ছোটোবেলায় পড়েছিলাম দেবী বইটা। মিসির আলির’র সিরিজের পড়া প্রথম বইও ছিলো এটা। তাই, বইটির জন্যে অন্যরকম একটা অনুভূতি জমা আছে। তো, যখন শুনলাম যে দেবী এইবার বড় পর্দায় আনার জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে – তখন থেকেই মুভিটার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিলো।
Debi full movie download filmywap, Debi full movie download hd, Debi full movie free download, Debi full movie download, Debi movie download

প্রথমেই বলি ছবির পরিচালক অনম বিশ্বাস’র কথা। তিনি বইটার যথার্থ ব্যবহার করেছেন। সংলাপ, ডিরেকশন – সব কিছু অনেক গুছানো। পরবর্তী ছবি নিশিথীনি (যদি বানানো হয়) তার দ্বারায় পরিচালিত হোক সেটাই চাই।

রানু’র চরিত্রে জয়া আহসান – ” একাই একশো ” ! এই কথাটা পুরোপুরি মিলে যায় মুভির অন্যতম প্রযোজক/অভিনেত্রী জয়া আহসান’র সাথে। বইয়ে রানু চরিত্র টা পড়ে যেইরকম ইমাজিনেশোন দাঁড় করেছিলাম সেটার থেকেও অনেক বেটার পারফরমেন্স তিনি মুভিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। রানুর সরলতাময়ী রূপ যেনো পদে পদে দেখলাম জয়ার চেহারায়।

এই দেবী চরিত্রে অন্য কাউকে ভাবা যায় না। দেবী চরিত্রটি এবং জয়া আহসান এই দুইজন যেনো একে অপরের পরিপূরক। অনেক ন্যাচারাল অভিনয় ছিলো তার। ” দু মুঠো বিকেল ” গানটিতে জয়ার মধ্যে কিশোরী ভাব/সরলতা দেখে আমি রীতিমতো মুগ্ধ। একেই বলে জাত অভিনেত্রী। এই মুভির জন্যে জাতীয় পুরষ্কার পেলেও আমি অবাক হবো না। তিনি সেটা ডিজার্ভ করেন। নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

মিসির আলি’র চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী – আমার লিটারেরি একটু বেশিই এক্সপেকটেশন ছিলো এই ক্যারেক্টার টাহ্ নিয়ে। বইয়ের যেমন পড়ে এসেছিলাম। যেইরকম গাম্ভীর্যপূর্ণ চরিত্র আশা করেছিলাম সেইরকম খুব একটা না হলেও ন্যাচারাল অভিনয় টাহ্ পেয়েছি। এটা ভালো লেগেছে। অভিনয়ে নিজস্বতা ছিলো।

তবে, আসাদুজ্জামান নূর এই চরিত্র করলেও খুব একটা খারাপ হতো না বলে আমার ব্যক্তিগত মতামত। তবে, আমি চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয়ে হতাশ নই। পরবর্তী মিসির আলি সিরিজের ছবিতে তার অভিনয় দেখার জন্যে অপেক্ষা শুরু হলো এখন থেকে।

নীলু চরিত্রে শবনম ফারিয়া – হুমায়ূন আহমেদ রচিত বেশ কয়েকটি নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। সুতরাং, তার লেখার বই নিয়ে অবশ্যই একটা অভিজ্ঞতা ছিলো। জয়া আহসান সেটাই কাজে লাগিয়েছে। নীলু’র চরিত্রে শবনম ফারিয়াকে একদম মানিয়ে গেছে। তবে, যখন আমি প্রথমে শুনেছিলাম যে নীলু’র ক্যারেক্টার টাহ্ তিনি করবেন তখন একটু দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু, মুভির লাস্ট সিনে সেই সামান্য দ্বিধাতাও নিমিষেই চলে যায়। সেই সিন টাহ্ কী ছিলো সেটা সারপ্রাইজ থাকুক। আপনারা হলে গিয়ে নিজে আবিষ্কার করবেন।

সাবেত’র চরিত্রে ইরেশ যাকের – এই মানুষটা মুভির কোনো ট্রেইলার, টিজার, প্রচারণায় ছিলো না। তাই, পর্দায় তাকে দেখা একটু সারপ্রাইজিং ছিলো। তবে, আমার কাছে মুভির রানু’র পর এনার অভিনয়ই বেশি ভালো লেগেছে। অল্প সময়ের জন্যে ছিলেন কিন্তু চরিত্রের জন্যে যেই ধরনের এগ্রেশন ভাব এবং একই সাথে সরলতার ভাব থাকবে চেহারায় – দুটোই সমানতালে ছিলো।

কেনো ছবিটি দেখবেন?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কে একটা নতুন মাত্রা এনে দিবে এই ছবিটি। খুব যত্ন নিয়ে প্রতিটি দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। চোখে আরাম দিবে। একদম মুভির মধ্যে মিশে যাবেন। একটুও বাড়িয়ে বলছি না। আর এইজন্যে অবশ্যই পরিচালক অনম বিশ্বাস কে হ্যাটস্ অফ এত সুন্দর ভাবে প্রেজেন্ট করার জন্যে।

আপনি যদি হরর মুভির ফ্যান হোন তাও এই মুভিটা ভালো লাগবে। কিছু দৃশ্য সত্যিই ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। একটা দৃশ্যে তো হলের সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলো।

এই ছবি মূলত তিন ধরনের দর্শক দেখবেন। এক – যারা দেবী বইটি পড়েছেন। এইবার তারা এই বইটির মুভি ভার্শন দেখতে যাবেন। দুই – যারা বইটা পড়েননি তারা। তিন – যারা চঞ্চল চৌধুরীর আয়নাবাজি দেখে উনার ফ্যান হয়েছেন। জয়ার ভক্ত এবং শবনম ফারিয়ার’র নাটক-টেলিফিল্মের ভক্ত যারা তারা যাবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কোন দলে পড়লেন?

আচ্ছা এখন কেউ যদি বলেন যে আমি কোনো দলের মধ্যেই পড়ি নাহ। তাহলে বলবো – আপনি আগে কখনো এই ধরনের ছবি দেখেন নি। অডিয়েন্সদের মন নিয়ে খেলা অর্থাৎ রানু মেয়েটার রহস্য কী? ভবিষ্যৎই বা বলে কিভাবে? মিসির আলি’র নামের মানুষটা কিভাবে এর সমাধান করবেন?

এই সকল প্রশ্ন জানার জন্যে হলেও আপনি হলে চলে আসবেন। আর ঐ যে একটা কথা সবসময়ই বলবো – এই ধরনের ছবি খুব একটা সচরাচর দেখবেন না। এইটা মাইলফলক হয়ে থাকবে বাংলা ছবির।

তবে হ্যা, বইয়ের মতোই হতে হবে মুভিটি এইরকম ভাবলে হয়তোবা ডিসাপপয়েন্ট (এই কথা স্বয়ং মুভির প্রযোজক বলেছেন) হতে পারেন। মুভিটি নিজস্ব গতিতে চলেছে। বইয়ের কাহিনীর সাথে এক অদ্ভুত মেলবন্ধন সৃষ্টি করে এগিয়ে চলেছে।

মিউজিক – এই ছবির সবচেয়ে ভালো ব্যাপার অথবা প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে এর আবহ সঙ্গীত। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর যথেষ্ট রকমের ভালো। যেইরকম থাকলে একজন দর্শক স্যাটিসফাই ফিল হয় ঠিক ততটুকুই ছিলো। কেমন যেনো অদ্ভুত এক জালে বেঁধে ফেলবে আপনাকে। থাকে না কিছু সুর যেটা বারবার শুনতে ইচ্ছে হয়? সেইরকম ছিলো এর আবহ সঙ্গীত

অনুপমের ” দু মুঠো বিকেল ” গানটি আপনাকে কিছুক্ষনের জন্যে সবকিছু ভুলিয়ে দিবে। মনে হবে রোমান্টিক কোনো মুভি দেখছেন। রানু’র ভিন্ন এক রূপ দেখবেন। তবে, আমার কাছে মনে হয়েছে রানু গ্রামের স্মৃতিচারন করার সময়ে ” দোয়েল পাখি কন্যারে ” গানটা দেওয়ার খুব দরকার ছিলো। তাহলে, দর্শকরা রিলাক্স হতো আরেকবার।

পরিশেষে বলতে চাই – বাংলা ছবি দেখুন। স্পেশালি যখন এই ধরণের মুভি যেটাতে সবার আলাদা আলাদা চেষ্টা থাকে, মুভিটাকে ভালো/পারফেক্ট করার প্রতিযোগিতা থাকে তখন সেই ছবিটা অবশ্যই দেখবেন।

মুভি – দেবী
অভিনয়ে – জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, অনিমেষ আইচ, শবনম ফারিয়া।
পরিচালক – অনম বিশ্বাস
পারসোনাল রেটিং – ৮.৩/১০

রিভিউ লিখেছেনঃ Nazim Reza

Search Tag: Debi full movie download filmywap, Debi full movie download hd, Debi full movie free download, Debi full movie download, Debi movie download

TankiBazzবাংলাদেশী মুভি রিভিউDebi full movie download,Debi full movie download filmywap,Debi full movie download hd,Debi full movie free download,Debi movie download
ছোটোবেলায় পড়েছিলাম দেবী বইটা। মিসির আলির'র সিরিজের পড়া প্রথম বইও ছিলো এটা। তাই, বইটির জন্যে অন্যরকম একটা অনুভূতি জমা আছে। তো, যখন শুনলাম যে দেবী এইবার বড় পর্দায় আনার জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে - তখন থেকেই মুভিটার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিলো। প্রথমেই বলি ছবির পরিচালক অনম বিশ্বাস'র কথা। তিনি বইটার যথার্থ...