আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা বৃশ্চিক তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। বৃশ্চিক তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Scorpius” নামে পরিচিত।

a

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৪ (কর্কট তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৫ (সিংহ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৬ (কন্যা’ তারকামণ্ডল)

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৭ (তুলা তারকামণ্ডল)

বৃশ্চিক তারামণ্ডলের গল্পটা স্করপিও বনাম অরায়ন (কালপুরুষ)-এর যুদ্ধকে নিয়ে। অরায়ন বা কালপুরুষ ছিল পোসাইডনের (সমুদ্রদেবতা) ছেলে। কালপুরুষ বিরাট শিকারি ছিলো, মাঝে মাঝে সে দেবতাদেরও বিরক্ত করতো।
.
সে ইওসকে ভালোবাসতো। ইওস ছিলো ভোরের দেবী। ইওসের খোঁজ না পেয়ে অরায়ন খুব রেগে ছিলো। পৃথিবীর সব প্রাণীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলো সে। এমনকি শিকারের দেবী আর্তেমিসকেও সে চ্যালেঞ্জ করেছিলো! অন্য কেউ হলে তার অবস্থা আর্তেমিস খারাপ করে দিতো, কিন্তু আর্তেমিসের অরায়নের উপর প্রচণ্ড ক্রাশ ছিলো, তাই কিছু করেনি। সে ভাবতো, এগুলো অস্থির অরায়নের দুষ্টুমি!
.
অরায়নের ওই বড় বড় কথা ভালো লাগলো না সূর্যদেবতা অ্যাপোলোর (আর্তেমিসের ভাই)। জিউসমাতা গায়ারও ভালো লাগলো না। অ্যাপোলো ও গায়া মিলে অরায়নকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিলো। দু’জনে মিলে স্করপিও নামে একটা বিশাল বিচ্ছু তৈরি করলো। তার সাথে লাগিয়ে দিলো অরায়নের যুদ্ধ। স্করপিওর সাথে যুদ্ধের সময় নিজের হার ঘনিয়ে আসায় অরায়ন নিজের বড় বড় কথা ভুলে গিয়ে পালাতে দৌড় দিলো। স্করপিও-ও তার পিছু ধাওয়া করলো।
.
এতোটুকুর পর সমাপ্তিটা দুইভাবে দেয়া যায়। একটায়, স্করপিও অরায়নকে তাড়া করে হত্যা করে। আরেকটায়, আর্তেমিস তার ক্রাশ অরায়নকে বাচাঁতে তীর ছুঁড়তে শুরু করলে, ভুলে সে তীরে অরায়নেরই মৃত্যু হয়! তার মানে, দুই ক্ষেত্রেই অরায়নের মৃত্যুই হয়।
.
জিউস পুরো খেলাটা নিজে দেখে। যুদ্ধ শেষে স্করপিও ও অরিয়ন – দু’জনকেই আকাশে তুলে রাখে। তাদেরকে ১৮০ ডিগ্রি দূরে রাখে, যেন পরে কখনো মারামারি না লাগতে পারে!
.
আরেকটি ভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, স্করপিও হয়তো মারতে পারেনি অরায়নকে। তাদের লড়াই এখনো চলছে। অরায়ন এখনো তাকে ভয় পায়, তাই আকাশে স্করপিও এলেই অরায়ন পালায়! (১৮০ ডিগ্রি দূরে – উলটো অবস্থানে অবস্থিত বলে।)
.
আরেকটি বর্ণনায় এমনও পাওয়া যায় যে, আর্তেমিস অরায়নের মন জোগানোর জন্যে নানান উদ্ভট কাজ করতো। তার এসব কাজে বিরক্ত হয়ে অরায়ন এক পর্যায়ে তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে আর্তেমিসকে ভালোবাসে না, বাসবেও না! তখন রেগে আর্তেমিসই স্করপিওকে পাঠায় তাকে মারতে। যাতে সে আর কারো না হতে পারে।
.
আগে লিবরা বা তুলা তারামণ্ডলকে স্করপিওর দাঁড় বলা হতো। কিন্তু, খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীতে রোমানরা একে আলাদা করে আরেকটি তারামণ্ডলের নামকরণ করে।
.
.
বৃশ্চিক তারকামণ্ডল নিয়ে কিছু তথ্যঃ
—————————————-
এর অবস্থান দক্ষিণ আকাশে। ২য় শতাব্দীতে টলেমী এটা আবিষ্কার করেন। এটাও অনেক পুরনো তারামণ্ডল। আনুমানিক ৫০০০ বছর আগে সুমেরীয়রা একে ‘গির-টাব’ (বিচ্ছু, সংস্কৃতে ‘বৃশ্চিক’) ডাকতো। এটার অবস্থান মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মাঝামাঝি। এটা আকাশের ৩৩তম বৃহৎ তারামণ্ডল।
.
এর উল্লেখযোগ্য তারাগুলো হলোঃ আন্তারেস (আলফা স্করপি), শাউলা (ল্যাম্বডা স্করপি), আক্রাব (বিটা স্করপি) – ইত্যাদি।

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

TankiBazzমিথলজিabout Constellations
আগের পর্বগুলোতে আমরা বেশ কিছু তারকামণ্ডলের মিথলজি সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা বৃশ্চিক তারকামণ্ডল সম্পর্কে জানবো। বৃশ্চিক তারামণ্ডলটি ইংরেজিতে “Scorpius” নামে পরিচিত। তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০১ (মেষ তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০২ (বৃষ তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব – ০৩ (মিথুন তারকামণ্ডল) তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব...