আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা ‘কুম্ভ’ তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। ‘কুম্ভ’ তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Aquarius” নামে পরিচিত। ল্যাটিনে এর অর্থ “পানি বহনকারী”।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৫ (সিংহ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৭ (তুলা তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৮ (বৃশ্চিক তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৯ (ধনু তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ১০ (মকর তারকামণ্ডল)

অ্যাকুয়ারিয়াসের গল্প গ্রিক মিথলজির গ্যানিমিডের (রাজা ট্রোসের পুত্র) সাথে তুলনা করা হয়। বলা হয়, গ্যানিমিড ছিলো ট্রয়ের সবচেয়ে সুন্দর যুবক। সে মাউন্ট ইডার পাশে ভেড়া চরাতো। একদিন ভেড়া খুঁজতে বের হলে সে দেবরাজ জিউসের চোখে পড়ে।
.
মূল কাহিনীতে যাবার আগে একটু বলে নিই,, প্রাচীন গ্রীসের সেই সময়টায় ১৩-১৯ বছর বয়সী সুন্দর বালকদের বয়স্ক পুরুষদের দ্বারা যৌনদাস হিসেবে গ্রহণ করা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ছিলো সমাজে। (টীকাঃ আমাদের দেশেও এককালে এই প্রথা ছিলো। বড় বড় জমিদারেরা সুন্দর চেহারার কিন্তু আর্থিকভাবে অসহায় বালকদের পেলে নিজেদের যৌনদাস হিসেবে কিনে রেখে দিতেন। প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ এই বিলুপ্ত বর্বর প্রথাটাকে নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ সিনেমাটা।)
.
যাই হোক, জিউস তাকে দেখা মাত্রই ক্রাশ খায় ও তাকে নিজের কাছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়! জিউস এক বিশাল ইগলের ছদ্মবেশ নিয়ে ইডা পর্বতের কাছ দিয়ে উড়ে গ্যানিমিডকে তুলে অলিম্পাসে ফিরে আসে। তারপর সে গ্যানিমিডকে তাকে ভালোবাসতে ও সেবা করতে বাধ্য করে।
.
এভাবে গ্যানিমিড জিউসের দাস হয়ে যায়। জিউস ভাবে, আমি যেহেতু বাবার কাছ থেকে ছেলেকে নিয়ে আসলাম, তার বদলে কিছু দেয়া উচিত! তাই সে পৃথিবীর সেরা ঘোড়াগুলোর একটা পাল উপহার দিলো তাকে। এগুলোর দাম গ্যানিমিডের বাবার কাছে ছিলো তার পুত্রের চেয়েও বেশি! তাই তার বাবা আর কাউকে কিছু বলার সাহস পেলো না।
.
গ্যানিমিড তার এ কাজ নিয়ে মোটেও খুশি ছিলো না। সে একদিন সুযোগ পেয়ে সব অমৃত, পানি, মদ ফেলে দিলো! সে জিউসের ব্যক্তিগত পানপাত্র বাহক হিসেবে থাকতেও অস্বীকৃতি জানালো। বলা হয়, তার ফেলে দেয়া পানি-মদের কারণে পৃথিবীতে টানা অনেক দিন বৃষ্টিপাত হয়, অনেক অঞ্চল বন্যায় ভেসে যায়।
.
জিউস ভাবলো এজন্য সে গ্যানিমিডকে শাস্তি দিবে। কিন্তু অনেক ভেবে দেখলো, সে নিজেও তার সাথে তেমন ভালো আচরণ করেনি। তাই তাকে শাস্তির পরিবর্তে তারার মাঝে অমর করে রাখার সিদ্ধান্ত নিলো।
.
.
অন্য কিছু বর্ণনায়, একে প্রমিথিউসের ছেলে ‘ডিউক্যালিওন’-এর সাথে তুলনা করা হয়।
.
ব্যবিলনীয় মিথলজিতে, একে ‘গুলা’ (যার অর্থ- মহান) ডাকা হয়। মিশরীয় মিথলজিতে, একে ‘নীল নদের দেবতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
.
অ্যাকুয়ারিয়াসকে সাধারণত এক যুবকের জগ থেকে মাছের মুখে পানি ঢালার দৃশ্য দ্বারা চিত্রায়িত করা হয়।
.
.
কুম্ভ তারকামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্য
———————————
অবস্থান দক্ষিণ আকাশে। আকাশের এ অংশটাকে সাগর বলা হয়। কেননা, এখানে অবস্থিত সব তারামণ্ডলেরই নাম জলের সাথে সম্পর্কিত। যেমন, Pisces (মাছ), Eridanus (নদী), Cetus (তিমি)। টলেমী ছিলেন কুম্ভের আবিষ্কারক।
.
উল্লেখযোগ্য তারাগুলো হলোঃ
সাদালসুড (বিটা অ্যাকুয়ারি), সাদালমেলিক (আলফা অ্যাকুয়ারি), স্কাট (ডেলটা অ্যাকুয়ারি) ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

TankiBazzমিথলজি
আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা ‘কুম্ভ’ তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। ‘কুম্ভ’ তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Aquarius” নামে পরিচিত। ল্যাটিনে এর অর্থ “পানি বহনকারী”। তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন...