সভ্যতার আদিকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতি নিয়ে কৌতূহলী। রাতে তারাভরা আকাশে তাকালে অবাক হতো। কালো আকাশে মিটিমিটি করা এ বিন্দুগুলো নিয়ে ছিলো তাদের অসীম কৌতূহল। “কী ওগুলো! দেবতাদের কোনো নিদর্শন নয়তো?”

a

গ্রীক মিথলজির মিথ: অ্যারিস বনাম এথিনা

এই কতগুলো আলোকবিন্দুই আবার আকাশে একসাথে কাছাকাছি থেকে তৈরি করে মানুষ-পশু-পাখির আকৃতি বা দেব-দেবীদের নানা চিহ্ন। এভাবে একসাথে থাকা তারাগুলোকে তখন একত্রে বলা হয় তারকামণ্ডল। এসব দেখে মানুষ আরো অবাক হতো। মনে করতো, তাদের দেবতারাই হয়তো নিজেদের চিহ্ন এঁকে গেছেন এ বিশাল আকাশজুড়ে। নিজেদের নানা কথা বলতে চেয়েছেন এর মাধ্যমে। আগে মানুষ আকাশের এই তারা, গ্রহ-উপগ্রহ, তারকামণ্ডল ইত্যাদি নিয়ে নানা কাহিনী বলতো। দেব-দেবীদের জীবন, তাদের বিজয়, শক্তিমত্তা, মহিমা নিয়ে নানা কথাই সেখানে ফুটে উঠতো। আর এভাবেই জন্ম হুয়েছে বেশকিছু অসাধারণ পৌরাণিক গল্পের। যদিও এসব মানুষ আর আগের মতো বিশ্বাস করে না। বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার এ যুগে এসবের কোনো ভিত্তিই নেই, কিন্তু ভালোভাবে দেখলে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এসব গল্পের প্রবেশ ও গ্রহণযোগ্যতা দেখা যায়। বিশেষ করে রাশি নিয়ে ভবিষ্যতবাণীগুলো বহু মানবমনে এখনো অনেক প্রভাব ফেলে। রাশিফল নির্ণয়ে ১২টি তারকামণ্ডল ব্যবহৃত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার আগে রাশি দেখে নেন- এমন লোকের সংখ্যা পৃথিবীতে নেহায়েত কম নয়। বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকার বিশেষ গুণ নিয়েও আমরা প্রায়ই কথা বলতে শুনি। এগুলোর কোনো যৌক্তিকতা নেই, কিন্তু এদের নিয়ে চমৎকার কিছু গল্প তো শুনাই যায়!

তাই আমরা তারকামণ্ডল নিয়ে প্রচলিত নানা কাহিনী জানার ক্ষেত্রে আগে রাশিফল নির্ণয়ে ব্যবহৃত ১২টি তারকামণ্ডলী নিয়ে তৈরি পৌরাণিক কাহিনীগুলো আগে জানবো। এই পর্বে থাকছে ‘মেষ’ রাশির কথা।

মেষ:

‘মেষ’ রাশির তারকামণ্ডলের ইংরেজি নাম ‘এরিস (Aries)’। এরিস নিয়ে দুটি গল্প প্রচলিত আছে। গ্রিক মিথলজিতে ‘আরেস (Ares)’ নামে এক দেবতা আছে। ‘আরেস’-কেই কেউ কেউ ‘এরিস’ বলে থাকেন। তাকে নিয়ে আছে একটি গল্প, আরেকটি হলো ‘এরিস দ্য র‍্যাম’ এর মিথ।

গ্রিক মিথলজিতে ‘আরেস’ যুদ্ধের দেবতা। তার ‘অ্যাথেনা’ নামে এক বোন ছিলো। ‘অ্যাথেনা’-ও যুদ্ধের দেবী ছিলো, কিন্তু সে তার ভাইয়ের মতো ছিলো না। সে ছিলো বুদ্ধিমতী, চতুর ও ভদ্র স্বভাবের; যেখানে তার ভাই ছিলো ধ্বংসাত্মক ও রক্তপিপাসু। গ্রিকরা ‘অ্যাথেনা’ ও ‘আরেস’-কে যুদ্ধের দুইটা দিক হিসেবে বিবেচনা করতো।
যুদ্ধের একদিকে যেমন একটা ভালো ও কার্যকর পরিকল্পনা থাকে, অন্যদিকে থাকে বিশৃংখলা, গোলযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ। সব যুদ্ধেরই একটা দিক থাকে পরিকল্পিত, আগে থেকে সবকিছু হিসাব করা; আরেকটা থাকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইতিহাসও তাই বলে।

