বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী…

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তিন পুত্রসন্তানের জননী। থাকতেন পৈতৃক ভিটা পোপাদিয়ায়। তার স্বামী ভারতে চলে যান। ১৩ মে সকালবেলা পাকিস্তানি হানাদাররা এসে চড়াও হয় তাঁর ঘরে। তাঁকে জোর করে নিয়ে যায় পাশের নির্জন ঘরে। হারান সম্ভ্রম। সন্তানের মায়ায় আত্মহনন থেকে নিবৃত্ত থাকলেও মানসিক এক অসীম কষ্ট সেই থেকে বয়ে বেড়ান। সম্ভ্রম হারানোর পর তাদের হাত থেকে পালিয়ে পুকুরে নেমে যখন আত্মরক্ষার জন্য লুকিয়েছেন, তখন হানাদাররা গানপাউডার লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় তাঁর ঘরবাড়িসহ যাবতীয় সহায়-সম্পদ। ঘরবাড়ি হীন বাকি আটটি মাস তাঁকে তিনটি শিশুসন্তান আর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে জলে-জঙ্গলে লুকিয়ে বেড়াতে হয়েছে। রাতের বেলায় পোড়া ভিটায় এসে কোনোমতে পলিথিন বা খড়কুটো নিয়ে মাথায় আচ্ছাদন দিয়ে কাটিয়েছেন। এসব ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায় তার লেখা একাত্তরের জননী গ্রন্থে।

রমা চৌধুরী

চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে ১৯৪১ সালে জন্ম নেয়া রমা চৌধুরী, যিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা নারী, ৭১ এর বীরাঙ্গনা।

লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় আজ (সোমবার) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছেন।

জানুয়ারির ১৫ তারিখ থেকে এতদিন হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন। যার তিন পুত্রের মৃত্যু এবং মাটিতে পুঁতে দেওয়ায় আর কখনো জুতো পড়ে সেই মাটিতে হাঁটেননি।
প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতা মিলিয়ে তাঁর ১৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং সেগুলো নিজেই ফেরি করে বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।

এই বীরাঙ্গনার প্রতি সশ্রদ্ধ প্রণাম ও ভালোবাসা রইলো।
না ফেরার দেশে ভাল থাকবেন।

লিখেছেনঃ তানবীর ইসলাম

TankiBazzইতিহাসবাংলাদেশ,বীরাঙ্গনা,রমা চৌধুরী,স্বাধীন
বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী... ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তিন পুত্রসন্তানের জননী। থাকতেন পৈতৃক ভিটা পোপাদিয়ায়। তার স্বামী ভারতে চলে যান। ১৩ মে সকালবেলা পাকিস্তানি হানাদাররা এসে চড়াও হয় তাঁর ঘরে। তাঁকে জোর করে নিয়ে যায় পাশের নির্জন ঘরে। হারান সম্ভ্রম। সন্তানের মায়ায় আত্মহনন থেকে নিবৃত্ত থাকলেও মানসিক এক অসীম কষ্ট...