Thursday , 19 July 2018
Breaking News
Home » বলিউড মুভি রিভিউ » প্রত্যেকের জীবনে কোনো কোনো সমস্যা লুকায়িত: Veere Di Wedding – মুভি রিভিউ

প্রত্যেকের জীবনে কোনো কোনো সমস্যা লুকায়িত: Veere Di Wedding – মুভি রিভিউ

সোনম কাপুরের মুভি আমি খুব আশা নিয়ে দেখিনা।কারন সোনমের মুভিতে গল্প খুব সাধারন বাট স্টাইলিশ হয়।ঠিক যেমন এই মুভিতে গল্পটা সাধারন আধুনিক পরিবারের হলেও তাদের পোশাকআশাক গুলো ছিলো পার্ফেক্ট। মেয়েরা যেখানে গিয়েছে সেখানকার সাথে পার্ফেক্ট এডজাস্টমেন্ট। সেটা হোক শপিং,পার্টি,ট্রাভেল,সুইমিংপুল,বিয়েবাড়ি কিংবা সাধারন কোনো সময়। শুধু কস্টিউম এর জন্য মুভিকে ৫ এ ৪.৭ পয়েন্ট দেওয়া যায়। ডায়লগ আর গালিগালাজের জন্য ৫ এ ৩…😂 চার ডিজিটের সেই বিশেষ ইংলিশ গালির সঠিক প্রয়োগ সোনম আর কারিনা বেশ ভালোভাবেই করেছে।

সাওরা ভাস্কর মেয়েটা এত বোল্ড ক্যারেকটার প্লে করবে আমি ভাবতেও পারিনি।নীল বাত্তে সান্নাটা,রানঝানা ও প্রেম রতন ধন পায়ো তে দেখা পাশের বাড়ির মেয়েটাকে এতটা বোল্ড মেনে নিতে একটু সময় লাগছে… 🙈🙊🙊
অভিনয় বরাবরের মতোই অসাধারন।

Veere Di Wedding

Veere Di Wedding মুভি রিভিউ

গল্প ভালই ছিলো বলতে পারেন জিন্দেগী না মিলেঙ্গি দোবারা’র ফিমেল ভার্সন। মেয়েদের গ্রুপে কি হয় তার সবই দেখিয়েছে মুভিতে। চারজন বান্ধবীর চারটি আলাদা আলাদা লাইফস্টাইল। প্রত্যেকের জীবনে কোনো কোনো সমস্যা লুকায়িত।
কিন্তু কারিনার বিয়ে উপলক্ষে সবাই এক হয় এবং সবার জীবনের সমস্যা গুলো এক হয়।ফ্যামিলির স্যাপারেটেড হওয়ায় ডিপ্রেশনে ভোগা কারিনার সাথে বাকিরা ঝামেলায় লিপ্ত হয়। তারা কি পুরনো বন্ধিত্ব আবার এক করতে পারে? ভাঙ্গা পরিবারকে এক করতে পারে?জানতে হলে দেখতে পারেন মুভিটা…

অভিনয় আর কি! অভিনয়ের স্কোপের চেয়ে মুভমেন্ট আর এক্সপ্রেশনের খেলাই বেশি।ছেলেগুলো কে আনকোরা লেগেছে। মূল যারা তাদের কথায় আসি..
কারিনার এক্সপ্রেশন ও সাদামাটা চুলের স্টাইল দেখে বিবাহিতা আন্টির উপর বারবার ক্রাশ খাওয়া যায়। সোনম পার্সোনালি পছন্দ হওয়ার পরও কিছু কিছু জায়গায় বিরক্তিকর লাগছে।😞
স্বাস্থ্যবান মেয়েটির বলা অর্গাজম এর হিন্দি ট্রান্সলেট “চরম সুখ..সুখ বেবি সুখ” শুনে বেশ আনন্দ পেয়েছি। সাওয়ার অভিনয় নিয়ে নতুন করে বলার নেই কিছু।

গান বলতে শুধু “Teerafan” গানটা ছাড়া বাকি গানগুলো তেমন ভালো লাগেনি। গান গুলোর দিকে আরেকটু মনোযোগ দিলে মুভিটা আরো বেশি বিসনেজ করতে পারতো বলে মনে হয়েছে। কোরিওগ্রাফি পার্ফেক্ট তবে পরিচালনা একটু সাধারন মনে হয়েছে।আরো ভালো পরিচালক কে নিতে পারতো প্রযোজকরা। যাকগে সেটা তাদের ব্যাপার!
তবে হলিউড স্টাইলে বানানো মুভি হওয়ায় অনেকের মেনে নিতে কষ্ট হবে।(সেক্স এন্ড দ্যা সিটির বলিউড ভার্সন)। কারন প্রচলিত ধ্যান ধারনার বাইরে গিয়ে তারা কিছু জিনিস দেখিয়েছে।
ভালো বন্ধুত্ব পরিবারের চেয়ে কম কিছু না এটা স্পষ্ট এখানে। অবশ্যই এটা পজেটিভ দিক।

ছেলেরা গ্রুপ হয়ে যা করে মেয়েরাও তেমনই করে। এটা দেখাতে গিয়ে তারা রোষানলে পরেছে। ওইযে কথা আছে ছেলেরা করলে আধুনিকতা আর মেয়েরা করলে বেহায়াপনা। প্রচলিত ট্যাবো টা তারা ভাঙ্গতে চেয়েছে এবং পেরেছে।প্রথম দিনেই রেকর্ড গড়েছে। প্রথম নারীপ্রধান সিনেমা হিসেবে এটি দুই ডিজিটের ১০+ কোটি রুপি ঘরে তুলেছে। দুইদিনে সম্ভবত ২০+ কোটি রুপি। তাই তারা সফল।

মুভিতে বন্ধুত্বের পাশাপাশি যে জিনিসটা বেশি ভালো লাগছে তা হলো “পরিবার স্যাপারেটেড হলে তার নেগেটিভ ইফেক্ট সন্তানদের উপরই পরে”
আর ওয়েস্টার্ন কালচারে বড় হলে প্রচলিত সামাজিক ধ্যানধারনা ও রীতিনীতি মেনে নেয়া খুব কঠিন।আর এটা জোর করে চাপানো আমাদের স্বভাব!
একবার পরিবার স্যাপারেটেড হলে এতটাই ডিপ্রেশনে ভুগতে হয় যে নতুন করে কোনো পরিবার কে একসেপ্ট করা অত্যন্ত কষ্টকর কিন্তু অসম্ভব কিছু না।”

রোযা রেখে মুভিটা না দেখাই ভালো।কিছুটা হলেও রোজা হালকা হবে।

এমন বোল্ড সিনেমা অনেকসময় কিছু সামাজিক মেসেজ দেয় তা আমরা ধরতে পারিনা। এখানে যা আছে তা কমেডির কারনে হারিয়ে গেছে।
এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে দেখলে সমস্যা নাই, তবে নারী বিদ্বেষী মন নিয়ে দেখলে যথেষ্ট সমালোচনার সুযোগ পাবেন।
পার্সোনাল রেটিং:৭/১০

হ্যাপি ওয়াচিং✌

মুভি রিভিউ লিখেছেনঃ Humayun Kabir

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

About Admin