আরেসকে দেখা হতো যুদ্ধের দ্বিতীয় রূপটায়, ভয়ংকর রক্তপিপাসু হিসেবে। তার ত্রাস, আগ্রাসন, সীমাহীন নিষ্ঠুরতার কথা আমরা অনেকেই জানি। গ্রিক মিথলজির অনেকেরই আঘাত বা মৃত্যুর কারণ ছিল তার এরূপ আচরণ। বলা হয়, এরূপ চরিত্রেরই প্রভাব আছে মেষ রাশির জাতক/জাতিকাদের মধ্যে। আরেসের মতো অতো বেশি না হলেও তারা অনেক সাহসী, রাগী, নিষ্ঠুর ও ধৈর্য্যহীন হয়।

‘এরিস দ্য র‍্যাম’ – একটা তারকামণ্ডল, যা পৃথিবী থেকে দেখা যায়। গ্রিকদের মতে, একসারি তারা ভেড়ার মাথার মতো আকৃতি তৈরি করেছে। এ বিষয়ক পৌরাণিক কাহিনীটা এসেছে জেসন ও ‘দ্য আরগোনটস’ এর গল্প থেকে। গল্পে বলা হয় – আরগোনটসরা ‘এরিস’ নামে একটা ভেড়ার পশম সংগ্রহ করতো, যার রঙ ছিলো সোনালি। জেসন ভেড়ার সোনালি পশমের খোঁজে বেরিয়েছিল। তার এরিসের পশম লাগবে এটা প্রমাণ করতে যে, সে-ই ললকাসের যোগ্য ও ন্যায্য রাজা। কেননা, তার চাচা পেলিয়াস অন্যায়ভাবে রাজ্যের সিংহাসন দখল করে নেয় ও জেসনের বাবাকে কারাগারে বন্দি করে। জেসনের চাচা জেসনকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলো। এমনকি তার মা-ও ভেবেছিলো যে, সে মরে গেছে। তবে সে ঐদিন মরেনি, বেঁচে গিয়েছিল। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে সে তার হারানো রাজত্ব নিতে এলে তাকে কিছু চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়, যা প্রমাণ করবে যে, সে এই সিংহাসনের যোগ্য উত্তরাধিকারী। ভেড়ার সোনালি পশম জোগাড় করা ছিলো সেগুলোর মধ্যে একটি।

যদিও ‘এরিস দ্য র‍্যাম’ ও গ্রিক যুদ্ধদেবতা ‘আরেস’-এর নাম কাছাকাছি, তবে তাদের মধ্যে আর কোনো মিল নেই। দুটো চরিত্রই গ্রিক মিথলজির। আরেস দেবতা হওয়া সত্ত্বেও তাকে কুকুর বা কোনো প্রাণী দিয়ে চিত্রায়িত করা হয়েছে বেশিরভাগ জায়গায়। এমনকি সে নিজেও পশুর রূপ নিয়ে পৃথিবীতে আসতো। তাকে নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে যে, সে আফ্রোদিতির (গ্রিক সৌন্দর্যের দেবী) প্রেমে পড়েছিলো, তবে আফ্রোদিতি পছন্দ করতো অ্যাডোনিস নামের এক সুদর্শন যুবককে। তাই রেগে আরেস একদিন গৃহপালিত শুকরের রূপ নিয়ে অ্যাডোনিসকে আক্রমণ করে। তার অনেক কাহিনীয় রোমান মিথলজির মার্সের সাথে মিলে। তাই তাদের সাধারণত একই দেবতা মনে করা হয়।

মেষ/এরিস – তারকামন্ডল নিয়ে কিছু তথ্যঃ

এটি ৩৯তম বৃহত্তম তারকামণ্ডল এবং এর তারাসমূহের মাঝে ৪টি মাত্র উজ্জ্বল তারা আছে। এগুলো হলোঃ হামাল, শেরাটন, মেসারথিম ও ৪১-আরিটিস। এ মণ্ডলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা হলো ‘হামাল’।

 

লিখেছেন – আজমাইন তৌসিক ওয়াসি

Searches related to Twelve Olympians (১২ ক্ষমতাধর অলিম্পিয়ান)
olympian gods and goddesses, 12 olympians family tree, olympian gods family tree, greek gods and goddesses list of names and powers1, greek gods and goddesses names8, hestia, zeus, hephaestus

তারকামণ্ডলীদের নিয়ে পৌরাণিক কাহিনী: পর্ব - ০১TankiBazzমিথলজিabout Constellations
সভ্যতার আদিকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতি নিয়ে কৌতূহলী। রাতে তারাভরা আকাশে তাকালে অবাক হতো। কালো আকাশে মিটিমিটি করা এ বিন্দুগুলো নিয়ে ছিলো তাদের অসীম কৌতূহল। 'কী ওগুলো! দেবতাদের কোনো নিদর্শন নয়তো?' গ্রীক মিথলজির মিথ: অ্যারিস বনাম এথিনা এই কতগুলো আলোকবিন্দুই আবার আকাশে একসাথে কাছাকাছি থেকে তৈরি করে মানুষ-পশু-পাখির আকৃতি বা দেব-দেবীদের নানা...