে আসলে ততটা ইগোওয়ালা ও নয়। তার সাবকন্সিয়ান্স মাইন্ডে সে চায় অন্যরা তাকে হারাক।এজন্য ই এতো ক্ষমতাধর,অমনিপটেন্ট,অমরণশীল,তার এক চিন্তাতেই সব হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে বরাবর ই হিরোদের কাছে শেষে ঘষা খায়,হেরে যায়। এটা তার মহত্ত্ব। সে যদি না চাইতো তাহলে কেউ ই তাকে হারাতে পারতো না।ইন ডিপ-ডাউন সে মনে করে – সে ইউনিভার্সের সুপ্রীম রুলার হয়ার যোগ্য নয়।সে চায় পূর্বের জীবনের সবকিছু ভুলে একটা সিম্পল জীবন অতিবাহিত করতে। এমনকি এজন্য সে হতদরিদ্র কৃষক হয়ে কৃষিকাজ করার ও আশা পোষণ করে।(আহা!চোখে পানি চলে এলো😭)

★মারভেলের কমিক জগত সহ, কার্টুন,এনিমেশন এমনকি মুভিজগতেও থ্যানোসের দাপট কম নয়। থ্যানোস MCU এর আল্টিমেট, সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ভিলেন। তার আর্বিভাব,ধ্বংসলীলা আর পতনের মাধ্যমে ই MCU র পর্দা ওঠবে। এভেঞ্জার্সদের নিয়ে এপর্যন্ত যত এনিমেশন,কার্টুন তৈরী হয়েছে প্রায় সবগুলোর ই মুখ্য ভিলেন কারেক্টর ছিল সে। মারভেল কমিকসে ভিলেন হয়েও তার ভূমিকা অপরিসীম।তাই তাকে কয়েকবার মেরে ফেলেও আবার ও রিবুট স্টোরি দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মারভেল মাল্টিভার্সের ভারসাম্য রক্ষার জন্য।

– ধন্যবাদ।

সুপারভিলেন অরিজিন লিখেছেনঃ Fahim Hammad

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin