মৌসুমি, শাবনুর এর অভিনয় দেখতে দেখতে যখন একঘেয়ে একটা মনোভাব চলে এসেছিল, তখন বাংলা সিনেমা ইন্ড্রাষ্টিতে ধুমুকেতুর মতন আগমন ঘটে এক নায়িকার। দাদু এহতেশামের হাত ধরে ১৯৯৭ সালে মৌমাছি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এই গুণী অভিনেত্রীর। ইরাকের কুর্দিস্তানে জন্মগ্রহণকারী (জুলাই ৩,১৯৭৯) এই অভিনেত্রী অল্প বয়সেই চলে আসেন পিতৃভূমি চট্টগ্রামে। প্রথাগত বিদ্যায় উচ্চ মাধ্যমিকের বেশি পড়াশোনা ও আর করেননি। এত ক্ষণ কথা বলছিলাম গুণী অভিনেত্রী মুনমুনের কথা। এখন পর্যন্ত অভিনয় করেছেন ৮৫ টি সিনেমায়। যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য মেগা হিট, সুপার হিট চলচ্চিত্র।

aa

এই গুণী অভিনেত্রী ছিলেন প্রথা ভাঙ্গার ক্ষেত্রে অন্যতম। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম নায়িকা চরিত্রের প্রয়োজনে মাথা ন্যাড়া করেছিলেন। স্থূলাকার এই নায়িকা তথাকথিত নায়িকাদের জিরো ফিগার কনসেপ্ট কে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে উপহার দিয়েছেন টারজান কন্যা, রাজা, রানী কেন ডাকাত, আজকের সন্ত্রাসী, বিষে ভরা, নাগিন, কুমারী মা, মহিলা হোস্টেলের মত অসংখ্য জনপ্রিয় মুভি।

এই গুণী অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশে কো আর্টিষ্টদেরপ্রতি ছিলেন আন্তরিক। যার প্রমাণ মিলে তার ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার ১৩ টি মুভির কো আর্টিস্ট ছিলেন এই সময়ের কিং খান শাকিব খান। সে সময় শাকিব মুনমুন জুটি ছিল সালমান- শাবনুরের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি। এ অভিনেত্রী বাংলা চলচ্চিত্রের ধারাই পাল্টে দিয়েছিলেন। বাণিজ্যিক মুভির সাথে সফট পর্ণ চালিয়ে দেয়ার মত বিপ্লব বয়ে গিয়েছিল তখন বাংলা সিনেমা শিল্পে। পরবর্তীতে সমালোচকরা তাকে অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত ও করেছিলেন। প্রবল সমালোচনার মুখে ২০০৩ সালে এই গুণী অভিনেত্রী নিজেকে অভিনয় থেকে সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে আবার দুটি সিনেমা তে খলনায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন। রক্তে যার অভিনয় প্রতিভা বহমান তাকে কি আর সমালোচনা থামিয়ে রাখতে পারে। এই গুণী অভিনেত্রী ২০১৭ সালে দেশের ৪০ টি জেলায় যাত্রাপালায় অংশ নেন।

কথিত আছে এই গুণী অভিনেত্রীর মুভি নাকি অনেকেই লুঙ্গী পরে দেখতে যেতেন। দুর্ভাগ্য জনক হলে ও সত্যি এই গুণী অভিনেত্রী অভিনয়ের জন্য কোন পুরষ্কার বা সম্মাননা পাননি। তার পুরষ্কার শূন্যতা অনেকটা নেইমারের ব্যালন ডি আর এখনো জিততে না পারার মত।
২০০৩ সালে লাখো লুল পুরুষের হৃদয়ে ঝড় তোলা এই নায়িকা বিয়ে করেন। বর্তমানে দুই সন্তানের জননী।

সিনেমা ক্যারিয়ারে তিনিই এক মাত্র নায়িকা যাকে নিয়ে কোন স্ক্যান্ডাল ছিল না। বর্তমানে ঢাকার উত্তরাতে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করে বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। নিজের ব্যবসায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে এই গুনী অভিনেত্রীর।

লিখেছেন – Shariar Shatu‎

হারিয়ে যাওয়া একজন নায়িকা মুনমুনের এর গল্পTankiBazzমতামতMunmun,মুনমুন,হারিয়ে যাওয়া একজন নায়িকা মুনমুনের এর গল্প
মৌসুমি, শাবনুর এর অভিনয় দেখতে দেখতে যখন একঘেয়ে একটা মনোভাব চলে এসেছিল, তখন বাংলা সিনেমা ইন্ড্রাষ্টিতে ধুমুকেতুর মতন আগমন ঘটে এক নায়িকার। দাদু এহতেশামের হাত ধরে ১৯৯৭ সালে মৌমাছি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এই গুণী অভিনেত্রীর। ইরাকের কুর্দিস্তানে জন্মগ্রহণকারী (জুলাই ৩,১৯৭৯) এই অভিনেত্রী অল্প বয়সেই চলে আসেন পিতৃভূমি চট্টগ্রামে। প্রথাগত...