আজকের পর্বে আমরা ‘মীন’ তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। ‘মীন’ তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Pisces” নামে পরিচিত। ল্যাটিনে এর অর্থ ‘মাছ’। এর অবস্থান উত্তরাকাশে।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৫ (সিংহ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৭ (তুলা তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৮ (বৃশ্চিক তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৯ (ধনু তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ১০ (মকর তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ১১ (কুম্ভ তারকামণ্ডল)

মীন মূলত একটি সাধারণ গল্পকেই নির্দেশ করে। এটার শুরু এবং গঠন এক হলেও সমাপ্তি নিয়ে নানা মত আছে।
.
গ্রিক মিথলজিতে আমরা টাইফনের সাথে অন্য দেবতাদের নানা সমস্যার কথা জেনেছি। তার এক হাজার ড্রাগনের মাথা ছিল, যাদের চোখ থেকে আগুন বেরোতো। গায়া ও টারটারুস ছিল এর জন্মদাতা। সে গ্রিক মিথলজির সবুচেয়ে ভয়ংকার দেবতা। সে অলিম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। সে সব দেব-দেবীকে হুমকি দিয়েছিলো। তার ভয়ে সব দেব-দেবী নিজেদের ঘরবাড়ি ছেঁড়ে পালিয়েছিলো! এই সিরিজের আগের কিছু পর্বেও আমরা পড়েছি – টাইফনের ভয়ে পোসাইডন তার মেয়েদের কর্কটের হাতে রেখে পালিয়ে যায়, এক বনদেবতা টাইফনের ভয়ে নদীতে ঝাঁপালে তার নিম্নাঙ্গ মাছের মতো হয়ে যায় ইত্যাদি। এখানেও এমনই একটি কাহিনী আছে। টাইফন আফ্রোদিতি ও তার ছেলে এরোসকে আক্রমণের জন্য আসে।
.
এখান থেকেই গল্পটির সমাপ্তি এর ভিন্নতা শুরু। কেউ বলেন, আক্রমণ দেখে পালানোর সময় আফ্রোদিতি ও এরোস মাছের রূপ নিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে সহজেই নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে যায়। আরেকটি বর্ণনায় তারা মাছ হয় ঠিকই, তবে আরো দুটি মাছ এসে তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিরাপদ যায়গায় নিয়ে যায়। তাদের সাহায্যের কারণে সম্মানস্বরূপ তাদেরকে তারার মাঝে স্থান দেয়া হয়। দুটোরই বেশ ভালো গ্রহণযোগ্যতা আছে।
.
দ্বিতীয় বর্ণনাটির ক্ষেত্রে কিছু কথাও আছে। টাইফনের আক্রমণের সময় শুধু আফ্রোদিতি বা এরোস নয়, আরো অনেক দেব-দেবীই অনেক পশু-পাখির রূপ নিয়ে পালিয়েছিলো। তো, আমরা সহজেই এটা ভাবতে পারি যে, হয়তো যে যার রূপ নিয়ে পালিয়েছিলো, অথবা যার যার সাহায্য নিয়েছিলো, এদের সবাইকেই তারামণ্ডলে অমর করা হয়েছে। আসলে তা করা হয়নি। আবার, সকল দেবতার কাউকে অমর করে রাখার ক্ষমতাও ছিলো না। যেমন দেবতা অ্যাপোলো পালিয়েছিলো কাকের বেশে, ডায়না বিড়ালের বেশে, জুপিটার ভেড়ার বেশে! এদের কেউই তারামণ্ডলে স্থান পায়নি। মাছ দু’টোকে ভাগ্যবানই বলতে হুবে এক্ষেত্রে!
.
মীনের মিথগুলো সবসময় মাছকেই নির্দেশ করেছে। অনেক বর্ণনায় বলা হয়, মাছ দু’টির লেজ একত্রে লাগানো ছিলো, যাতে তারা একে অন্যকে না হারিয়ে ফেলে! মীন তারামণ্ডলও একই কথা বলে, এতেও দুটি মাছের লেজ লাগানো!
.
.
সিরিয়ান মিথলজিতেও প্রায় একই রকম একটি গল্প আছে। এখানে মাছ দু’টোর নাম ছিল ‘ইকথিস’। তারাও আফ্রোদিতি ও এরোসকে উদ্ধার করে। তবে আরেকটা গল্পে বলা হয়, একদা ইউফ্রেটিস (ওই এলাকার বিখ্যাত নদী, অনেক গল্পেই এর কথা আছে) নদীতে একটা বিশাল, রহস্যময় ডিম দেখা যায়। ‘আফ্রোস’ ও ‘বাইথোস’ নামে দুই মাছ এই ডিমটা পায় ও তীরে নিয়ে আসে, যাতে এটা ফুটে কিছু বের হতে পারে। বলা হয়, ‘অ্যাশটার্টে’ (আফ্রোদিতির সিরিয়ান রূপ) এ ডিমের ভিতর ছিলো। তাই অনেকে মীনকে আঁকার সময় মৎস্যমানব হিসাবে আঁকে।
.
সব গল্পই আফ্রোদিতিকে ইউফ্রেটিস নদী থেকে বাঁচানোর ঘটনা নিয়ে। এখানে, মাছের উপকারী দিকটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এ গল্প আবার সিরিয়ানদের মাছ খাওয়ার ব্যাপারে অনীহার দিকটাকেও কিছুটা ব্যাখ্যা করে।
.
.
অনেক ক্ষেত্রে খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সাথেও এই তারামণ্ডলের কিংবদন্তীকে মেলানো হয়। যিশুকে কখনো কখনো তাঁর ‘রুটি এবং মাছের অলৌকিক গল্প’-এর সাথে মিলিয়ে মাছ দিয়ে প্রতীকী রূপে প্রকাশ করা হয়। সেখান থেকেও অনেক ক্ষেত্রে যিশুকে মীন তারামণ্ডলের সাথে মেলানো হয়।.
.
তবে যে যাই বলুক, মীন তারামণ্ডলটিকে নিয়ে মিথের উৎপত্তি আসলে ব্যবিলনীয়দের হাতে। তারা আকাশে লেজ দড়ি দিয়ে বাঁধা এমন দুটি মাছ দেখে এরূপ গল্পের প্রচলন করে।
.
.
এই তারামণ্ডল রোমান মিথলজিতে ভেনাস ও কিউপিডকে (গ্রিক মিথলজিতে, আফ্রোদিতির ছেলে এরোস) নির্দেশ করে। যারা টাইফনের হাত থেকে বাঁচতে মাছের রূপ নিয়েছিলো।
.
.
মীন তারকামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্য
———————————————-
২য় শতাব্দীতে টলেমী একে আবিষ্কার করেন। এর উল্লেখযোগ্য তারাগুলো হলোঃ কুলুত নুনু (ইটা পিসিয়াম), গামা পিসিয়াম, ওমেগা পিসিয়াম ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

TankiBazzমিথলজি
আজকের পর্বে আমরা ‘মীন’ তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। ‘মীন’ তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Pisces” নামে পরিচিত। ল্যাটিনে এর অর্থ ‘মাছ’। এর অবস্থান উত্তরাকাশে। তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব -...