Guerrilla (2011) একটি মুক্তিযুদ্ধের ছবি মুভি রিভিউ

Kai Po Che

Guerrilla মুভি ইনফোঃ

Movie Name: Guerrilla (2013)
IMDb Rating: 8.2/10
Release date: April 14, 2011 (Bangladesh)
Director: Nasiruddin Yousuff
Budget: 30 million BDT
Music composed by: Shimul Yousuff
Screenplay: Nasiruddin Yousuff, Ebadur Rahman

Guerrilla মুভি রিভিউঃ

1

স্বাধীনতার পর পেড়িয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। বতর্মান প্রজন্ম এখন আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কিংবা স্বপ্ন নিয়ে ভাবে না। “ঐসব অতীত ঘেঁটে কি হবে? ঐসব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি দিলে কি দ্রব্যমূল্য কমবে? চাকরীতে ঘুষ দেয়া লাগবে না? কালকের পরীক্ষায় পাশ করে যাবো? অথবা বিদেশী কাজের অর্ডারটা কি পেয়ে যাবো?” অনেকটা এ ধরণের চিন্তা-চেতনা তাদের মনের মাঝে ঘুরপাক খায়। যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যাবার যে প্রক্রিয়া চলমান, ঠিক তখনই মুক্তিযুদ্ধের আবহে নির্মিত সিনেমা “গেরিলা” মুক্ত পায়। তবে, আমি এক কথায় “গেরিলা” –কে সিনেমা বলতে নারাজ। এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সচিত্র দলিল। সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের, যুদ্ধ ও পারিপার্শ্বিক সময়ের ভয়াবহতার এ পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠেছে সিনেমার পুরাটা জুড়ে।

বিলকিস (জয়া আহসান) এই সিনেমার মূল চরিত্র। বিলকিসের স্বামী সাংবাদিক হাসান (ফেরদৌস) ২৫ মার্চ, ৭১ এর কালোরাতে নিখোঁজ হয়। স্বাধীনতা মন্ত্রে উজ্জীবিত বিলকিস শাশুড়ির দেখাশোনা, চাকুরী, হাসানের খোজ-খবর নেয়ার পাশাপাশি ঢাকার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সাথে জড়িয়ে পড়ে। নিজস্ব সামাজিক অবস্থানের আড়ালে সে গেরিলা যুদ্ধের নানা সাংগঠনিক যোগাযোগ সহ অস্ত্র পরিবহনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে। একাজে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে তার দুধভাই তসলিম সর্দার (এটি এম শামসুজ্জামান) ও বিখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদ (আহমেদ রুবেল)। আগস্ট, ৭১ এর শেষ দিকে একটি বড় অপারেশন শেষ করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় এক সহযোগী। ফলশ্রুতিতে ঢাকা ছাড়াতে হয় বিলকিসকে। সে তার ভাই খোকনের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য তার পিতৃ ভিটা রংপুরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা রেললাইন উড়িয়ে দেয়ায় ট্রেন যাত্রা ব্যহত হয়, অগত্যা সে পায়ে হেটে এগিয়ে যেতে থাকে। পথিমধ্যে সে পাকিস্তানী সৈন্য ও দেশী রাজাকার-আলবদর কৃত কিছু নৃশংস-পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়। পথিমধ্যে দেখা হয় খোকন বাহিনীর এক তরুণ সহযোদ্ধার।

কিন্তু, তারপর??

বিলকিস কি আদৌ ফিরে যেতে পারে তার গ্রামের বাড়ীতে? পিতৃ ভিটা? দেখা হয় তার ছোট ভাই খোকনের সাথে?
না কি, তৈরি হয় ইতিহাস? আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দেখতে হলে, জানতে হলে দেখে নিন গেরিলা সিনেমাটি।

‘গেরিলা’ ৭১ এর পূর্ণাঙ্গ চিত্ররূপ। শহর ভিত্তিক ও গ্রাম ভিত্তিক তথা উভয় অংশেই যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে সম্পূর্ণরূপে। সবদৃশ্যেই রাজাকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়েছে, এরা কি মানুষ? হলে কিসের তৈরি? সিনেমায় কল্পিত চরিত্রের পাশাপাশি কিছু আলতাফ মাহমুদ, রুমি, বদি’র মত বাস্তব চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে সিনেমায়। তবে, সিনেমায় কিছু দৃশ্য এতটাই নৃশংস-ভয়াবহ, যার বর্ণনা তো দুরে থাক আমি কল্পনাও করতে চাই না। কিছু দৃশ্য শিহরিত করে তুলবে আপনাকে। যেমন – আলতাফ মাহমুদ যখন উঠে দাড়িয়ে বলেন, “আমি আলতাফ মাহমুদ!”। কিংবা দুধ ওয়ালা নড়েন, “এদেশ ছেড়ে কোথায় যাবো??”

মানুষ যখন বিপদগ্রস্ত হয়, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন মানুষ শুদ্ধ ভাষায় কথা বলেনা, ভদ্র ব্যবহার করে না। কিন্তু সমসাময়িক সিনেমায় এই বিষয়টি সম্পূর্ণরূপেই অনুপস্থিত। যুদ্ধকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব, তাদের সেই সময়ের অনুভূতি, তাদের ভাষা, সবকিছুই চলে এসেছে “গেরিলা” সিনেমায়। তাই যখন “তোদের পাক রাজাকাদের টিকটিকি দিয়া *দামু” কিংবা “মালাউনের পুত হইয়া প্রেম *দাও” শুনবেন, হয়তো আপনার ভাষা-বিষয়ক রূচিবোধ শিউরে উঠবে; কিন্তু সেটাই বাস্তব, সেটাই স্বাভাবিক। আর এখানেই পরিচালকের সার্থকতা। ‘ইহা মুসলমানের বাড়ি’ সাইনবোর্ড দেখিয়ে বাস্তবতার ধরণ বোঝানো হয়নি। বরং দুধ ওয়ালা নগেশ-এর প্যান্ট খুলে দেখা আর তাকে মোসলমানি করানোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৭১-এর ভয়াল সত্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। ঢাকা থেকে জলেশ্বর যাওয়ার পথে ময়না বেওয়াকে ট্রেন থেকে জোড় করে নামানো বা রাজাকারের কণ্ঠে, ‘এইটা কি তোমার ইন্ডিয়া পাইসো, যে শরীর চিতায়ে রাখসো’-এর মধ্যে দিয়ে পরিচালক বাস্তবতা ঢাকার কোন চেষ্টা করেননি।

‘গেরিলা’ সিনেমায় মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সমসাময়িক অন্য কোন সিনেমায় সেই বাস্তবতা আমি খুঁজে পাইনি। বর্তমান প্রজন্ম বই পড়ে না। ৭১ এর ভয়াবহ ইতিহাস কিংবা তার বাস্তবতা অনুভব তো দুরের কথা এর কথাই এরা জানে না। এগুলো জানতে হবে, জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ কে কি শুধু ইতিহাসের অংশ বলা যায়? আমার তো মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের পরিচয়ের ভিত্তি। আর একথাগুলো শুধুই অনুভবের, কাউকে বলে বোঝানো যায়।

অসাধারণ আবেগ আর পরম যত্নে তৈরি সিনেমাটি। মুক্তিযুদ্ধ যখন একটি সিনেমার বিষয়, তখন সেখানে শুধু ভালো পরিচালক, ভালো স্ক্রিপ্ট আর ভালো অভিনেতা থাকলেই হয় না। সবকিছুর আগে দরকার এই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, নিজেদের অতীত আঁকড়ে রাখার জন্য অদম্য ভালোবাসা; আর ঐ সময় আর ঐ সময়ের মানুষগুলোকে অনুভব করার ক্ষমতা।

ধন্যবাদ সবাইকে।

[review]

TankiBazzবাংলাদেশী মুভি রিভিউ2011,Guerrilla
Guerrilla (2011) একটি মুক্তিযুদ্ধের ছবি মুভি রিভিউ Guerrilla মুভি ইনফোঃ Movie Name: Guerrilla (2013) IMDb Rating: 8.2/10 Release date: April 14, 2011 (Bangladesh) Director: Nasiruddin Yousuff Budget: 30 million BDT Music composed by: Shimul Yousuff Screenplay: Nasiruddin Yousuff, Ebadur Rahman Guerrilla মুভি রিভিউঃ স্বাধীনতার পর পেড়িয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। বতর্মান প্রজন্ম এখন আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কিংবা স্বপ্ন নিয়ে ভাবে...